মেইন ম্যেনু

রাস্তায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায় নায়িকার বাবাকে! তারপর…

মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দুঃস্থদের কম্বল বিলি করছিলেন স্বল্পখ্যাত অভিনেত্রী মিঙ্ক ব্রার। আনমনে চোখ পড়ল এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির উপরে। পরনে একটিমাত্র ধূলিধূসরিত জামা। ওতেই লজ্জা নিবারণ। আর কিছু নেই। ওইভাবেই উদ্দেশ্যহীন ভাবে হেঁটে চলেছেন তিনি।

কিছুক্ষণ পরে যেন বিদ্যুৎ চমক। ওটা বিখ্যাত ফোটোগ্রাফার জগদীশ মালি না ! যাঁর হাতে ছবি তোলানোর জন্য হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতেন এবং থাকেন তাবড় তারকারা।

দৌড়ে গেলেন মিঙ্ক। কাছে গিয়ে বুঝলেন তাঁর অনুমান নির্ভুল। তিনি জগদীশকে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু তিনি অসংলগ্ন আচরণে অনড়।

শেষে মিঙ্ক বাধ্য হয়ে ফোন করলেন সলমন খানকে। তাঁর এনজিও-র চেষ্টায় জগদীশকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।

এভাবেই উদ্ধার করা হয়েছিল বিখ্যাত ফোটোগ্রাফার জগদীশ মালিকে। বিখ্যাত ফোটোগ্রাফার ছাড়াও তাঁর আর এক পরিচয় হল অভিনেত্রী অন্তরা মালির বাবা।

সত্তর‚ আশি এবং নব্বইয়ের দশক। তিরিশ বছর লেন্সের পিছনে বলিউড শাসন করেছেন জগদীশ। রেখা‚ অমিতাভ বচ্চন‚ আমির খান‚ শাবানা আজমি‚ ডিম্পল কাপাডিয়া‚ ইরফান খান‚ মাধুরী দীক্ষিত‚ নীনা গুপ্তা‚ মনোজ বাজপেয়ী…কে না জগদীশের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছেন !

সিনে ব্লিটজ পত্রিকার একসময়কার তারকা আলোকচিত্রী জগদীশ নিজেও কম বিখ্যাত ছিলেন না। অথচ তাঁর কিনা এই পরিণতি ! অভিযোগের তির উঠেছিল মেয়ে অন্তরা মালির বিরুদ্ধে।

কিন্তু তিনি অস্বীকার করেছিলেন। বলেছিলেন তাঁর বাবা ইনসুলিন নিতেন। ডায়াবেটিক ছিলেন। কিন্তু এছাড়া আর কোনও অসুবিধে ছিল না। বাড়ি ছেড়ে অসংলগ্ন ভাবে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর কথাও স্বীকার করেননি অন্তরা।

ঘনিষ্ঠ জনরা বলে থাকেন‚ জগদীশ মালি ছিলেন দিলদরিয়া মেজাজের। সেইসঙ্গে ছিল মদ্যপানের আসক্তি। অর্থাভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছয়‚ বেচে দিতে হয় নিজের স্টুডিয়ো।

সুরাপান না ছাড়তে পারায় ভুগতে থাকেন যকৃতের পচন-সহ অন্যান্য রোগে। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে আন্ধেরির পথে পাওয়া গেছিল তাঁকে। সে বছরেই মে মাসে তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। হিপ জয়েন্টে ফ্র্যাকচারের কারণে। কিন্তু জগদীশের আর বাড়িতে আর ফেরা হয়নি। মাল্টি অর্গান ফেলিয়োর হয়ে প্রয়াত হয়েছিলেন হাসপাতালেই।

তাঁর হাতের ক্যামেরার লেন্স অ্যাঙ্গেল ধরে রেখেছিল তারকাদের কত মুহূর্ত। অথচ শেষ মুহূর্তে জগদীশ মালির পাশে বলিউড ইন্ডাস্ট্রি কার্যত ছিলই না। সবার অগোচরে বিদায় নেন এই ছবির যাদুকর। মাত্র ৫৯ বছর বয়সে।






মন্তব্য চালু নেই