মেইন ম্যেনু

মৌলভীবাজারের জঙ্গি আস্তানায় থাকতে পারেন মেজর জিয়া!

বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন মৌলভীবাজারের জঙ্গি আস্তানায় সংগঠনের শীর্ষ কোন নেতা থাকতে পারে। তার এই বক্তব্যের পর মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে কি নব্য জেএমবির নেতা মেজর জিয়া রয়েছে এই জঙ্গি আস্তানায়! তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। বারবার ঘুরে ফিরে আসছে তাহলে কি গুলশান ও শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নব্য জেএমবির মাস্টারমাইন্ড অন্যতম নেতা সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া রয়েছে এই জঙ্গি ঘাটিতেই! আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাদেরও ধারণা এই আস্তানাতেই থাকতে পারেন মেজর জিয়ার মতো শীর্ষ কোনো জঙ্গি নেতা।

বড়হাট এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন মৌলভীবাজারের আস্তানায় শীর্ষ স্থানীয় কোনো নেতা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাহলে নব্য জেএমবির মেজর জিয়াই হতে পারেন এই অপারেশনের বড় কোন জঙ্গি নেতা। যাকে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী হন্যে হয়ে খুঁজছে।

তারা আরো বলেন, একে একে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতারা নিহত হলেও বাকি এখন মেজর জিয়া। তাই এখন সবার দৃষ্টি এখানেই থাকতে পারে জিয়া। আর যদি তাই হয় তা হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরেকটি বড় ধরনের সফল অভিযান। আর তার মধ্য দিয়েই সংকোচিত হতে পারে পারে নব্য জেএমবির মূল স্রোতধারা। এমনটিই ধারণা করছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সূত্রেও জানা যায়, এখানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংঘঠনের বড় মাপের কোন নেতা থাকতে পারে। সেই সূত্র ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাছাড়া এখানে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক পদার্থ থাকায় সবকিছু মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতার কারণে ফতেপুর এলাকার নাসিরপুর জঙ্গি আস্তানা সোয়াতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বুধবারের অভিযান সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখে বড় হাটের আস্তানার বাড়িটিরসহ পুরো এলাকা কটন করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রাত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই ওই এলাকা একেবারেই নিস্তব্ধ নিরবতা বিরাজ করছে মৌলভীবাজারে। বলা যায় কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে এখন মৌলভীবাজার। ভোরের আলো ঝলকের সাথে সাথেই শুরু হবে আবার ‘অপারেশন হিটব্যাক’। এজন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে সোয়াত টিমের সব সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর পাঁচদিনের জঙ্গিবিরোধী অভিযান শেষ হতে না হতেই মৌলভীবাজারে দুটি আস্তানার সন্ধান পায় গোয়েন্দারা। তারপরই মঙ্গলবার রাত থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাটের একটি বাড়ি এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকায় অবস্থিত অপর বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার সকাল থেকে সরকার বাজারের বাড়ি থেকে একের পর এক গ্রেনেড ছুঁড়ে মারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল অপারেশনের জন্য অপেক্ষায় থাকে সোয়াত টিমের জন্য। বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে অভিযান শুরু করে সোয়াট। তারপর সোয়া ৭ টার দিকে আস্তানার ভিতর থেকে আর কোন সাড়া না পাওয়ায় অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এখন ভোরের আলোর অপেক্ষায় বড়হাটের আস্তানাসহ পুরো এলাকায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।






মন্তব্য চালু নেই