মেইন ম্যেনু

মিয়ানমারকে সাবমেরিন বিধ্বংসী টর্পেডো দিচ্ছে ভারত

সমুদ্র নিরাপত্তা বাড়ানো ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে দুটি সাবমেরিন কিনেছে। এর রেশ না কাটতেই সাবমেরিন ধ্বংসকারী টর্পেডো কিনছে মিয়ানমার। আর এই টর্পেডো দিচ্ছে প্রতিবেশি বন্ধু প্রতীম দেশ ভারত।

যদিও মিয়ানমারের সাবমেরিন নেই। এশিয়ার এ অঞ্চলে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের সাবমেরিন নেই। ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে। এবার এই তালিকায় যুক্তহলো বাংলাদেশ।

ভারত ও এশিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যম এ বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এজন্য দেশ দু’টির মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। টর্পেডো কিনতে ভারতকে ৩৭.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করবে মিয়ানমার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হয়েছে এই টর্পেডোগুলো। শাইনা নামের এই টর্পেডোর ডিজাইন করেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও ভারত ডাইনামিক্স লিমিটেড নামের (ডিআরডিও) দুটি প্রতিষ্ঠান।

ডিআরডিও প্রধান এস ক্রিস্টোফার গত ২৪ মার্চ বলেছেন, এর আগে মিয়ানমারের কাছে সাবমেরিন খুঁজে বের করতে পারে ‘সোনার’ প্রযুক্তির রাডারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি করেছে ভারত। এবার টর্পেডো সরবরাহ করা হবে।

মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, উপকরণ ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে ভারত। এজন্য দেশ দু’টির মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে। মিয়ানমারকে দেয়া টর্পেডোর বিষয়ে এক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ডিপলোম্যাট নামের এক পত্রিকাকে জানিয়েছে, এই টর্পেডো সাবমেরিন ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করা হয়। মিয়ানমার যে প্রযুক্তির টর্পেডো কিনছে বাংলাদেশের কাছে তার থেকে উন্নত প্রযুক্তির টর্পেডো আছে।

শাইনা টর্পেডো সাধারণত সাত কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

গত বছর ২২ ডিসেম্বর ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে বাংলাদেশের প্রথম দুই সাবমেরিন চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। এর আগে গত ১৪ নভেম্বর এই সাবমেরিনগুলো বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’র কমিশনিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রাম ঈশা খাঁ ঘাঁটির জেটিতে এই অনুষ্ঠান হয়।

জাতিসংঘের সদস্যভূক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে ৪০টি দেশের সাবমেরিন রয়েছে। নতুন করে সাবমেরিন সক্ষমতা অর্জন করায় ৪১তম রাষ্ট্র হলো বাংলাদেশ।

চীন থেকে কেনা ০৩৫ জি ক্লাসের এ দুটি সাবমেরিনের আক্রমণ সক্ষমতা রয়েছে। টর্পেডো ও মাইন বহনকারী এ সাবমেরিন দুটো যেকোন যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনে আক্রমণ করতে পারে। বিশেষ দক্ষতার জন্য এই সাবমেরিনকে ‘সাব-সারফেস কিলার’ বলা হয়। কারণ এটিকে সহজে চিহ্নিত করা যায় না।

এ ধরনের সাবমেরিন একটানা এক মাসেরও বেশি সময় পানির নিচে থাকতে পারে। এগুলো ডিজেল ইলেক্ট্রিক সাবমেরিন। যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার এবং প্রস্থে ৭.৬ মিটার। এরফলে এখন নৌবাহিনী ত্রি-মাত্রিক(পানির ওপর, নিচ ও আকাশ) প্রতিরক্ষার সক্ষমতা অর্জন করলো। মিয়ানমার ও ভারতের দখলে থাকা প্রায় দেড়লাখ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা আদালতের রায়ের পরে পাওয়া এই বিশাল এলাকা পাহারা দেয়া বাংলাদেশের পক্ষে এখন আরো সহজ হবে।






মন্তব্য চালু নেই