মেইন ম্যেনু

বাবা-মামা না নিলে শিশুটি যাবে ছোট মণি নিবাসে

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মা মারা যাওয়া শিশু সোহানার (৩) স্বজনদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার বাবার নাম এস এম সোহাগ (৩৫)। নারায়ণগঞ্জের বন্দর বাজারের কাছেই তাঁদের বাড়ি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, সোহানার বাবা-মামা নিতে না চাইলে তাকে সরকারিভাবে ঢাকায় ‘ছোট মণি নিবাস’-এ পাঠানো হবে।

ফরিদপুর হাসপাতালে গত শনিবার ভর্তির তিন ঘণ্টার মধ্যে সোহানার মা সৌখিন (গতকাল শিশুর নাম মাইশা ও মায়ের নাম সখিনা লেখা হয়) মারা যান মা। হাসপাতালের খাতায় পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাঁদের স্বজনদের পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে ‘মা যাচ্ছেন কবরে, শিশুটি যাবে কোথায়?’ শিরোনামে গতকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে সোহানা-সৌখিনের স্বজনদের পরিচয় পাওয়া যায়।

সোহানার ১৪ বছর বয়সী এক ভাই আছে। নাম সোহাদ। সে ফরিদপুর শহরের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে। তাদের মা সৌখিন ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের মৃত ফারুক বিশ্বাসের মেয়ে। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট সৌখিন।

সৌখিনের চাচা ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, সৌখিন পরিবারের অমতে বিয়ে করায় স্বজনেরা ওই বিয়ে মেনে নেননি। পরে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু পরিবার তাঁকে গ্রহণ করেনি।

সৌখিনকে ফুপাতো বোন দাবি করে সৌখিনের স্বামী সোহাগ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ২০০১ সালে তাঁরা সৌখিনের পরিবারের অমতে বিয়ে করেন বলে ওই পরিবার তাঁদের মেনে নেয়নি। সোহাগের দাবি, ‘সৌখিনের সঙ্গে আমার বনিবনার কোনো সমস্যা ছিল না। দুই মাস আগে সৌখিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাড়িতে যায় সম্পত্তির হিসাব নিতে।’ সোহাগ অভিযোগ করেন, সৌখিন বাড়িতে গেলে তাঁর ভাই সোহাগ বিশ্বাস মারপিট করে সৌখিনকে তাড়িয়ে দেন। পরে সৌখিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোহাগ বলেন, ‘আমি ফরিদপুর যাচ্ছি, আমি এ ব্যাপারে সোহাগ বিশ্বাসের নামে মামলা করব।’

এ অভিযোগ প্রসঙ্গে সৌখিনের ভাই সোহাগ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার সঙ্গে দীর্ঘকাল সৌখিনের দেখা হয়নি। আমি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। দুই বছর আগে দেশে ফিরেছি। এ অভিযোগ সঠিক নয়। ডিসি সাহেব আমাকে কাল তাঁর কার্যালয়ে ডেকেছেন। আমার যা কথা, তা আমি ডিসি অফিসেই বলব।’

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ‘সোমবার বিকেলে শিশু সোহানাকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত ছোট মণি নিবাসে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে আমার কার্যালয়ে সভা করছিলাম। ওই সময় শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে আজাদ অটো ওয়ার্কশপের মালিক মো. আজাদ ১৪ বছরের এক ছেলেকে নিয়ে হাজির হয়ে জানান, এই ছেলেটির নাম সোহাদ। সে শিশু সোহানার ভাই। তাঁর ওয়ার্কশপে কাজ করে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ওই সময় শিশু সোহানা তার ভাইকে চিনতে পারে। আমরা মোবাইলে সোহাদের বাবা ও মামার সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের মঙ্গলবার ফরিদপুর আসতে বলেছি। তাঁদের সঙ্গে আলাপ করে শিশুটিকে কার হাতে তুলে দেওয়া যায়, সে সিদ্ধান্ত নেব। যদি বাবা ও মামা শিশুটিকে গ্রহণ করতে রাজি না হন, তাহলে সরকারিভাবে শিশুটিকে ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত ছোট মণি নিবাসে স্থানান্তর করা হবে।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ফরিদপুরে আসার পর সৌখিন তাঁর বাবার পরিবারে গেলে তাঁরা গ্রহণ করেননি। অসুস্থ সৌখিন একটি ওয়ার্কশপে তাঁর ছেলেকে রাখেন; আর নিজে মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা শুরু করেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিমউদ্দিন আহমেদ জানান, শিশুটির মা সৌখিনকে সোমবার বিকেলে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ফরিদপুর শহরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।খবর প্রথম আলো’র।






মন্তব্য চালু নেই