মেইন ম্যেনু

ভোলায় বৃহত্তম সেতুর সংযোগ সড়ক এক বছরের মধ্যেই ধ্বস

ভোলা প্রতিনিধি॥ ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার চরকলমী ইউনিয়নে অবস্থিত জেলার সর্ব বৃহত্তম ব্রীজ মায়া নদীর উপর নির্মিত মায়া ব্রীজ। নির্মাণের প্রায় ১বছরের মধ্যেই ব্রীজে উঠা নামার প্রদান সংযোগ সড়কসহ কয়েকটি অংশ ধ্বসে পড়েছে। এতে করে ব্রীজের উপর দিয়ে প্রায় ৫ মাস ধরে যানবাহনসহ জনসাধারনের চলাচল একেবারেই বন্ধ গেছে।বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে ব্রীজেটির উপর উঠতে সড়কের কিছু অংশ কাঠ দিয়ে বিকল্প পাটাতন তৈরী করে কোন রকম রিক্সা ও মোটরসাইকেল ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে। এঘটনায় জনগনের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও ব্রীজের স্থায়ীত্বমান নিয়েও নানান প্রশ্ন ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরকলমী ও নজরুল নগর ইউনিয়নকে জেলার মূল ভূ-খন্ডের পাশাপাশি সারাদেশের সড়ক যোগাযোগের সাথে সংযুক্ত করতে মায়া নদীর উপর নির্মিত জেলার বৃহত্তম সড়ক সেতু মায়া নদীর ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ব্রীজটির দৈর্ঘ্য ৩৭৮ দশমিক ৪০ মিটার। ব্রীজের সংযোগ সড়কসহ আরো ২টি ছোট ব্রীজসহ মায়া নদীর ব্রীজের মোট নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ব্রীজটি ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে শুরু করে গত বছরের ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়।

ব্রীজটি নির্মাণ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নবারুণ ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। মায়ানদীর উপর নির্মিত জেলার দীর্ঘতম সেতু ‘মায়ানদীর ব্রীজ’টি গত বছরের ৮ মে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বন ও পরিবেশ উপ-মন্ত্রী আব্দুলাহ আল ইসলাম জ্যাকব আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। উদ্বোধনের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে র্নিমিত ভোলা জেলার বৃহত্তম চরফ্যাশনের মায়ানদীর ব্রীজের এ্যাপ্রোচ সংযোগ সড়ক ও ব্রীজে উঠা নামার সিড়ি ধ্বসে পরে যায়। একই বছর জোয়ারের পানির চাপে সড়কের কিছু অংশ ভেঙে যায়। চলতি বছরের (২০১৬) বর্ষা মৌসমের শুরুতে ব্রীজে উঠা নামার প্রদান সংযোগ সড়কসহ কয়েকটি অংশের ব্লক ধ্বসে পড়ে। এতে করে ব্রীজের উপর দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দূর্ভোগ হচ্ছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপ কালে চরকলমী ইউনিয়নের আঃ মান্নান,কামরুল ও কামাল হোসেন জানান, এখানে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয় করে এ ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রীজ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় আড়াই মাসের মাথায় ব্রীজে উঠা নামার এ্যাপ্রোচ সংযোগ সড়ক ও ব্রীজে উঠা নামার সিড়ি ধ্বসে পড়েছে। বর্তমান চলতি বর্ষা মৌসমের শুরুতে ব্রীজে উঠা নামার প্রদান সংযোগ সড়ক ধ্বসে পড়েছে। এতে করে ব্রীজের উপর দিয়ে সকল ধরণের যানবাহ ও জনসাধারনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নজরুল নগরের বাসিন্দা জহির উদ্দির ও নুরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা আমজাদ জানান, আমাদের এলাকায় আগে কোন বিনোদন কেন্দ্র ছিলনা। এখন ব্রীজটি নির্মাণ হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ ঘুরতে আসা শুরু করেছে। ব্রীজ হিসেবে আরো বড় প্রস্থ্য সড়ক নির্মাণ করার দরকার ছিল। ব্রীজটি জমজমাট হওয়ার আগে কয়েক মাস ধরে তার উপর দিয়ে ভারি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই বলে জানান তারা।

ভোলা সদর থেকে ঘুরতে আসা বাপ্পি ও আরমান জানান, এখানে দুটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের জন্য এতো কোটি টাকা ব্যয় করে যে ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে তা তুলনা মূলক অনেক বেশি। এইরকম আরো দুটি ব্রীজ ভোলা টু লাহারহাট রুটে নির্মাণ করা হলে ভোলা সদর থেকে বরিশাল গাড়িতে বসে অনায়াশে জেলার মানুষ যেতে পারতো। যে লক্ষ নিয়ে এই ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে তা বর্তমানে এখানকার মানুষের কাজে আসছে না।

সচেতন মহল মনে করছে, এখানে নদী হিসেবে তার চেয়ে অনেক বড় ও ব্যয় বহুল ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে একসময় মায়া নদীটি জেলার ম্যাপ থেকে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাছাড়া ব্রীজের স্থায়ীত্বমান নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।এব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. সোলায়মান জানান, ব্রীজ নির্মাণের বিষয়ে এলাকাবাসী যে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তা সত্য নয়। সব ব্রীজের ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে, আমাদের এই ব্রীজের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এফরোজের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ধ্বসের ঘটনা ঘটে।
তখন ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন টাকা কম ছিল। তাই ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া ব্রীজ নির্মাণের সময় আমাদের কোন ডিজাইনার ছিল না? তার কারণে এফরোজ ছুটে যাচ্ছে। ডিজাইনার ছাড়া কিভাবে ব্রীজ নির্মাণ করা হয়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এড়িয়ে যান। তিনি আরো বলেন, ব্রীজটির ব্যাপারে আমারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালে প্রজেক্ট ডাইরেক্টর সরজমিনে এসেছেন। আমরা দক্ষ ডিজাইনার দিয়ে ডিজাইন করে পাঠিয়ে দিয়েছি। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই টেন্ডার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।






মন্তব্য চালু নেই