মেইন ম্যেনু

রুয়েটে ক্লাস বর্জন : দ্বিতীয় দিনেও চলছে অবস্থান ধর্মঘট

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাবি প্রতিনিধি : ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকাল ১০টা থেকে শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান নেয় ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

গতকাল শনিবারও একই দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এ দাবি অযৌক্তিক বলে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। তাদের উপর জোর করে এ পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতির কারণে নানাবিধ জটিলতায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ করে তারা। কোন কারণে যদি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পারে তবে তার এক বছরেরও বেশী সময় ক্ষতি হচ্ছে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতাতেও পড়তে হচ্ছে ওই শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও ক্লাস-ল্যাবের সঙ্কট থাকার কারণে তারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারে না এবং তাদেরকে অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হচ্ছে। এমনকি ২০১৫ সালের আগস্টেও এরুপ আন্দোলন হয়েছিলো তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ক্লাস করতে বাধ্য করে।

প্রশাসন কোনো পদ্ধতি প্রণয়ন করলে সেটা শিক্ষার্থীদের জন্য যেনো কল্যাণকর ও ছাত্রবান্ধব হয় সেসব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

তবে রুয়েট উপাচার্য শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, অকৃতকার্য হয়ে কি কখনো ওপরের ক্লাসে ওঠা যায়? আমরা তবুও দুই-তিনটি বিষয়ে ফেল করলেও পরের বর্ষে উঠার ব্যবস্থা রেখেছি। ওরা সব বিষয়েও ফেল করে পরবর্তী বর্ষে উঠার দাবি করছে। তারা সবাই মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের উচিত আরো ৪০ ক্রেডিট পদ্ধতিতে পাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। এখানে পাস করার জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে তারা সে সুযোগ নষ্ট করছে এবং অহেতুক আন্দোলন করছে। আমাদের শিক্ষাপদ্ধতি অত্যাধুনিক ও ছাত্রবান্ধব।

তিনি আরও বলেন, শনিবার বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা এন এইচ এম কামরুজ্জামান সরকার দাবি করে বলেন, ‘আজ (রবিবার) ১৫ সিরিজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে জোর করেই আন্দোলন চালাচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ নিয়মেই ক্লাস করতে আগ্রহী।’

রুয়েট সূত্রে জানা যায়, পরবর্তী বর্ষে ওঠার জন্য দুই সেমিস্টারে ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট পাওয়া বাধ্যতামূলক। এটি অর্জন করতে না পারলে তাকে পরবর্তী বর্ষে উঠতে দেয়া হয় না। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম চালু করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই