মেইন ম্যেনু

বিএমআই কলেজের প্রভাষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানীর অভিযোগ

হামিদা আক্তার, নীলফামারী : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গহরপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিএমআই ইন্সটিটিউটের এর প্রাক্তন এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে ঐ ছাত্রীর বাড়ীতে আটক করা হয় প্রভাষক আহসান হাবিবকে। সে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই ফুলছড়ি গ্রামের মোঃ আমজাদ হোসেনের পুত্র। গত ২৭ মার্চ রাতে প্রভাষক হাবিব তার প্রাক্তন ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে যৌন হয়রানীর চেষ্টা কালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখেন। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় মিমাংশা না হলে আটককৃত প্রভাষকের স্ত্রী থানায় স্বামী উদ্ধারের অভিযোগ দেওয়ায় ডিমলা থানা পুলিশের এসআই ফিরোজের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ প্রভাষক আহসান হাবিবকে উদ্ধারে ঘটনাস্থল একই গ্রামের ঐ ছাত্রীর বাড়ীতে যান। এ সময় পুলিশের কাছে ঐ ছাত্রী যৌন হয়রানীর অভিযোগ এনে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। ঘটনার বিবরণে জানা য়ায়, গহরপুর বিএমআই স্কুল এন্ড কলেজে ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে তা সন্তোষজনক ভাবে পাশ করে ঐ ছাত্রী। পরে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৪ সালে এই্চএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হয় সে। এরই মধ্যে ঐ ছাত্রীকে প্রভাষক আহসান হাবিব বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের খাতা কাটতে তার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায় অভিযোগকারী ছাত্রীকে। এভাবে দীর্ঘদিন খাতা কাটতে নিয়ে গিয়ে এক সময় প্রেমের প্রস্তাব দেয় প্রভাষক। কমলমতি ঐ ছাত্রী প্রভাষকের নানা প্রলোভনে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সে। এদিকে ঐ ছাত্রী একটি নার্সিং ইন্সটিটিট এ ভর্তি হয়ে বর্তমানে সে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। নার্সিং এ পড়াশুনার পাশাপাশি প্রভাষক আহসান হাবিব ফুসঁলিয়ে একজন মৌলভী দিয়ে মেয়েটির সাথে একটি বিয়ের নাটক করে বিয়ে করে ফেলেন। এরপর থেকে ঐ ছাত্রীকে নিয়ে একটি জেলা শহরের নাসির্ং ইন্সটিটিউ এর পাশেই এক বান্ধবীর বাড়ীতে একটি রুম ভারা করে প্রায় ৮ মাস সংসার করে তারা। এভাবে ঐ ছাত্রীকে নিয়ে প্রভাষক তার বিভিন্ন বন্ধুদের বাড়ীতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাত্রী যাপন করেন। এর মধ্যে ছাত্রীটি সামাজিক ভাবে তার বিয়ের স্বীকৃতি পেতে চাপ দিতে থাকে প্রভাষক আহসান হাবিবকে। কিন্তু ঠক, প্রতারক ও বিশ্বাস ঘাতক প্রভাষক ঐ ছাত্রীটিকে আর পাত্তা না দিয়ে সটকে পরেন। এতদিন যা হয়েছে ছাত্রীটির সাথে তা সবই ছিলো ঐ প্রভাষকের ছলচাতুরী ও অভিনয়। যা কোন দিন বুঝতে পারেনি সহজ সরল কোমলমতি ঐ ছাত্রী। এদিকে গত ১৫ এপ্রিল/১৬ তারিখে প্রতারক প্রভাষক রাজশাহী থেকে একটি মেয়েকে আবারও বিয়ে করে তার গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসেন। এ ঘটনা জানতে পেরে ঐ ছাত্রী নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে বাড়ীতে এসে উপজেলা সদরে থাকা প্রভাষকের বড় ভাই ও আত্বীয় স্বজনক তাদের সম্পর্কের কথা খুলে বলেন। কিন্তু কিছুতেই আর ধরা দেয়নি প্রতারক প্রভাষক আহসান হাবিব। এরপর গহরপুর বিএমআই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বরাবরে ঐ ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করলে তাতেও কোন কাজ না। এরপর স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিচার দিয়েও পায়নি বিচার মেয়েটি। বাবা হারা মেয়েটি বিচার না পেয়ে শুধুই দু’চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলো না তার। এসব ঘটনার প্রায় ১ বছর পর গত ২৪ মার্চ মেয়েটি নাসিং ইন্সটিটিউ থেকে বাড়ীতে আসে তিন দিনের ছুটিতে। মেয়েটিকে বাড়ীতে আসতে দেখে আবারও লম্পট প্রভাষকের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ঐ ছাত্রীর উপর। ২৭ মার্চ রাত অনুমান ৮ টার দিকে বিদ্যুৎ নেই, বাড়ীর সবাই বিভিন্ন কাজে ব্যস্থ, ফাঁকা পেয়ে সুযোগ বুঝে আবারও মেয়েটি ফুঁসলিয়ে যৌন হয়রানীর চেষ্টা কালে মেয়েটি চিৎকার করলে ছুটে আসে মা-চাচি ও এলাকাবাসীর অনেকেই। হাতে নাতে ধরা পরে ফেলে এই প্রতারক প্রভাষককে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে চেষ্টা করা হয় স্থানীয় মিমাংশার। কিন্তু মেয়েটি সাফ জানিয়ে দেয় আমি কোন কিছুই তার কাছে চাই না। শুধু চাই বিয়ের স্বীকৃতি। আমি তাকে এক ঘন্টার জন্য বিয়ে করে সাথে সাথেই তালাক দিবো এই প্রতারককে। কোন ভাবে তার সাথে সংসার করার ইচ্ছা আমার নেই। কিন্তু সমাজে আমি বিয়ের স্বীকৃতি চাই। কিছুতেই মিমাংশা না হওয়ায় প্রতারক প্রভাষকের স্ত্রী তাকে উদ্ধারে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ঐ ছাত্রীর মুখে এসব কথা শুনে লম্পট প্রভাষককে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে থানায়। তখন রাত প্রায় ৩ টা। এ ঘটনায় প্রভাষক আহসান হাবিবের আত্বীয় স্বজনেরা তাকে থানা থেকে ছাড়াতে মড়িয়া হয়ে ওঠে। শুরু করে দৌড়ঝাঁপ। ঘটনার পরের দিন সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মেয়েটির মহর আনা বাবাদ দিয়ে এবং সেই মেয়েটি তাকে তালাক দিয়ে স্থানীয় ভাবে মিমাংশা করে ফেলেন। মিমাংশা পত্র পেয়ে থানা পুলিশ রাতভর থানায় হাজতে থাকা প্রতারক প্রভাষককে আহসান হাবিবকে ছেড়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খানা জানান, মেয়েটি এতিম তাই তার দিকে চেয়ে স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ডিমলা থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়িিট স্থানীয় আপোষ মিমাংশা হওয়ায় অভিযুক্ত প্রভাষককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই