মেইন ম্যেনু

বৈশাখের বৃষ্টিতে পথ চলা দায়! তাহলে ভরা বর্ষায় কী হবে?

বর্ষাকাল আসতে এখনও ঢের সময় বাকি। সবে গ্রীষ্মের শুরু। কিন্তু গত কয়েকদিন যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে না এটা গ্রীষ্মকাল। বৃষ্টিতে গরম কমলেও ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। কারণ নগর জুড়েই চলছে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি। আর গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়ে আছে মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভার। বর্ষায় রাস্তায় পানি জমবে না-এই আশায় সারাবছর রাস্তায় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার খোঁড়াখুড়ি মুখ বুজে সহ্য করে নগরবাসী। কিন্তু নগরবাসীর দুর্ভোগ আর কমে না। এবারের বর্ষাতেও নগরবাসীকে ভুগতে হবে অকল্পনীয় দুর্ভোগ। তারই পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে বৈশাখের বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া নগরী দেখে। নগরবাসীর প্রশ্ন, বৈশাখের বৃষ্টিতে পথ চলতে পারছি না, ভরা বর্ষায় কী হবে?খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

শনিবার সকালে বৃষ্টিতে পরীক্ষা দিতে বের হওয়া শিক্ষার্থী, গার্মেন্টেসের সকালের শিফটের কর্মীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে পৌঁছাতে হবে বলেই কাকাভেজা হয়ে ছুটেছেন কর্মস্থলের দিকে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর এলাকায় হাঁটুপানি জমে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এ এলাকায় ফ্লাইওভারের কাজ চলার কারণে সারাবছরই ভোগান্তিতে থাকতে হয়। তবে বর্ষায় পানি জমলে চলাফেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েন এখানকার লোকজন। ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কারণে রাস্তার বেহাল দশার কথা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত তিনদিনের বৃষ্টিতে রাজধানী বিভিন্ন এলাকার অবস্থা খারাপ। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও ভাঙা রাস্তায় পানি জমে, কোথাও ওয়াসার লাইনের জন্য কাটা রাস্তায় চলাচণ করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে গেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দেখা যায় তীব্র যানজট।

পল্লবীতে খুড়ে রাখা রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজটের। আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১২ পর্যন্ত খুঁড়ে রাখা এবং মাটি ফেলে বন্ধ করার কারণে পুরো রাস্তা কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে গেছে। সড়ক জুড়েই পানি জেমেছে। পানি যাওয়ার কোনও পথও নেই।

এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশন ড্রেনেজ লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। কোনোটাই শেষ হয়নি। ফলে ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শেষ নেই।

মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, বাড্ডা, রামপুরা ও পুরান ঢাকার মীর হাজিরবাগ, ধোলাইয়ের পাড়, জুরাইন, পোস্তোগোলা এলাকায় ড্রেনেজ লাইনের কাজ চলছে। অল্প বৃষ্টিতেই এসব এলাকার প্রতিটি অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়।

গতবছর এইসময় সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়, আগামী বর্ষায় পানি না জমে সেই কাজগুলো করবেন তারা। এইবছর (২০১৭) থেকে বর্ষায় পানি জমে হয়রানির শিকার হতে হবে না নগরবাসীকে। গত তিনদিনের বৃষ্টিতে সেই আশ্বাস ভুল বলে দেখছেন রাজাবাজার এলাকার তাহমিমা হোসেন। মেয়েকে নিয়ে টিউশনিতে বেরিয়ে তিনি দেখেন বাসার নিচে এক হাঁটু পানি, রিকশার ওপরে পানি উঠে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই পুরো গলিটা পানিতে তলিয়ে যায়। গতবছর রাস্তা কাটা হয়েছে, কাজ চলছে। ভেবেছিলাম এবছর হয়তো পানি জমবে না। কিন্তু গত একমাসে যতবারই বৃষ্টি হয়েছে ততবারই বাসায় আটকে থাকতে হয়েছে।’

শান্তিনগর এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সালমান সাদিক খান। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় অফিস হওয়ায় প্রতিনিয়ত এসব জলকাদায় আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। না পারি অফিসে ঢুকতে, না পারি বের হতে। এতে যে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় সেটি আমাদের মতো লোকজনের জন্য রুটিরুজির বিষয়। কিন্তু বলার কেউ নাই। দেখারও কেউ নাই।’

সব হয়রানির কথা স্বীকার করে নিয়েই মালিবাগের ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধানকারী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম আমিরুজ্জামান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হয়েছে। এটা ঠিক করতে চেষ্টা করছি।’






মন্তব্য চালু নেই