মেইন ম্যেনু

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি এনায়েত উল্লাহর মৃত্যু

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি নেত্রকোনার জামায়াত নেতা এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু (৭০) মারা গেছেন।

বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার এই জামায়াত নেতাকে ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর নেত্রকোনার আটপাড়া থানার কুলশ্রীর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর এনায়েত উল্লাহ ও তার বড় ভাই হেদায়েত উল্লাহ ওরফে আঞ্জু (৮০) এবং সোহরাব ফকির ওরফে সোহরাব আলী ওরফে ছোরাপ আলীর (৮৮) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ আনা হয়।

প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৯ মে বেলা ১০-১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার মধুয়াখালী গ্রামে ২০-৩০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৩ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার মোবারকপুর গ্রামের শহীদ মালেক তালকুদার ও কালা চান মুন্সিকে অপহরণ, হত্যা এবং লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

তৃতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট দুপুর অনুমানিক ১২টা হতে বিকেল পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলার মদন থানার মদন গ্রামের শহীদ হেলিম তালুকদারকে অপহরণ, হত্যা এবং লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা হতে রাত পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার সুখারী গ্রামের শহীদ দীনেশ চন্দ্র, শৈলেশ চন্দ্র, প্রফুল্ল বালা, মনোরঞ্জন বিশ্বাস, দুর্গা শংকর ভট্টাচার্য, পলু দে, তারেশ চন্দ্র সরকারকে অপহরণ, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার সুখারী গ্রামের সরকারপাড়ার বিধান কুমার সরকার (সজীব)৪, বাদল চন্দ্র ঘোষকে সপরিবারে, কল্যাণী রানী সরকার, জীবন চন্দ্র সরকার, প্রণতি সরকার, অজিতা বিশ্বাসসহ আরো হিন্দু পরিবারকে দেশত্যাগে বাধ্য করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল অনুমানিক ১০-১১টা থেকে দুপুর আনুমানিক ৩টা পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলার মদন থানার মদন গ্রামের ১৫০-২০০ ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৫ মে এ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এক বছর চার মাস তিনদিন পর তদন্ত শেষ করে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ মামলার তদন্ত করেছেন। আসামিদের তিনজনই একাত্তরে জামায়াতের কর্মী ছিলেন। এদের মধ্যে আঞ্জু-মঞ্জু এখনো জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই