মেইন ম্যেনু

মেয়র আইভীর সমর্থন চাইলেন সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের উপ নির্বাচনে প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছোট ভাই জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থন চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার ছোটভাই শামীম ওসমান যেমন আমাকে সমর্থন করেছেন। ঠিক তেমনি আমি মেয়র আইভীরও সমর্থন চাই।’

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে ব্যবসায়ী নেতা, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান একথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জে এমপি ও মেয়রের বিরোধ প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, ‘এ জেলা একটা জায়গায় থেমে আছে। যেদিন এমপি ও মেয়র এক টেবিলে বসবেন তার পরের দিন থেকেই নারায়ণগঞ্জে উন্নয়নের চাকা ঘুরতে থাকবে। তাই আমি চারজন এমপি এবং সিটি করপোরেশনের মেয়রকে নিয়ে বসতে চাই।’

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ভুল বোঝাবুঝি চলছে এমন মন্তব্য করে সেলিম ওসমান বলেন, ‘ভুল বুঝাবুঝির কারণে কেউ কেউ অন্ধকারে ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। অনেক জীবন চলে যাচ্ছে। একে অপরকে দোষারোপ করার মধ্য দিয়ে প্রকৃত খুনীরা বেঁচে যাচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের মেঝ ছেলে সেলিম বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জকে শান্তির শহর বানাতে চাই। নারায়ণগঞ্জে মানুষ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে সে ব্যবস্থা করতে চাই। নারায়ণগঞ্জ ছিলো প্রাচ্যের ডান্ডি। সেই প্রাচ্যের ডান্ডি ফিরিয়ে আনতে হবে। নারায়ণগঞ্জের একটি মানুষও যেন বেকার না থাকে।’

জাতীয় পার্টিতে প্রার্থী হওয়া এবং রাজনীতিতে প্রবেশের ব্যাপারে সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমি ১৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আমার বাবা রাজনীতিবিদ ছিলেন। সেই সুবাদে অনেক বড় বড় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আমার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। সপ্তাহে একদিন বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছি। বাবা দুই ভাইকে রাজনীতিতে ঢুকিয়েছেন। কিন্তু কখনও আমার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা ছিলো না। বুধবার সকাল পর্যন্তও আমি জানতাম না আমি মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্য আপনাদের কাছে অনুমতি চাইতে আসবো। হঠাৎ করে সব কিছু হয়ে গেছে।’

সেলিম ওসমান এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, ‘আমার মা যিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈধব্য জীবন যাপন করছেন। যার একটি ছেলে ইতোমধ্যে চলে গেছেন, সেই মা বিছানায় শুয়ে টিভির স্ক্রলে আমার মনোনয়নপত্র কেনার খবর শুনে আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন সেল্লু তুই এগিয়ে যা। তোর বাবা ভাইয়েরা যা করতে পারে নাই তুই সেটা করে দেখা। তাদের অসমাপ্ত স্বপ্নকে সত্যি করে দে। তাই আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

নির্বাচনে বিজয়ী হতে সবার সমর্থন চেয়ে সেলিম বলেন, ‘এখন আপনাদের সমর্থন চাই। আমি শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করি। শ্রমিক ছাড়া কোনো মালিক যেমন টিকে থাকতে পারে না। ঠিক তেমনি আমি তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। তৃণমূলকে সম্মান দিতে চাই।’

নাসিম ওসমান ও শামীম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জের চার এমপি এবং মেয়রকে নিয়ে এক টেবিলে বসে কাজ করতে চাই। যদি সেটা আমি না করি তাহলে আপনারা আমাকে কান ধরে নারায়ণগঞ্জ থেকে বের করে দেবেন। আর আমি যদি না যেতে পারি যারা সংসদে যাবে তাকেও এক টেবিলে কাজ করতে হবে। কোনো স্বজনপ্রীতি করা যাবে না।’

প্রয়াত নাসিম ওসমান সম্পর্কে ছোট ভাই সেলিম বলেন, ‘উনার অনেক স্বপ্ন ছিলো যা উনি পূরণ করে যেতে পারেনি। এর কারণ হচ্ছে, পর্যাপ্ত টাকার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর হিংসা বিদ্বেষ। আমি কোনো হিংসা বিদ্বেষ রাখতে চাইনা। আমি নারায়ণগঞ্জের মানুষকে শান্তিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে চাই।’

গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মঞ্জুরুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সদস্য প্রবীর সাহা, বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহজালাল, ইয়ার্নমার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান, শোভন গার্মেন্টেসের পরিচালক আবু আহম্মেদ সিদ্দিক, বিকেএমইএ লেবার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান জিএম ফারুক, ফেন্ড্রস্ মার্কেট বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন টিটু, সাবেক সভাপতি বাদশা মিয়া, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, এনায়েত নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি প্রধান, জেলা জাসদের সভাপতি এম এ সাত্তার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, নগর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহের, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মজিদ খন্দকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সানু, সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ফেডারেশন অব ওয়ার্কাস এর কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি কাউসার আহম্মেদ পলাশ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মুহাম্মদ বাদল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, মহানগর মহিলা লীগের সভানেত্রী ইসরাত জাহান স্মৃতি, শহর যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী মাহমুদা মালা প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই