মেইন ম্যেনু

রুয়েটে আন্দোলন অব্যাহত, শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাবি প্রতিনিধি : ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে তৃতীয় দিনেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট)। তবে এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে সেলিম হলের সামনে শিক্ষকরা আনসারদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করে বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রুয়েট সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে একই দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলে। এসময় শিক্ষকদের কথা অগ্রাহ্য করে তারা আন্দোলনে নামতে চাইলে শিক্ষকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরা বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে। শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীরা এ আন্দোলনে যোগ দিতে আসলে তাদের ফিরিয়ে দিতে ১২-১৪ জন শিক্ষক হলের ভিতরে প্রবেশ করেন। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হলের গেটে অবস্থান নিলে শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

শেখ হাসিনা হলের ১৪ সিরিজের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে শিক্ষকরা আমাদের ক্লাসে যাওয়ার জন্য মাইক দিয়ে আহ্বান জানায়। কিন্ত আমরা ক্লাসে যেতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের হুমকি দেয়। এসময় ভিসি স্যার আমাদের হুমকি দিয়ে বলেন, তোমাদের সামনে দুইটা অপশন, হয় তোমরা ক্লাসে যাবা নয়তো তোমাদের অনির্দিষ্টকালীন ছুটি দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ আমরা শেখ হাসিনা হলের সামনে অবস্থান নিয়েছি। সেলিম হলের সামনে সকালে শিক্ষকরা আনসারদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের গায়ে হাত তুলেছে শিক্ষকরা । যারা আন্দোলন করছে তাদেরকে হুমকি দিয়েছে। কিন্তু আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে তাদের ওপর হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেখ হাসিনা হলের এক আবাসিক ছাত্রী বলেন,‘আমাদের বন্ধুরা মিছিল নিয়ে আমাদের হলের দিকে আসছিলো, কারণ আমাদের হল থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছিলো না। পরে আমরা আমাদের হল থেকে বের হয়ে মিছিলে যাই। আমরা সেলিম হলের মোড়ে পৌছা মাত্রই, বিপরীত দিক থেকে শিক্ষকরা আমাদের চিহ্নিত করার জন্য আমাদের ছবি ও ভিডিও করতে থাকে। আমাদেরকে বহিষ্কার করার হুমকিও দেন তারা। এসময় শিক্ষকরা আমাদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। আর মেয়েদেরকে জোর করে হলে ঢুকিয়েছে। আমাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বলেছে, যদি কেউ হল থেকে বাইরে যাও তবে তার আবাসিকতা বাতিল করা হবে। এমনকি আমাদের বাবা-মার কাছে চিঠি পাঠিয়ে ডাকা হবে বলেও জানান তারা। আমরা যেনো বের হতে না পারি সেজন্য গেটে তালাবদ্ধ করে রাখেন তারা।’

এ বিষয়ে রুয়েটের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জালালউদ্দিনের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন করছে। তবে তাদের মারধোরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর কাধে হাত রেখে বলে ক্লাসে যাও, আর সেটাকে যদি মারা বলা হয় তা দুঃখজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে এখনো তা পরিষ্কার নয়। এটা প্রশাসনিক বিষয়। এ নিয়ে প্রশাসনে এখানো আলোচনা চলছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে পরে সেটা জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।






মন্তব্য চালু নেই