মেইন ম্যেনু

রাতে ছাত্রদল নেতাকে হাতকড়া, সকালে গুলিবিদ্ধ লাশ

গতকাল রাতে পুলিশ পরিচয়ে চট্টগ্রাম নগরীর বাসা থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম নূরুকে ধরে নিয়ে যায় একদল লোক। বৃহস্পতিবার সকালে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান এলাকায় কর্ণফুলীর নদীর পাশে পাওয়া গেছে তাঁর মাথায় গুলিবিদ্ধ লাশ।

লাশ উদ্ধারের সময় নূরুর দুই হাত কমলা রঙের মোটা নাইলনের রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। পরনে শার্ট ছিল না। সেটি দিয়ে দুই চোখ ছিল বাঁধা। লাশ ছিল উপুড় করা। শরীরে জামা ছিল না। লুঙ্গি পরা থাকলেও পশ্চাৎদেশ ছিল উন্মুক্ত। পশ্চাৎদেশ ও হাতের বিশাল অংশে ছিল কালচে দাগ।

নিহত নূরু চার মাসের একটি কন্যা সন্তান, দুই ছেলেসহ পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা মিনহাজ মঞ্জিলের বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ায়।

আজ দুপুর ১২টার দিকে চন্দনপুরা মিনহাজ মঞ্জিলের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীদের ভিড়। শিশু সন্তানরা ছিল নিশ্চুপ।

কাঁদতে কাঁদতে ঘটনার বর্ণনা দেন প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত নূরুর ভাগ্নে মো. রাশেদ। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার পর দরজা নক করছে। আমি তিন চারবার জিজ্ঞাসা করছি, বলে নাই। মনে করছি, বাড়িওয়ালার ছেলে চাবি নিতে আসছে। খুলছি। ধাক্কায় ঢুকে গেছে। আমারে বলতেছে, মোবাইল কই তোর? আমার মোবাইল এখানে। আমারে চেক করতেছে। দুজন ভেতরে ঢুকছে। সঙ্গে সঙ্গে (নুরুল আলম নূরু) হাতকড়া পরাই ফেলছে। আমারে বলতেছে এখানে বসে থাক। তারপর শার্ট পরাই নিয়ে চলে গেছে।’

আর কিছু বলেছে কি না জানতে চাইলে রাশেদ বলেন, ‘আর কিছু বলে নাই। বলছে, চলেন। হাতকড়া পরাই ফেলছে শোয়া অবস্থায়। লুঙ্গি পরা ছিল। এরপর শার্ট পরাইছে। রুম থেকে নিয়ে চলে গেছে।’

ওই লোকরা তিনটি মুঠোফোন নিয়ে যায় জানিয়ে রাশেদ অভিযোগ করেন, ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় সাত-আটজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে তিনজন ছিলেন পুলিশের পোশাক পরা। এর মধ্যে একজনের নেমপ্লেটে জাবেদ লেখা ছিল। ইউনিফর্মে ছিল এসআই র‍্যাংক। তারা নূরুকে সাদা রঙের একটি হাইয়েস গাড়িতে করে নিয়ে যায়। গাড়ির নম্বর চট্ট মেট্টো চ -১১-৭৭ লেখাটি তাঁরা দেখতে পেয়েছেন।

মিনহাজ মঞ্জিলের বাড়ির আঙিনায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আহসান বলেন, ‘আমরা রাত ১২টার মধ্যে জানতে পারলাম যে জেলা পুলিশ থেকে একটা দল এসে ওনাকে (নূরুল আলম নূরু) বাসা থেকে নিয়ে গেছে। এখান থেকেই সঙ্গে সঙ্গে চোখ বেঁধে এবং হ্যান্ডকাপ পরিয়ে একটা গাড়িতে নিয়ে গেছে। গাড়ির নম্বর আমাদের কাছে আছে। এরপর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করলাম। রাউজান প্রশাসন বলল, ওরা জানে না। ডিবিও বলে, তারা জানে না। তাদের কেউ সেখানে যায়নি। আমরা আরো ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনকে জানালাম। তারা জানার পরও আমরা বাস্তব সত্যটা জানি না। আজকে ভোর বেলায় কিছু গুজবের মতো মনে করেছিলাম, একটা লাশ বাগোয়ান খেয়াঘাট এলাকায় পাওয়া গেছে। আমরা তখন আমাদের ছাত্রদল, যুবদল এবং জনসাধারণ থেকে সর্বশেষ ১০টায় কনফার্ম হই লাশটি নূরুল আলম নূরু, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর জেলার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের।’

আবদুল্লাহ আল আহসান অভিযোগ করেন, বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরপর নূরুকে নির্যাতন করে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনটা গুলি ওনার মাথায় আছে, চোখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এদিকে পুলিশ পরিচয়ে ছাত্রদল নেতাকে ধরে নিয়ে হত্যা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ জানান, তাঁরা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তবে জাবেদ নামে পুলিশ সদস্য আছেন। ঘটনার সঙ্গে তিনি ছিলেন কি না সে ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন তাঁরা।

বিএনপির বিক্ষোভ রোববার : ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল আলম নূরুকে ধরে নিয়ে হত্যার প্রতিবাদে আগামী রোববার চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে নগর বিএনপি।

বিকেলে নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল এ সমাবেশের আয়োজন করে।

নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, উত্তর জেলা বিএনপির নেতা নাজিম উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বক্তব্য দেন। শুক্রবার জানাজা শেষে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজ।

নূরুল ইসলাম নূরু চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। খুন হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জাতীয়তাবাদী হেল্প সেলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। যেই সেলের কাজ হচ্ছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নির্যাতিত নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে সহায়তা করা।






মন্তব্য চালু নেই