মেইন ম্যেনু

বেনাপোলে নিলামে উঠছে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্য

বেনাপোল স্থলবন্দরে পড়ে থাকা দেশের শীর্ষ কোম্পানির গাড়ি, ২ হাজার ২৫৭ সেট টায়ারসহ আমদানিকৃত বিভিন্ন মালামাল নিলাম হতে যাচ্ছে। আমদানি করা এ সব পণ্য ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্দরের শেডে পড়ে রয়েছে। কাস্টম কর্তৃপক্ষ এ সব পণ্যের মালিকদের বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা পণ্য ছাড় না করার কারণে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই এগুলো প্রকাশ্য নিলাম করা হবে। নিলামকৃত পণ্যের মূল্যে শত কোটি টাকা বলে কাস্টম কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে সরকারের রাজস্ব পাওনা রয়েছে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা। বেনাপোল কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ির মধ্যে রয়েছে র‌্যাংগস মোটরসের ৫৪টি গাড়ি, নিটল মোটরসের ৬টি গাড়ি, ঢাকার ডাইটেক্স ইন্টারন্যাশনালের এক হাজার ২৯০ সেট টায়ার, সুইফট মোটরসের ৯শ’ ৬৭ সেট এবং চট্রগ্রামের ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজের ১শ’ সেট টায়ার। এ ছাড়া নিলামের তালিকায় আরও রয়েছে আমদানিকৃত গ্যাসকেট, কটন ইয়ার্ন, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, প্লেইন পেপার, পেপার বোর্ড, তুলা, স্পেয়ার পার্টস, ফার্মাসিউটিক্যালস মেটারিয়ালসহ অন্যান্য পণ্য। র‌্যাংগস মোটরস চলতি বছর ২৩ মার্চ ও ২৪ মার্চ ৫৪টি মহেন্দ্রা আলফা প্যাসেঞ্জার বেনাপোল দিয়ে আমদানি করে। যার মেনিফেস্ট নং-১০৯৫১/১৪, ১০৯৫৩/১৪, ১১১৮০/২, ১১১৮৮/১০। নিটল মোটরস এর গাড়িগুলো আমদানি করা হয় ১১ মার্চ ও ২৩ মার্চ। তাদের মেনিফেস্ট নং-৯৫৩৪/৬। গাড়িগুলো আমদানির ২ মাস পেরিয়ে গেলেও বন্দর থেকে তা ছাড় করাচ্ছে না মালিক পক্ষ। তবে নিটল মোটরসের বেনাপোল অফিস থেকে জানা গেছে, তাদের আমদানি করা ৬টি গাড়ি তারা শুল্ক-করাদি পরিশোধ করে খালাস করে নিয়েছে ২০ মে। বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু জানান, নিয়ম রয়েছে পণ্য আমদানির পর ৩০ দিন পার হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিয়ে পণ্য ছাড় করানোর তাগাদা দেওয়ার। এতে সাড়া না পাওয়া গেলে আমদানি করা মালামাল নিলামে উঠানো হয়। উল্লেখিত গাড়িগুলো দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা আমদানি করে এনেছেন। তাই তাদের দিকে তাকিয়ে ২ মাস ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপর বারবার সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিলেও তারা কোনো জবাব দিচ্ছেনা। তাই বাধ্য হয়েই নিলাম আহ্বান করা হচ্ছে। র‌্যাংগস মোটরসের জেনারেল ম্যানেজার সত্যজিৎ সাহা এর আগে বেনাপোল কাস্টমস এ চিঠি দিয়ে বলেছেন, ‘যে দিন গাড়ি ছাড় করাবো সে দিন থেকে আমাদের ব্যাংক সুদ দিতে হবে। ছাড় করানোর পরে যদি গাড়ি বিক্রি না হয় তাহলে আমাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে। তাই তিনি আরও সময় চান। বেনাপোল কাস্টমস এর যুগ্ম-কমিশনার আতিকুর রহমান জানান, ২০১৩ সালের ১৮ মে বেনাপোলে নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপির সঙ্গে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়েছে। সেখানেই মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বন্দরে পড়ে থাকা গাড়িসহ বিভিন্ন পণ্য নিলামে উঠানোর জন্য। আতিকুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দিয়েছি, যদি চলতি মাসের মধ্যে তাদের পণ্য ছাড় না করায় তাহলে আগামী মাসের প্রথম দিকে নিলাম আহ্বান করা হবে। এতে সরকার লাভবান হবে বলেই তিনি জানান। বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তারিকুল হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ পণ্য ছাড় না হওয়ার কারণে আমাদের বন্দরের শেডে জায়গা দখল হয়ে আছে। এ সব পণ্যের জন্য নতুন আমদানি হওয়া অনেক পণ্য আমরা শেডে রাখতে পারছিনা।






মন্তব্য চালু নেই