মেইন ম্যেনু

যশোরে যৌতুকবিহীন গণবিয়ে নতুন জীবনে পা

যশোরের ঝিকরগাছায় কুয়েত ইসলামিক ইয়াতিম কমপ্লেক্স গতকাল রবিবার ২০ জোড়া পাত্র-পাত্রীর যৌতুকবিহীন বিয়ে হয়েছে। এ গণবিয়ের আয়োজন করে কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি (কেজেআরসি)। আর্থিক সহযোগিতা দেয় শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল।

অনুষ্ঠানে ‘বিয়ের সাজনী সাজো কন্যা গো’- এমদাদুল তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে এ গীত গেয়েছেন। আর এই গীত শুনে আনন্দে আত্মহারা হন বর-কনেরা। বরদের পরনে ছিল সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি, গলায় জরির মালা, মাথায় পাগড়ি আর মুখে রুমাল। কনেদের পরনে ছিল বোরকা, লাল টুকটুকে ওড়না। বিয়ের পর বররা লেপ-তোষক, স্নো-পাউডার, সেলাই মেশিন প্রভৃতি উপহার সামগ্রীসহ ভ্যান চালিয়ে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। ভ্যানগুলোও তাঁরা বিয়ের উপহার হিসেবে পেয়েছেন। এই বররা সবাই গরিব। কনেরা হতদরিদ্র।

বিয়ের অনুষ্ঠান ঘুরে পাত্র-পাত্রী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যৌতুক ছাড়া এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। ঝিকরগাছার মাটি কুমড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে পাত্র মনিরুজ্জামান বলেন, ‘টাকার অভাবে আমি বিয়ে করতে পারছিলাম না। এই অবস্থায় এরা বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছে। তাতে আমরা খুব খুশি।’ সদর উপজেলার ছোট শেখহাটি গ্রামের পাত্র জামাল শেখ বলেন, ‘এমন আয়োজনে সবার সঙ্গে যৌতুকবিহীন বিয়ে করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’

সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের পাত্রী ইরানী খাতুন বলেন, ‘যৌতুক এবং বিয়ের খরচ জোগানোর সামর্থ্য না থাকায় আমার বিয়ে দিতে পারছিলেন না মা-বাবা। এখন এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যৌতুক এবং কোনো খরচ ছাড়াই বিয়ে হলো। তাতে আমাদের পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে।’

গাজীর দরগাহ কুয়েত ইসলামিক ইয়াতিম কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসিরুল্লাহ জানান, এ নিয়ে তাঁরা ষষ্ঠবারের মতো যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁরা ২৬০ জনের বিয়ে দিয়েছেন। শুধু বিয়ে নয়, নবদম্পতির উপার্জনের ব্যবস্থাও তাঁরা করে থাকেন। তাঁরা বিয়ের সময় বরের জন্য একটি ভ্যান ও কনের জন্য একটি সেলাই মেশিন দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া তাঁদের শাড়ি-কাপড়সহ দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্রও দেওয়া হয়। বিয়ের পরেও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁদের খোঁজ-খবর রাখা হয়।

গতকাল গণবিয়েতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনালের প্রজেক্ট অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিরেক্টর শায়েখ মোহাম্মদ হামদান আল জারী, প্রজেক্ট বিভাগীয় প্রধান শায়েখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান আহমেদ সাআব আল আলী, ডোনার শায়েখ ইউসুফ মোহাম্মদ কাশিম মোহাম্মদ আল আলী, শায়েখ শেখ মোহাম্মদ কাশিম মোহাম্মদ আল আলী, কেজেআরসি বাংলাদেশ অফিসের বিশেষ প্রতিনিধি মাওলানা নুরুল ইসলাম ও ইয়াতিম বিভাগের কর্মকর্তা ফয়সল আহমেদ।






মন্তব্য চালু নেই