মেইন ম্যেনু

ভালো নেই পুলিশ

প্রতিদিন নিয়ম করে সূর্য পশ্চিমাকাশে অস্ত যায়। প্রকৃতির বুকে সন্ধ্যা নামে। ঘরে ফিরতে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ। আর নগরবাসীর নিরাপত্তায় তখনো নগরের বিভিন্ন মোড়ে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, পুলিশকে তখন চোখ-কান খোলা রাখতে হয়। রাস্তার এ-মাথা থেকে ও-মাথায় টহল, আবার কখনো ঠায় দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোনো কারণে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে তখন তো কথাই নেই। রাত-দিন কেটে যায় রাস্তায় রাস্তায়। সেখানেই খাওয়া-দাওয়া। বিশ্রামের জন্য যেটুকু সময় পান, সেই সময়ও অপেক্ষায় থাকতে হয়-এই বুঝি কোনো নির্দেশ এলো। আবার সন্ত্রাসী হামলায় অকাতরে প্রাণও হারাতে হয় এই পুলিশ সদস্যদের। রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের চেয়ে জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সবচেয়ে বেশি অবদান রাখলেও বঞ্চিত এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটি। পর্যাপ্ত জনবল নেই। ভাঙাচোরা যানবাহন দিয়ে চলছে অপরাধ দমনের কার্যক্রম। আধুনিক অস্ত্র ও টেকনোলজিক্যাল (প্রযুক্তিগত) সরঞ্জামের অভাবসহ নানা প্রতিকূলতায় দায়িত্ব পালনে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পুলিশ। এসব কারণে অভিযানে গিয়ে প্রায়ই মার খেয়ে ফিরতে হয় পুলিশকে। এমনকি অকাতরে প্রাণ হারাতে হয় খোদ পুলিশের চেকপোস্টেই। প্রজাতন্ত্রের অন্য যে কোনো বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর চেয়ে কম বেতন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের। নেই সাপ্তাহিক ছুটি। অপ্রতুল ঝুঁকিভাতা। আবাসন সংকট চরমে। সারা দিন হাড়ভাঙা ডিউটির পর বিশ্রামের জন্য ব্যারাকে ফিরে দেখতে হয়, নিজের জন্য বরাদ্দ সিটে বিশ্রাম নিচ্ছেন আরেকজন। তাই বারান্দায় শুয়েই রাত পার করতে হয় তাকে। নেই তাদের কোনো উন্নত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জামাদি। এমন নানা সংকটে পুলিশ এখন নাকাল। সংশ্লিষ্টরা বলছে, ‘নেই আর নেই’য়ের মধ্যে চলছে পুলিশ বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ এখন চরম চ্যালেঞ্জের মুখে। ইউএনডিপির এক গবেষণায় বলা হয়, বাসস্থান, চিকিৎসাসুবিধা, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা নিয়ে পুলিশ সদস্যরা নাখোশ। রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাকে চার কনস্টেবল মিলে একটি সিট পাচ্ছেন। ডিউটি করে আসার পর তারা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য খাতে পুলিশের বাজেট নেই বললেই চলে। চিকিৎসা বাবদ একজন কনস্টেবল মাসে ৪৪ টাকা পান, যা দিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া যানবাহন, অস্ত্র, অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি তো আছেই। র‌্যাবের সব সদস্যকে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশকে ঝুঁকিভাতা দেওয়া হয় এর চেয়ে অনেক কম। বেতন-ভাতার পুরোটাই খরচ হয়ে যায় বাড়িভাড়ায়। পদোন্নতির পরীক্ষায় অনেকে শিকার হন হয়রানির।

১২০০ জনের নিরাপত্তায় পুলিশ একজন : দেশে পুলিশের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। ১২০০ নাগরিকের নিরাপত্তায় রয়েছেন মাত্র একজন পুলিশ। এটি হচ্ছে মোট পুলিশের সংখ্যার সঙ্গে দেশের মানুষের সংখ্যার আনুপাতিক হার। তবে পুলিশ সদর দফতরের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, এটি কাগজ-কলমের হিসাব। বাস্তব চিত্র আশঙ্কাজনক। ওই কর্মকর্তা জানান, মোট পুলিশের একটি বড় অংশই নিয়োজিত থাকছেন ভিভিআইপি ও ভিআইপি প্রটোকলে, যাদের নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রদান করাই মূল দায়িত্ব। এ ছাড়া বিভিন্ন রেঞ্জে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবেও রাখা হয়েছে পুলিশের একটি বড় অংশকে, যাদের প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠে নামানো হয়। এসব হিসাব-নিকাশ করলে ১২০০ নয়, দুই হাজার নাগরিকের নিরাপত্তায় কাজ করছেন মাত্র একজন পুলিশ। কিন্তু কাজ অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি পুলিশের। পুলিশকে কাজ করতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা। ২০ ঘণ্টা কাজও করতে হচ্ছে ক্ষেত্রবিশেষে।

বেতন-ভাতা : একজন কনস্টেবলের মূল বেতন চার হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে মাসে পান ৯ হাজার ৯৫ টাকা। একজন নায়েকের মূল বেতন চার হাজার ৯০০ টাকা। সব মিলিয়ে পান ১০ হাজার ৪৫০ টাকা। সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (সহকারী টিএসআই) ও সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরের (এএসআই) মূল বেতন পাঁচ হাজার ২০০ টাকা। সব মিলিয়ে তারা পান ১১ হাজার ২৩৫ টাকা। সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) ও সার্জেন্টের মূল বেতন আট হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তারা পান ১৬ হাজার ৫৪০ টাকা। একাধিক সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল জানান, এই বেতন দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্ট। তবে রেশন ভালো। এ ছাড়া দীর্ঘদিন পর সরকার মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা দিয়েছে। তারা আরও জানান, সবার পক্ষে বাড়ি ভাড়া করে থাকা সম্ভব নয়। সন্তানদের পড়ালেখা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেতন কম, তাই অনেক পুলিশ সদস্য দুর্নীতি করে থাকেন বলে তারা মন্তব্য করেন।

আবাসন : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) জনবল প্রায় ৩২ হাজার। অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) থেকে নিচের পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাসার চাহিদা আছে ১৫ হাজার ৮২ জনের। বর্তমানে বাসা আছে পাঁচ হাজারের মতো। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের ৫৫টি বাসার চাহিদা থাকলেও এখন আছে ৩৫টি। ইন্সপেক্টরদের ২৮৭টি বাসার বিপরীতে আছে ১১২টি। সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্টদের দুই হাজার ৩৭৬টি বাসার চাহিদার বিপরীতে আছে এক হাজার ৭৭৭টি। সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরদের এক হাজার ৭৪০টি বাসার বিপরীতে আছে ৩৭৩টি। অন্যদিকে হেড কনস্টেবল, নায়েক ও কনস্টেবলদের ২০ হাজার ২১৮টি বাসার চাহিদার বিপরীতে আছে মাত্র এক হাজার ২৫৩টি।

পুলিশ সদর দফতরের উপমহাপরিদর্শক (প্রশাসন) বিনয় কৃষ্ণ বালা বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার পুলিশের উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পুলিশের লজিস্টিক সাপোর্ট, জনবল বাড়ানোসহ বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পরও পুলিশের কিছু সমস্যা আছে। সেসব নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারী পুলিশ : সারা দেশে নারী পুলিশের সংখ্যা সাত হাজার ৯৬৩, যা পুরুষ পুলিশের সংখ্যার ৪.৪৪ শতাংশ মাত্র। কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত বিভিন্ন পদে আছেন নারী সদস্যরা। পুলিশের নারী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি একজন, ডিআইজি দুজন, অতিরিক্ত ডিআইজি দুজন, পুলিশ সুপার ১২ জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ৫৭ জন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ১৯ জন, সহকারী পুলিশ সুপার ১১১ জন, ইন্সপেক্টর ৫৮ জন, এসআই ৪৭৫ জন, এএসআই ৪১১ জন ও কনস্টেবল ৬ হাজার ৪১৩ জন। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ব্যারাকের বাসিন্দা এক নারী কনস্টেবল বলেন, ‘পুরুষের চেয়ে নারী সদস্যরা বেশি অবহেলিত। কিছু বলতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘নারী পুলিশ সদস্যরা পুরুষ সদস্যদের মতোই দায়িত্ব পালন করেন। টানা ১২-১৪ ঘণ্টা তাদের রাস্তায় ডিউটি করতে হয়। কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা নেই। তাই দুর্ভোগে পড়তে হয়। আবার নারী ব্যারাকের অবস্থাও ভালো নয়। খাবারের মান উন্নত নয়।’

লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি : পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে পুলিশের মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দামি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ভুগছেন যানবাহন সংকটে। লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি দিয়েই এখনো কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের। মাঝেমধ্যে আসামি ধরার অভিযানের সময় রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে গাড়ি। খোদ রাজধানীর অনেক থানাতেই অটোরিকশা নিয়ে টহল দিয়ে থাকে পুলিশ।

অপরাধীরা যেখানে উন্নতমানের যানবাহন ব্যবহার করে দ্রুত অপরাধস্থল ত্যাগ করে, সেখানে চাহিদার তুলনায় পুলিশের যানবাহনের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল, অতি পুরনো ও জরাজীর্ণ। মহানগরসহ অধিকাংশ এলাকায় যানবাহন অধিগ্রহণ (রিকুইজেশন) করে পুলিশ তার কাজ সম্পাদন করছে। দেশের বিভিন্ন থানায় গাড়ির সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। ডিএমপিতে রয়েছে দুই হাজারের মতো। এর মধ্যে একটি বড় অংশই বিকল। এ প্রসঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, জনবল বাড়ানো হলেও যানবাহনের সংখ্যা তেমন বাড়েনি। পুলিশের কাজের জন্য আবাসনের পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যাও দ্রুত বাড়াতে হবে।

পরিত্যক্ত ও ভাড়াবাড়িতে থানা : দেশের অধিকাংশ থানার কোনো নিজস্ব ভবন নেই। ভাড়া করা বাড়ি বা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিভাগের ভবনে চলছে এসব থানার কার্যক্রম। খোদ রাজধানীর পরিস্থিতি শোচনীয় পর্যায়ে। ডিএমপির ৪৯টি থানার মধ্যে ২০টি থানার স্থায়ী ঠিকানা নেই। এসব থানার কার্যক্রম চলছে পরিত্যক্ত ও ভাড়াবাড়িতে। প্রতি মাসে ১৫ লক্ষাধিক টাকা ভাড়া বাবদ খরচ করতে হচ্ছে ডিএমপিকে। ছয়টি থানা চলছে ডিসিসির কমিউনিটি সেন্টারে। নিন্ম আয়ের মানুষ কমিউনিটি সেন্টারগুলো ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার কোনো কোনো থানা চলছে ফাঁড়িতেই। যানবাহন রাখার স্থান না থাকায় পুলিশের গাড়ি ও মোটরসাইকেল রাখতে হচ্ছে রাস্তার ওপর। পুলিশ কর্মকর্তাদের চেয়ার-টেবিল রাখার নেই পর্যাপ্ত জায়গা। মূল্যবান নথিপত্র, ফাইল রাখার জন্য নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আলমারি বা ফাইল কেবিনেট। বারান্দায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকছে মামলার আলামত। নিজস্ব ভবন না থাকায় এসব থানার কার্যক্রমে গতি নেই বলে জানিয়েছেন একাধিক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। ডিএমপির স্টেট শাখা সূত্র জানায়, রমনা মডেল থানা, শাহবাগ, নিউমার্কেট, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, পল্টন মডেল থানা, তেজগাঁও থানা, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডা, খিলক্ষেত, তুরাগ, ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা, কোতোয়ালি, চকবাজার, গেন্ডারিয়া, রামপুরা, খিলগাঁও থানার সার্বিক কার্যক্রম চলছে নিজস্ব থানা ভবনে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, আদাবর, শাহ আলী, পল্লবী, কাফরুল, হাজারীবাগ, দক্ষিণখান, উত্তরখান, দারুস সালাম, কদমতলী ও বংশাল থানার কার্যক্রম চলছে স্বল্প পরিসরের ভাড়াবাড়িতে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় এসব থানার কর্মকর্তারা তাদের প্রাত্যহিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে করতে পারছেন না। তাদের নেই বসার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল। এক টেবিলে ভাগাভাগি করে চার্জশিট, চূড়ান্ত রিপোর্ট, সাধারণ ডায়েরি ও ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট লিখতে হচ্ছে। কর্মক্লান্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশ্রাম নেওয়ার মতো জায়গাও নেই। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন থানার নারী পুলিশ সদস্যরা। নিজস্ব জায়গা না থাকায় বিভিন্ন মামলায় আটক যানবাহন মাসের পর মাস পড়ে থাকে রাস্তার ওপর। একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, স্বল্প পরিসরের ভাড়া করা বাড়িতে থানা ভবন থাকায় কাজের অনেক সমস্যা হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা থানার অস্ত্রাগার নিয়ে। সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। জায়গার স্বল্পতার কারণে থানার হাজতখানার নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত থাকতে হয়। কখনো কখনো অমানবিকভাবে রাখা হয় আসামিদের। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, থানা ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি খাসজমি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। খাসজমি বন্দোবস্ত প্রাপ্তি সাপেক্ষে থানা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। ধীরে ধীরে ভাড়া করা ভবন ছেড়ে দেওয়া হবে।বাংলাদেশপ্রতিদিন



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই