মেইন ম্যেনু

বাবুর্চি থেকে জঙ্গি ‘রাজীব গান্ধী’

রাজধানীর গুলশানে জঙ্গি হামলায় জড়িতদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় প্রথম আটক হন রাজীব গান্ধী। বিভিন্ন সময় নানা নামেই পরিচিত রাজীব গান্ধী প্রথম জীবনে ছিলেন বাবুর্চি। সেখান থেকে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

গত বছর দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয় গুলশানে। ওই হামলায় রাজীব গান্ধীকে অন্যতম ‘পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে গুলশান হামলায় জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন রাজীব গান্ধী।

গত ১৩ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতারের পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার নিম্ন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে রাজীবের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পশ্চিম রাঘরপুর ভূতমারীঘাট এলাকায় বলে জানা যায়।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্রে জানা যায়, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমানের জামাতা আবদুল আওয়ালের রান্নার বাবুর্চি (পাচক) ছিলেন রাজীব গান্ধী। সেখান থেকে ধীরে ধীরে শীর্ষ জঙ্গিতে পরিণত হন। আত্মরক্ষায় জাহাঙ্গীর আলম, সুভাষ, শান্ত, টাইগার, আদিল, জাহিদ নামেও পরিচয় দেন রাজীব।

জানা গেছে, রাজীব গান্ধী নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা হলেও জঙ্গিবাদের সঙ্গে তার যোগসাজশ পুরনো। জেএমবি আমলেই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি। গত দশকে জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষস্থানীয় নেতা আব্দুল আওয়ালের বাবুর্চির কাজ করার সময় তিনি বগুড়ায় ছিলেন। সাইকেলে আব্দুল আওয়ালের নানা বার্তা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়ার কাজ করতেন তিনি।

শায়খ রহমান ও আব্দুল আউয়ালসহ শীর্ষ জেএমবি নেতাদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের পর নব্য জেএমবি হিসেবে পুনর্গঠিত এই জঙ্গি গোষ্ঠীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসেন রাজীব গান্ধী।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জানায়, জেএমবিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করলেও বাবুর্চির ভূমিকা নিয়ে চলফেরা করতেন রাজীব। পরবর্তীতে আওয়াল গ্রেফতার হলেও অজানা থেকে যায় বাবুর্চি রাজীবের নাম।

জেএমবিতে ২০১১ সালে বিভক্তির পর ২০১৪ সালে নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় রাজীবের। এরপর তার পরিকল্পনায় শুরু হয় একের পর এক হত্যা মিশন।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন রাজীব। উত্তরবঙ্গে তার পরিকল্পনাতেই হামলা হতো। হিন্দু পুরোহিত, খ্রিষ্টান যাজক, বিদেশি ও শিয়া মসজিদে হামলাসহ ২২ মামলার আসামি রাজীব।

গুলশানের হামলায় জড়িত শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ ও খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাঁধনকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে রাজীবই সম্পৃক্ত করেন এবং প্রশিক্ষণ দেন। ওই দুজনই পুলিশি অভিযানে নিহত হন। এছাড়া শোলাকিয়ার হামলায় গ্রেফতার হওয়া শফিউলকেও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে তিনি সম্পৃক্ত করেন। পরে বন্দুকযুদ্ধে শফিউলও নিহত হয়।

গুলশান হামলার পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন রাজীব। এ হামলার আগে জঙ্গিরা বসুন্ধরার একটি বাসায় পরিকল্পনা করে। সেখানে রাজীবের স্ত্রী-সন্তানরা উপস্থিত ছিল।






মন্তব্য চালু নেই