মেইন ম্যেনু

মনে হচ্ছে বর্ষাকাল, আসলে বৈশাখ!

বর্ষাকালকেও হার মানানো গ্রীষ্মকাল শুরু হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই প্রবল বর্ষণ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। অনেক অঞ্চলের নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে প্রবল বর্ষণ পুরো মহানগর জুড়েই থৈ থৈ পানি। জলাবদ্ধতায় চরম বিপাকে পড়েছে নগরবাসী।

গ্রীষ্মকাল মানেই কাঠ ফাটা রোদ, উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে আকাশ কালো করে ধেয়ে আসা কালবৈশাখী, প্রবল ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি। এরপরই আকাশ পরিষ্কার। ঠা ঠা রোদ উঠবে। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই গ্রীষ্মকালের চিরাচরিত এই রূপ আর দেখা যাচ্ছে না। এখন বৈশাখ মাস মানেই বেধড়ক বৃষ্টি। কখনও ঝিরি-ঝিরি, কখনও মুষলধারে।

গেল তিনদিন ধরে প্রায় সারাদেশেই নিম্নচাপের কারণে চলছে বৃষ্টি। আকাশ ঢেকে আছে জলভরা মেঘে মেঘে। হঠাৎ হঠাৎ করেই ঝরছে বৃষ্টি। সঙ্গে থাকছে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ।

আবহাওয়ার অফিস সূত্রমতে, গেল দুদিন ধরে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর এবং নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় এ সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়। এছাড়া একই কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির এই প্রভাব আগামী সোমবার (২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত থাকতে পারে।

এদিকে, উপকূলবর্তী জেলা চট্টগ্রামে শুক্রবার প্রবল বর্ষণ হয়েছে। এতে প্রায় অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রামের জনজীবন। জলাবদ্ধতায় চরম বিপাকে পড়েন নগরবাসী। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) থেকে শুক্রবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১২টা পর্যন্ত ১৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

প্রবল বৃষ্টিতে থইথই করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়ক। নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও চকবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকার সড়ক ডুবে যায়। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে যায় অনেক সড়ক। নগরবাসীর অভিযোগ, বর্ষার আগে সিটি করপোরেশন খালগুলো খনন না করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বৈশাখ মাসে বর্ষাকালের মতো বর্ষণের জন্য আবহাওয়ার পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। স্বাভাবিক ঋতুর বৈশিষ্টগুলো আর দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে পরিবর্তিত এ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খেয়ে নিতে হচ্ছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, বৈশাখ মাসে যখন সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার শতাধিক হাওরে ধান কাটার ধুম পড়ার কথা তখন সেখানে চলছে হাহাকার।

আকস্মিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে অকালে সৃষ্ট বন্যায় ওইসব জেলার হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে লাখ লাখ হেক্টর জমি ধান। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৬ লাখ কৃষক পরিবার। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে এখন বিরাজ করছে বর্ষার পরিবেশ।

শুধু হাওয়াঞ্চলেই নয়, বর্ষার পরিবেশ বিরাজ করছে গোটা দেশেই। এ কারণে গ্রীষ্মকালীন ফসল নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে গ্রীষ্মকালীন ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে। এতে চরম বিপর্যয় দেখা দেবে।

শনিবার (২২ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর এবং নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বুলেটিনে আরো বলা হয়, শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সকাল ছয়টা থেকে শনিবার (২২ এপ্রিল) সকাল ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় দুই মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরে এর পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। পরের তিন ঘণ্টায় সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। তবে দুপুর ও বিকেলে এ বৃষ্টিপাত প্রবল ছিল।

বৃষ্টির এই প্রভাব রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সোমবার পর্যন্ত থাকতে পারে। এছাড়া কমবেশি দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসময় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে এবং সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই