মেইন ম্যেনু

মোহভঙ্গ হতেই মমতাকে নিয়ে সুর পাল্টালেন মোদি

ব্রিগেডের সভায় মমতার প্রশংসা করে ‘দুই হাতে দুই লাড্ডু’র কাহিনি শুনিয়েছিলেন মোদি। পরে শিলিগুড়ির সভা থেকে সেই অবস্থান পুরো বদলে তৃণমূল নেত্রীকেই নিশানা করেন তিনি। যে ধারা এখনও অব্যাহত। তিন সপ্তাহের মধ্যে মমতা সম্পর্কে তার এই মত বদলের কারণ কী, তার ব্যাখ্যা আজ নিজেই দিলেন মোদি।

‘টাইমস নাও’ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, ‘আগে মমতার প্রতি অনেক আশা রেখেই তারিফ করেছিলাম। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এবং মমতা প্রশাসন সম্পর্কে আরও তথ্য হাতে পাওয়ার পরেই প্রকৃত সত্য বুঝে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছি।’

মমতা সম্পর্কে মোদি সুর চড়ানোর পর থেকেই পাল্টা আক্রমণে নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রতিটি সভাতেই তিনি মোদিকে নিশানা করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন। যদিও বামেদের অভিযোগ, মমতার প্রতি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর এই সুর বদলের পিছনে রয়েছে দুপক্ষের গোপন সমঝোতার হিসাব।

বামেরা দীর্ঘদিন ধরেই বলছেন, ভোটপর্ব মিটে গেলেই বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাবেন মমতা। এবার তাঁরা মমতার সঙ্গে সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও সরব হয়েছেন। এ নিয়ে মমতার পুরনো উদ্ধৃতিও তুলে ধরছেন বাম নেতারা। ২০০৩ সালে আরএসএসের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে মমতা তাদের ‘প্রকৃত দেশপ্রেমিক’ বলে প্রশংসা করেছিলেন। পুরনো সংবাদপত্র থেকে সেই প্রসঙ্গ টেনে এবারে আক্রমণে নেমেছেন সিপিএম নেতারা।

মমতাকে জোটে টানার ব্যাপারে মোদির কৌশল যাই হোক, তৃণমূল নেত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মোদি। তিনি বলেন, প্রথমে দিদি যখন ক্ষমতায় আসেন, ভেবেছিলাম বামেদের ৩৫ বছরের অপশাসনের পর উন্নয়নের কাজ করবেন তিনি। কিছু করবেন বাংলার জন্য। তাঁর প্রতি আশাও ছিল। দিদির সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে ভাল ব্যবহারও করতেন।’

মোদির দাবি, প্রথমবার সে ভাবে না জেনেই তিনি কলকাতায় গিয়ে মমতার তারিফ করেছিলেন। কিন্তু পরে মোহভঙ্গ হয় তাঁর।

মোদির কথায়, এরপরেই অজস্র ইমেল, তথ্য যে ভাবে আসতে শুরু করে, আমি বিস্মিত হই। আমার আরও গবেষণা করে বলা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কলকাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। কিন্তু দিদি বামেদের বদলা নেওয়ার রাজনীতিতে যে ভাবে সময় নষ্ট করছেন, তা আমার ভাল লাগেনি।

একই সঙ্গে পূর্বাঞ্চল তথা কলকাতার উন্নয়ন নিয়ে নিজের মনোভাব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের উন্নতি করতে গেলে পূর্ব ভারতের উন্নতি করতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে কলকাতাকে একটা শক্তিশালী, উজ্জীবিত শহরে পরিণত করতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই