মেইন ম্যেনু

শাহবাগ থানায় সাংবাদিককে বুট দিয়ে ঘাড়ে লাথি মারার ছবি প্রকাশ

রাজধানীর শাহবাগ থানায় বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের ক্যামেরা পারসন আবদুল আলিমকে পুলিশের পিটুনির বেশ কিছু ছবি পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, আলিমকে মাটিতে ফেলে বুট দিয়ে ঘাড়ে লাথি দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে জাতীয় কমিটির আধা বেলা হরতাল চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।

সকাল থেকেই শাহবাগ এলাকায় পুলিশের আচরণ ছিল মারমুখী। তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিতে সমর্থনকারী বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বিচারে হামলা করে তারা। বিনা উস্কানিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের পাশাপাশি গরম পানি ছোড়ে বলে অভিযোগ করছেন নেতা-কর্মীরা। এ সময় ছোড়া রাবার বুলেটে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তার আহত হন। তবে পুলিশ আবার রাবার বুলেট ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দুপুরের দিকে পুলিশের মারমুখি আচরণের শিকার হন এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন আবদুল আলিম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে দুই জনকে আটক করে থানার ভেতরে নেয়। বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের ক্যামেরাম্যান আব্দুল আলিম ওই ঘটনার ভিডিও করতে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তার ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে তাকে মারপিট করেন।

ওই ঘটনায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সাংবাদিক আলিমকে ধরে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে বসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন ছয় জন পুলিশ সদস্য। একজন পেছন থেকে আলিমের শার্ট টেনে ছিড়ে ফেলেন। তিনি তার পা দিয়ে আলিমের ঘাড়ে আঘাত করেন।

এক পর্যায়ে আলিম মাটিতে বসে পড়তে বাধ্য হন। এ সময়ও তার পেছনে লাথি চলতে থাকে। অন্য একজন তখন আলিমের মাথা ধরে রাখেন যেন তিনি নড়াচড়া করতে না পারেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই গণমাধ্যমকর্মী পুলিশকে তার পেশাগত পরিচয় জানান। এরপরও তার পিঠ ও মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত হানা হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সাংবাদিক বলার পরও পুলিশ আমাকে গেটের মধ্যে নিয়ে মারধর করে। তাদের বাধা দিতে গেলে আমাদের রিপোর্টার ইশান দিদারকে পিটিয়েছেন পুলিশ।’

এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা শাহবাগ থানায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করতে থাকেন। তারা বলেন, ব্যবস্থা নেয়ার আগ পর্যন্ত সেখান থেকে সরবেন না তারা।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, থানার ভেতরে সিসি ক্যামেরায় সব ফুটেজ ধারণ করা আছে। এই ফুটেজ দেখে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই