মেইন ম্যেনু

শরীরে আয়রন বেড়ে গেলেই লিভার ‌ড্যামেজ

শরীরের সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ভিটামিন, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি নানা উপাদানের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এসব উপাদান প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হয়ে গেলেই বিপদ, তখন নানা সমস্যা দেখা দেয়। রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য আয়রন অত্যাবশ্যক। আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে আয়রন। তবে বেশি আয়রন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এটি ফ্রি র‍্যাডিকেল তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এর ফলে লিভার ও হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শরীরে আয়রনের পরিমান বেড়ে গেলে কী হয়?

চিকিৎসকরা বলেন, শরীরে আয়রনের পরিমান বেড়ে গেলে লিভার ড্যামেজ হতে পারে। তাদের মতে, মহিলাদের পিরিয়ডের মাধ্যমে শরীর থেকে আয়রন বেড়িয়ে যায়। তাই তাদের শরীরে আয়রনের পরিমান খুব বেশি বাড়তে পারে না। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে তা হয় না। বরং ক্রমশ আয়রনের পরিমান বাড়তে পারে। তাই লিভার ড্যামেজের হার মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

তাদের মতে, ৪০ বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের লিভারের সমস্যা চোখে পড়ে। এর আগে এই রোগের তেমন কোনও লক্ষণ না থাকায়, তা নজরে আসে না।

এছাড়া শরীরে আয়রনের পরিমাণ বেড়ে গেলে রোগীদের ডায়াবেটিস, যৌনতায় অনিহা, পুরুষত্বহীনতা, হার্ট ফেলিওর, লিভার ফেলিওর হতে পারে। তাই ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকরা পরিমিত পরিমাণে আয়রন খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে একজন নারীর প্রতিদিন ১৫ মিলিগ্রাম আয়রন খাওয়া প্রয়োজন। আর পুরুষের জন্য এটি ১০ মিলিগ্রাম।

আয়রনের কিছু উৎস : আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি ভাব, মাথাব্যথা, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, অবসন্নতা, ফ্যাকাশে চামড়া, ভঙ্গুর চুল, শ্বাসকষ্ট, ঘুমের অসুবিধা ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই ঘাটতি পূরণে আয়রন খাওয়া জরুরি। গাঢ় সবুজ শাকসবজি, ডিম, ডার্ক চকলেট, সয়াবিন, মাছ (স্যামন, সার্ডিন), কলিজা, পালং শাক প্রভৃতি খাবারগুলো আয়রনের ভালো উৎস। এছাড়া কাজুবাদাম, কিশমিশ, টমাটো, মটরশুঁটি, শিমের বীচি ইত্যাদি খাবারেও আয়রন পাওয়া যায়।

সতর্কতা : আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরে চা বা কফি খাওয়া কখনই ঠিক নয়। শরীরে আয়রন যাতে ঠিকমত শুষিত হয় সেজন্য আয়রন জাতীয় খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- কমলা, স্ট্রবেরি, ব্রকলি ইত্যাদি খান। তবে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারে কারো সমস্যা হলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।






মন্তব্য চালু নেই