মেইন ম্যেনু

বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না প্রবাসী মাসুমের

প্রায় ৩ বছর আগে ধার-দেনা করে ভাগ্যের চাকা সচল করতে বাবা ইলিয়াছ ঢালী ছেলে মাসুমকে দুবাই পাঠিয়েছেন। ধার দেনা শোধ না হতেই বাবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।

যে ছেলে সংসারের অভাব মোচনের দায়িত্ব নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে, আজ লাশ হয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় তিনি।

অথচ কথা ছিল আগামি জুন মাসে ছেলে দেশে ফিরবে। আর তখনই ছেলেকে বিয়ে করাবেন। সেভাবেই চলছিল প্রস্তুতি। কিন্তু বিধিবাম।

বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলো না মাসুমের। সবাইকে কাঁদিয়ে ছেলে মাসুম ঢালী চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

শনিবার বেলা ১২টায় আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ৪ বাংলাদেশিসহ ১৫ শ্রমিক নিহত হন। এদেরই একজন চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের ইলিয়াছ ঢালীর বড় ছেলে মাসুম ঢালী (২৩)। ৩ ভাই, ২ বোনের মধ্যে সবার বড় মাসুম।

ছেলের অকাল মৃত্যু মা নাজমা বেগম কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ছেলের শোকে শুধুই চোখের পানি ফেলছেন আর বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। যখনই জ্ঞান ফিরছে তখনই ছেলেকে খুঁজছেন।

‘কোথায় গেলিরে আমার মাসুম, মা-রে কি দিয়া গেলি, আমি তোরে ছাড়া কি নিয়া বাঁচুম’- এভাবেই পাগলের মতো প্রলাপ করছেন আর জ্ঞান হারাচ্ছেন মা নাজমা বেগম।

বাবা ইলিয়াছ ঢালীও শোকে পাথর হয়ে গেছেন। রোববার বিকেলে বিষ্ণুপুরের ঢালী বাড়িতে গেলে বাকরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি জানান, আগামি জুন মাসে ছেলে দেশে আসবে, তাকে বিয়ে করাবো। সে আশা নিয়ে বউ দেখা শুরু করেছিলাম।

কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় ছেলের মৃত্যু সংবাদ শুনে নির্বাক হয়ে গেছি, আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা আসছে না। তিনি আবেগাপ্লত কণ্ঠে বলেন, ‘এখন কি হবে আমার, কে চালাবে আমার সংসার।’

ছোট দু’বোন ইতি ও ফাতেমাও যেন আদরের বড় ভাইকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তাদের বুঝি আর দেখার কেউ রইলো না।

এদিকে ওই সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের দু’জন মারা গেলেও নিহত আলমগীরের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে মতলবে তার বাড়ি বলে চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।






মন্তব্য চালু নেই