মেইন ম্যেনু

যশোরের সংবাদ (৩০/০৫/১৪)

আবিদুর রেজা খান, যশোর অফিস:
## যশোরে পুলিশের গুলিতে মাদক ব্যবসায়ী নিহত ; স্যুটারগান, গুলি, গাঁজা বোমার স্পি­ন্টার উদ্ধার
যশোর অফিস: যশোরে কথিত পুলিশের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে আবু তাহের নামে এক মাদক ব্যবসায়ী মারা গেছে। সে যশোর শহরতলী ঝুমঝুমপুর নিরিবিলি পাড়ার মৃত সোনাউল্লাহর ছেলে।
‘পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালানোর পর পাল্টা গুলিতে তাহের আহত হয়েছে’ এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে তার পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী বলেছেন, পুলিশ তাহেরকে একটি চায়ের দোকান থেকে ধরে নিয়ে ময়লাখানার মধ্যে ঠান্ডা মাথায় গুলি করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান স্যুটারগান, এক রাউন্ড গুলি, দু’কেজি গাঁজা এবং বিস্ফোরিত বোমার স্পি­ন্টার উদ্ধার করেছে বলে দাবি পুলিশের।এ দিকে এলাকাবাসির দাবি, তাহের মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী এটা সত্য। কিন্তু গুলি করে হত্যা করার মতো অপরাধ সে করেনি। যশোরে অনেক কুখ্যাত ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গুলি তো দুরে থাক আটক পর্যন্ত করছে না। তাহেরকে গুলি করার পেছনে অন্য কোন কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে। সহকারি পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ তাহেরকে ধরতে ঝুমঝুমপুর ময়লাখানার পাশে অভিযান চালায়। এসআই শোয়েব উদ্দিন আহমেদ ও এসআই জামাল উদ্দিন অভিযানে নের্তৃত্ব দেন। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মাদক ব্যবসায়ী আবু তাহের ২/৩টি বোমা ছুড়ে মারে। পুলিশও পাল্টা ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তাহেরের ডান পায়ে লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৪ টার দিকে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার অবস্থার অবনতি হয়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তাহের মারা যায়। রেশমা শারমিন আরো জানিয়েছেন, আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা আছে। এর মধ্যে একটি হত্যা, বাকিগুলো মাদক আইনের। সবগুলো মামলার সে চার্জশিটভুক্ত আসামি। সে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।নিহত আবু তাহেরের ভগ্নিপতি আব্বাস আলী জানিয়েছেন, আবু তাহের মূলত মাদক সেবন করতো। একই সাথে সে গাঁজা বিক্রি করতো। তাহেরের স্ত্রী পারভীনা, ভাবি আলেয়া, ভাগ্নে রাজু ও আরেক আত্মীয় শাহীন গাঁজা বিক্রির অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়ে ইতোমধ্যে জেল হাজতে রয়েছে। গত ১৮ মে তারা আটক হয়।তিনি আরো বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাহের ময়লাখানার সামনে বরকতের চায়ের দোকানে বসে রুটি খাচ্ছিল। সে সময় একটি মাইক্রোবাস এসে দোকানের সামনে দাড়ায়। পরে তাহেরকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ময়লাখানার প্রহরী বাসুদেবের কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়ে শহরের দিকে চলে যায়। সকালে জানতে পারি তাহের পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। তার মেয়ে পপি, জলি ও পলি মরদেহ সনাক্ত করে। নিহত তাহেরের বোন জরিনা বলেছেন, তার ভাই মাদক সেবন ও গাঁজা বিক্রি করতো এটা সত্য। কিন্তু পুলিশ দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আরএন রোডের একজন চোরাকারবারি এই হত্যার পেছনে ইন্ধন দিয়েছে।
এলাকাবসি দাবি করেছে, যশোর শহরে যারা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রয়েছে। এদের তালিকা পুলিশের কাছে আছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পলিশ তাদের গুলিতো দুরে থাক তাদের আটক করছে না। কোন কোন পুলিশ কর্মকর্তার ইন্দনে মাদক ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছে। পুলিশের এই রকমের আচারণ এলাকাবাসিকে হতবাক করেছে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

## যশোরে তিন সন্ত্রাসী বিরুদ্ধে থানায় মামলা
যশোর অফিস: যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ভুট্টো ওরফে বেড়ে ভুট্টোর বাড়ি থেকে বোমা ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে মোট তিনজনকে। ভুট্টে ছাড়াও এই মামলার অপর আসামি হলো শহরের খড়কী এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আক্তারুজ্জামান ডিকু ও খড়কী হাজামপাড়ার আব্বাস ড্রাইভারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। বুধাবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভুট্টোর কারবালাস্থ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১২টি তাজা বোমা ও ১শ’ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। অভিযানে সংবাদ আগেই বুঝতে পেরে আসামিরা পালিয়ে যায়। কোতোয়ালি থানার এসআই শোয়েব উদ্দিন আহমেদ মামলা দু’টি করেছেন।

## যশোরে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
যশোর অফিস: যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও চাচড়া চাঁচড়া ফাঁড়ির পুলিশ পৃথক অভিযান চালায়। এ সময় গাজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক করেছে। আটককৃতরা হচ্ছে যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড বেলতলা এলাকার সোহরাব হোসেনের ছেলে সোহাগও যশোরের শার্শা উপজেলা বোয়ালিয়া মানকে গ্রামের মৃত মুজিবরের পুত্র জিয়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে যশোর কোতয়ালি থানার এসআই সোমেন দাস যশোর শহরের জেলরোড এলাকার কুইন্স হাসপাতালের পাশে অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীর সোহাগকে আটক করে। তার কাছ থেকে ৫০ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে । অপরদিকে চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জামাল উদ্দিন শহরের চাঁচড়া এলাকার মাগুর পট্টির’ ইসমাইলের চায়ের দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় জিয়াকে আটক করে। তার কাছ থেকে এক কেঁজি গাঁজা উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে যশোর কোতয়ালি থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।

## যশোরে বিপুল পরিমান ফেনসিডিল উদ্ধার
যশোর অফিস: যশোর বেনাপোল সড়কের নতুনহাট এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবির সদস্যরা। এ সময় দুই হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিজিবি ২৬ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যশোর-বেনাপোল রোডের নতুন হাট এলাকায় একটি প্রাইভেটকার যার নাং (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৮৬৯১) তল্লাশী চালায়। এ সময় দুই হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতিটের পেয়ে প্রাইভেট কারের চালক ও আরোহীরা পালিয়ে যায়। এ ব্যপারে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই