মেইন ম্যেনু

প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, উত্তাল ভারতের রাজনীতি

ভারতের উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে দেশটির রাজধানীতে নতুন করে তুমুল আলোচনার ঝড় তুলেছেন বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার।

তিনি বলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দেখতে সুন্দর। তাই কংগ্রেস তাকে প্রচারে তুলে ধরছে। তবে তার মতো সুন্দরী নারীর অভাব বিজেপিতে নেই। বরং প্রিয়াঙ্কার থেকে অনেক সুন্দর নারী তাদের দলে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাটিয়ার।

এদিকে, কাটিয়ারের মন্তব্যের সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস। তার এই মন্তব্যে যৌন ইঙ্গিত রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, ওই মন্তব্যে দেশের নারীদের বিজেপি কী চোখে দেখে, সেটাই বোঝা গেল। অথচ, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবার্ট ভদ্র বলেছেন, কাটিয়ারের এই মন্তব্যে তিনি চমকে গিয়েছেন। কাটিয়ারের মন্তব্য অশালীন ও নারীবিদ্বেষী বলেও মন্তব্য করেছেন রবার্ট।

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, কাটিয়ারের এই মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপি দলকেই ক্ষমা চাইতে হবে। ট্যুইট করে তিনি বলেছেন, বিজেপি যে নারীদের শুধুমাত্র একটা পণ্য হিসেবেই দেখে, এই মন্তব্যে তারই প্রমাণ মিলেছে। তিনি আরও বলেছেন, ভারতীয় নারীদের ক্ষমতা, শক্তি ও ত্যাগের পরিবর্তে শুধুমাত্র তাদের শারীরিক লক্ষণের ভিত্তিতে মন্তব্য করা বিজেপির সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়। সুরজেওয়ালা বিনয় কাটিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ভারতীয় নারী সমাজকেই অপমান করেছেন বিজেপি নেতা।

বিনয়ের কথার সূত্র ধরে মুখ খোলেন বিজেপির নেতা বেঙ্কাইয়া নায়ডু। তার বক্তব্য, কে কী বলেছেন তিনি শোনেননি। তবে টিভিতে বিনয় কাটিয়ার নাম আসছে বলে দেখেছেন। বেঙ্কাইয়ার দাবি, ‘‘এমন কথা কারওরই বলা উচিত নয়। প্রিয়ঙ্কাকে নিয়ে নয়, কাউকে নিয়েই নয়। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারি, শত্রু নই। দল এ রকম কথাবার্তা সমর্থন করে না। ’’

প্রশ্ন হল, দল যদি এমন কথা সমর্থন নাই করে তা হলে বিনয় কাটিয়ারকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হল না কেন? কেউ কেউ কিন্তু মনে করছেন, কাটিয়ারের এই কথার পিছনে দলীয় নেতৃত্বের পরোক্ষ মদত থাকতেও পারে। সরাসরি প্রিয়াঙ্কাকে আক্রমণ করে হয়তো প্রিয়াঙ্কার গুরুত্বকে বাড়িয়ে দেখাতে চাইছে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশের ভোটের আগে রাহুলের থেকে প্রিয়াঙ্কাকে বড় করে দেখিয়ে গান্ধী পরিবারে চিড় ধরানোর কৌশল হতে পারে। রাহুল আর অখিলেশের (সমাজবাদী পার্টির প্রধান) হাত মেলানোর পর কি একটু বেশিই শঙ্কিত মোদির দল? ঘরোয়া মহলে বিজেপির কিছু নেতা কিন্তু সে কথা অস্বীকার করছেন না।

সূত্র: আনন্দবাজার ও এবিপি আনন্দ






মন্তব্য চালু নেই