মেইন ম্যেনু

রীতিমতো ধোঁকা দিয়েছেন ড. ইউনূস : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গরিবদের কথা বলে গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামীণফোনের লাইসেন্স নেয়। কথা ছিল এর লভাংশ গ্রামীণ ব্যাংকে যাবে। কিন্তু কোনো লভ্যাংশ যায়নি। আমি বলব, এটা একটা চিটিং ছাড়া আর কিছুই না। রীতিমতো ধোঁকা দেয়া হয়েছে। এখন ওটা উনার (ড. ইউনূস) নিজস্ব সম্পত্তি।’

বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির এমপি একে এম মাইদুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এ সময় গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস নিয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণফোন সম্পর্কে বলেন, এর ৩০ ভাগ মালিকানা তার হাতে আছে। বাকিটা বেচে দিয়েছেন। শুনেছি কাউকে কাউকে কোন কোন ফাউন্ডেশনে বহু টাকা-পয়সা দিয়েছেন। এ রকম বহু কথা শোনা যায়।

তিনি আরও বলেন, ’৯৬ সালে যখন সরকারে আসি তিনি (ড. ইউনূস) প্রায়ই আমার অফিসে আসতেন। আমাকে বলতেন তাকে যেন একটি টেলিফোনের লাইসেন্স দেয়া হয়। অর্থাৎ গ্রামীণফোনের লাইসেন্স দিলে এই কোম্পানির যে লভ্যাংশ আসবে তা গ্রামীণ ব্যাংকে যাবে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের এই টাকা সাধারণ মানুষ পাবে। তারা ঋণ সুবিধা পাবে। তাহলে গ্রামীণ ব্যাংকটা দাঁড়াবে। আমি উনার কথা বিশ্বাস করলাম।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন আগে একটা মাত্র ব্যক্তির ছিল, যিনি বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি একাই ব্যবসা করতেন। আমরা চাইলাম মোবাইল ফোন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাক। বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করে দিলাম। সেখানে গ্রামীণফোন টেন্ডারে তৃতীয় স্থানে ছিল। তার লাইসেন্স পাওয়ার কথা নয়। তবুও আমরা তাকে লাইসেন্স দিলাম ব্যবসা করার জন্য। তবে অত্যন্ত দুঃখের কথা গ্রামীণফোনে বাংলাদেশ অংশে যে শেয়ার থাকার কথা তার অধিকাংশ শেয়ার উনি বিক্রি করে দিয়ে এখন ওটাকে উনার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পত্তি করে নিয়েছেন। এখন আর একটা ব্যবসা শুরু করেছেন। উনাদের প্রচুর টাকা। এই টাকাটা গরিব-দুঃখী মানুষের, যেটির কথা মাননীয় সংসদ সদস্য বললেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে সুদের হার অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। তিনি ওই ব্যাংকের এমডি ছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত এমডি থাকতে পারবেন। কিন্তু এমডি সাহেব যখন ৭০ বছর পার করে ফেলেছেন তখনও তিনি এমডি। আইন অনুযায়ী এমডি থাকতে পারেন না। তিনি সে কথা না মেনে আদালতে চলে গেলেন।

সরকারের বিরুদ্ধে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করলেন। দুটি মামলায় তিনি হেরে গেলেন কারণ আইন তার পক্ষে ছিল না। আইন অনুযায়ী ব্যাংক চলবে। গ্রামীণ ব্যাংক একটি আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। কাজেই সে আইনে তার এমডি পদ হারালেন।

কিন্তু এই হারাতে দোষারোপ সব পড়ল আমার ওপর। এখানে আমার কিছুই করার ছিল না। আমার উপর দোষ দিল। সারা বিশ্বব্যাপী তার লবিস্ট আছে, টাকা পয়সা আছে। তার অনুরোধে হিলারী ক্লিনটন আমাকে ফোন দিলেন। এমডি পদ থেকে তাকে কেন বাদ দেয়া হল। আমি বললাম বাদ তো আমি দিচ্ছি না। উনি মামলা করেছেন। মামলায় হেরে গেছেন। আমাদের কিছু করার নাই। আইনে আছে ৬০ বছরের পর এমডি থাকতে পারবেন না। উনি ৭০ বছর পর্যন্ত থেকে গেছেন সেটিও আইন ভঙ্গ, বরং আদালত যে উনার কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বছরের বেতন ভাতা উনি যা যা খরচ করেছেন তা ফেরত চায়নি এটিই তো বড় কথা। ওইটুকু খাতির তো করেছে। এই ঘটনায় উনি সারা বিশ্বব্যাপী আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রচারও চালালেন।

এটির প্রভাব পদ্মা সেতুর উপর গিয়ে পড়লো। পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রকল্প যখন নিলাম, বিশ্ব্যব্যাংক নিজেরাই তখন আগ্রহ নিয়ে আসলো। দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের কথা বলে আমার ছেলে-মেয়ে, বোন, বোনের ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা প্রত্যেকের উপর জুলুম অত্যাচার করা হয়েছে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে । কেউ কোন রকম দুর্নীতি করেছে কি না। কিছুই বের করতে পারলো না। সেই জোরটা মনের ভেতরে ছিল বলেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম বলেই বলেছিলাম বিশ্বব্যাংকের টাকা নিয়ে পদ্মা সেতু করব না।






মন্তব্য চালু নেই