মেইন ম্যেনু

রাজনৈতিক নেতাদের দুর্বৃত্তায়ন বেড়েছে

রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দুর্বৃত্তায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যানে পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ও নির্বাচিত প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপনের জন্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তোফায়েল বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতা, অনিয়ম, জালভোট, কেন্দ্র দখলের অন্যতম কারণ, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দুর্বৃত্তায়ন বৃদ্ধি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে নেতা হওয়ার প্রবণতা। এ কারণেই মূলত নির্বাচনে সহিসংতা বাড়ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার উপস্থান করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৪২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থী ১৩৩ জন। এছাড়া অতীতে মামলা ছিল ৭৬২ জনের বিরুদ্ধে, এর মধ্যে নির্বাচিত ২০৫ জন এবং উভয় সময়ে মামলা রয়েছে ২৯৫ জনের। এর মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থী রয়েছেন ৭২ জন। বর্তমানে ৩০২ ধারায় মামলা রয়েছে ৮৯ জনের বিরুদ্ধে, এর মধ্যে নির্বাচিত রয়েছেন ২৫ জন। অতীতে ৩০২ ধারায় মামলা ছিল ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে, এর মধ্যে নির্বাচিত রয়েছেন ৪৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে অংশ নেয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৪১১ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসরি নিচে। এর মধ্যে নির্বাচিত রয়েছেন ৫৯ জন। এছাড়া নির্বাচিতদের মধ্যে এসএসসি পাশ ৬০ জন, এইচএসসি পাশ ৭৫ জন, স্নাতক পাস ১৬৫ জন, স্নাতকোত্তর পাস ১০০ জন। এছাড়া ৬ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা প্রার্থীদের দেয়া তথ্যে উল্লেখ নেই।

দিলীপ আরও বলেন, ভোটাররা উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থীদের অধিক হারের নির্বাচিত করেছেন এবং স্বল্প শিক্ষিতদের কিছুটা হলেও বর্জন করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি কারণে নির্বাচনে বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো হলো, দলভিত্তিক নির্বাচন, মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগে অনীহা, স্ট্যাগার্ড (একাধিক দিন) নির্বাচন ও সঙ্গে সঙ্গে ফল প্রকাশ, ক্ষমতাসীনদের যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে জয় লাভের মরিয়া, দলীয় অনুগত রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারা।

সুজনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এরমধ্যে অন্যতম হলো, স্থানীয় নির্বাচনকে দলভিত্তিক না করা, নির্বাচন কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডযুক্ত’ করা, নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে যোগ্য, নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আমলাতান্ত্রিক খবরদারি থেকে মুক্ত করতে স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন করা।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘প্রথম দু ধাপের নির্বাচন কিছুটা শান্তিপূর্ণ হলেও পরবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম কারচুপি, জালভোট কেন্দ্র দখল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, ৬ষ্ঠ ধাপের নির্বাচন কিছুটা শান্তিপূর্ণ হবে। কিন্তু না, শেষ ধাপেও ব্যাপক অনিয়ম, জোরপূর্বক ভোটদান কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটে।’

সুজনের সম্পাদক আরও বলেন, ‘এতো কিছু হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশন এর দায় নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। কমিশনের ভূমিকায় আমরা ক্ষুব্ধ, নিরাশ হয়েছি। নির্বাচন কমিশনের হাতে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি।

‘সময় হলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশন্যাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) মুখোশ উন্মোচন করা হবে’ দুদক কমিশনারের এমন হুমকির কঠোর সমালোচনা করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘বিধিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে দুদক কমিশনার (মো. সাহাবুদ্দিন চপ্পু) কাউকে হুমকি দিতে পারেন না। এমন বক্তব্য মেনে নেয়া যায় না, এটি অগ্রহণযোগ্য।’






মন্তব্য চালু নেই