মেইন ম্যেনু

মানুষ যখন আমাকে ঘৃণা করে, আমার খুব ভাল লাগে

‘ওয়াজির’-এর ‘ইয়াজাদ কুরেশি’ হোক বা ‘কাই পো চে’-র ‘বিট্টু মামা’, হিন্দি ছবির দর্শক মানব কউলকে চেনেন প্রধানত একজন চরিত্র-অভিনেতা হিসেবে। কিন্তু মানব কউল-এর প্রধান পরিচয় তিনি একজন নিবিষ্ট থিয়েটার কর্মী। মূলত তিনি পরিচালক ও নাট্যকার এবং অবশ্যই অভিনেতা।

আগামীকাল কলকাতার বিড়লা সভাঘরে রয়েছে তাঁর নতুন নাটক ‘চুহল’-এর ব্যাক টু ব্যাক শো— একটি বিকেল ৫টায় ও অন্যটি সন্ধে সাতটায়। জি এন্টারটেনমেন্ট এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড-এর নতুন উদ্যোগ, জি থিয়েটার আয়োজিত থিয়েটার ট্যুরেরই অংশ এই পারফরম্যান্স।

মানব এই নাটকের নাট্যকার এবং পরিচালক। পাশাপাশি তিনিই মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন। এছাড়া অন্যান্য প্রধান চরিত্রে রয়েছেন সুগন্ধা গর্গ, সৃষ্টি শ্রীবাস্তব ও পদ্মা দামোদরন। এই সূত্রেই এবেলা ওয়েবসাইটকে দিলেন বিশেষ সাক্ষাৎকার, থিয়েটার থেকে বলিউডের চরিত্র-চিত্রায়ন, উঠে এল নানা প্রসঙ্গ

কলকাতায় কি এই প্রথম আসা?

মানব: না না, আমি আগে গিয়েছি কলকাতায়। আমি আমার ‘কালার ব্লাইন্ড’ প্রোডাকশনটি কলকাতায় পারফর্ম করেছি। কলকাতা আমার খুব প্রিয় শহর। আমি বার বারই এই শহরে আসতে চাই, পারফর্ম করতে চাই। ‘চুহল’ তো বরং বলব বেশ লাকি প্রোডাকশন। আমরা গত নভেম্বরে প্রথম প্রোডাকশনটি শুরু করেছি আর এই জানুয়ারিতেই কলকাতায় পারফর্ম করব। দারুণ ব্যাপার।

বাংলা থিয়েটারের ঐতিহ্যের সঙ্গে আপনি নিজেকে কীভাবে মিলিয়ে দেখেন?

মানব: আমরা আধুনিক থিয়েটার করি। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার করি। বাদল সরকার আমার খুব প্রিয় নাট্যকারদের মধ্যে একজন। আমরা একটু অন্যরকম থিয়েটার করি। কিন্তু অবশ্যই বাংলার থিয়েটারের একটা সমৃদ্ধ অতীত রয়েছে যেটা হিন্দি থিয়েটারে অতটাও নেই। সেজন্যই আমি বার বার কলকাতায় আসতে চাই, পারফর্ম করতে চাই। এই শহরের মানুষ থিয়েটারকে যেভাবে বোঝেন সেটা অন্য কোথাও ঠিক পাই না।

আপনার এই নতুন প্রোডাকশনটি সম্পর্কে কিছু জানতে চাইব।

মানব: নাটকের নাম ‘চুহল’। এটা একটা রোম্যান্টিক কমেডি আর অবশ্যই একেবারেই আমার নিজস্ব ঘরানায় লেখা নাটক। খুব অল্প দিনের মধ্যেই বেশ সফল নাটক বলা যেতেই পারে। আমাদের ৩টে রান খুব ভাল হয়েছে। তার পরে ভোপালে আমরা পারফর্ম করেছি। খুবই সফল হয়েছে শো বলা যায়। তার পরেই ট্যুরিংটা শুরু করা আর কী, ভোপাল, কলকাতা…।

থিয়েটার কি আপনার প্রথম প্রেম?

মানব: না না আমি অনেক মানুষকে ভালবাসি, আরও অনেক কিছুই ভালবাসি। যখন থিয়েটারটা করি, আমার সমস্ত ভালবাসা ও প্যাশন দিয়ে আমি থিয়েটারটা করি। আবার যখন সিনেমায় অভিনয় করি, সেটাও সম্পূর্ণ প্যাশন দিয়ে করি। আসলে আমার মনে হয় একসঙ্গে অনেক কিছুই করা যায় এবং একটা অন্যের পরিপূরক। এমন নয় যে শুধু থিয়েটার বা শুধু ছবি, আমি সবকিছুই করি। আমি আসলে কাজ করতে চাই আর এই ধরনের কাজ এক কথায় অ্যামেজিং।

আপনার কি মনে হয় শুধু থিয়েটার করে একজন অভিনেতা বা একজন পরিচালক সারভাইভ করতে পারেন?

মানব: আসলে শুধু থিয়েটার নয়, মূলে রয়েছে সাহিত্য। থিয়েটার সাহিত্যের একটা অংশ, অর্থাৎ টেক্সট রচনার দিক থেকে যদি ধরি, বর্তমান সময়ে সাহিত্যের প্রতি মানুষের ঝোঁক অনেকটা কমে গিয়েছে। মানুষ ভাল সাহিত্য পড়েন না আর লেখকরা শুধুমাত্র বিদগ্ধ লেখা লিখে টিকে থাকতে পারেন না। আর মানুষ ঠিক কী ধরনের সাহিত্য পড়ছেন তার উপরেই নির্ভর করছে সমাজের চেহারাটা কেমন দাঁড়াবে।

যদি ভাল লেখার চাহিদা না থাকে তবে ভাল লেখকের সংখ্যাও কমে যাবে। পুরোটাই চাহিদা ও যোগানের খেলা… বাজার। অভিযোগের কোনও জায়গা নেই। তবে তার মধ্যেও জানবেন পৃথিবীতে কিছু পাগল মানুষ আছেন, অন্তত আমাদের দেশে তো বটেই, যাঁরা কোনও শর্তেই থিয়েটারটা ছাড়তে রাজি নন।

টাকা আসুক বা না আসুক, তাঁরা যে কোনওভাবে হোক টিকে থাকেন। আমিও টিকে থেকেছি। এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে মুম্বইতে প্রচুর টাকা কারণ আমি কমার্শিয়াল থিয়েটার করি না, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার করি। তাই এই ধরনের থিয়েটার করে মুম্বইতে টিকে থাকা খুবই শক্ত। কিন্তু এই নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই কারণ আমি কখনওই টাকার জন্য থিয়েটার করিনি।

টাকা কখনওই আমার প্রায়োরিটি ছিল না। কিন্তু আমাদের দেশে এইভাবে ভাবতে আমরা বাধ্য হই, সেটা থিয়েটার হোক বা সাহিত্য রচনা কারণ নাহলে মানুষ পড়বে না, বিক্রি হবে না, টাকাও আসবে না।

এখনকার ভারতীয় দর্শকের কাছে আপনি হলেন বলিউডের ‘ব্যাড গাই’। এই সম্পর্কে আপনার কী মনে হয়?

মানব: আমি একজন অভিনেতা, আমি এই ইন্ডাস্ট্রির একটা অংশ। আমার কাছে যাই কাজ আসুক, সেটা যতটা সততার সঙ্গে সম্ভব আমি করি। আমার কাছে যদি ‘ব্যাড গাই’-এর চরিত্র এসে থাকে, তবে তার জন্যও আমি আমার বেস্ট পারফরম্যান্স দিয়েছি। আর তার জন্য মানুষ যখন আমাকে অপছন্দ করে বা ঘৃণা করে, আমার তো সেটা বেশ ভাল লাগে।

পর পর তিনটে ছবিতেই ‘নেগেটিভ’ চরিত্র পেলেন। এটাকে কি টাইপকাস্ট বলবেন?

মানব: আমি ঠিক ওইভাবে দেখি না কারণ আমি তো শুধু ছবি করি না। আরও অনেক কিছু করি। মাঝেমধ্যে ব্রেকও নিই। যেমন এই নাটকটার জন্যেই এখন ব্রেক নিয়েছি। আর তাছাড়া মূল ধারার মধ্যে হোক বা বাইরে হোক প্রচুর ভাল চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে, ইন্টারেস্টিং চরিত্র পাচ্ছি। আমার মনের মতো অনেক কাজও পাচ্ছি। আগামী দিনে নানা ধরনের চরিত্রে আমাকে দেখতে পাবেন।

‘জলি এলএলবি ২’-তে আপনার চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলুন।

মানব: ওই ছবিতে আমার একটা গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স রয়েছে। আমার চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এই ছবিতে। গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স হিসেবে কাজ করেছি কারণ আমি পরিচালক সুভাষ কপূরের সঙ্গে ভীষণভাবে কাজ করতে চাই। সব মিলিয়ে খুব ভাল লেগেছে কাজ করতে আর চরিত্রটা খুবই ইন্টারেস্টিং।

পরিচালক হিসেবে আপনার ছবি ‘হনসা’ সমালোচকদের উচ্চ প্রশংসা পেয়েছিল। পরের ছবি পরিচালনার কথা ভাবছেন?

মানব: না, এই মুহূর্তে আমার ঠিক নতুন কোনও ছবি পরিচালনার পরিকল্পনা নেই। হয়তো ১০ বছর পরে ভাবব। এখন আমার ছবি পরিচালনার মুড নেই।-এবেলা






মন্তব্য চালু নেই