মেইন ম্যেনু

বঙ্গবন্ধুর রাত কাটানো সেই বাড়িটি জরাজীর্ণ

দীর্ঘ ৬ দশক ধরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বহন করে আসছে ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার বাখরবা গ্রামের একটি ঘর। ১৯৫৪ সালের কোন একসময় এই ঘরটিতে রাত্রি যাপন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে জরাজীর্ণ অবকাঠমো নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে মাটির ভিটার এই ঘরটি। অথচ শৈলকুপা উপজেলার অধিকাংশ মানুষ জানে না সে ইতিহাস। যারা জানে, তাদের কেউ কেউ এক নজর দেখতে আসে এই ঘরটি।

এখানে এলে কিছুটা হলেও যে কেউ হবেন স্মৃতিকাতর। এই ঘরটি তৎকালীন পাকিস্থানের জাতীয় প্রাদেশিক পরিষদ ও স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত অধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের বসত বাড়ি।

তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের পক্ষে নৌকা প্রতিকের প্রচারনায় তিনি এই অজপাড়াগাঁ বাখরবা গ্রামে এসেছিলেন। বর্তমানে বাড়িটিতে বসবাসকারী অধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের ভাতিজা আশফার আহাম্মেদ বেলাল জানান, ১৯৫৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান।

ঝিনাইদহ-শৈলকুপা-হরিনাকুন্ডু আসনে যুক্তফ্রন্টের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে প্রচারনার জন্য বঙ্গবন্ধু এখানে এসেছিলেন। তিনি ট্রেন যোগে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া হয়ে খোকসা আসেন। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়াই নদী পার হয়ে বাখরবাতে আসেন। বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসল করেন বঙ্গবন্ধু।

দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেলে কাতলাগাড়ী বাজারে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেন। রাতে কামরুজামানের বাড়িতে গেস্টরুমে রাত্রি যাপন করেন। সকালে তিনি ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন ও শেখ আজিজ। বঙ্গবন্ধুর রাতে অবস্থান নেয়া সেই ঘরটি আজ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

৬৩ বছর পার হয়ে গেলেও ঘরটি সংস্কার অথবা রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এই ঘরটি যেন সরকারী ভাবে দ্রুত রক্ষণা বেক্ষেনর উদ্যোগ নেয়া হয়।






মন্তব্য চালু নেই