মেইন ম্যেনু

প্রতিদিন ১০ বোতল করে কোকা-কোলা খেয়েছিলেন একমাস, পরিণাম হল ভয়াবহ

কোল্ড ড্রিংক খাওয়ার অভ্যেস থাকে অনেকেরই। কিন্তু শরীরে ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়ে, যখন আপনি টানা এক মাস ধরে রোজ ১০ ক্যান কোকা-কোলা খেয়ে যান? এই ধরনেরই একটি প্রশ্ন ভাবিয়েছিল লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা জর্জ প্রায়রকে। জর্জ দেখতে চেয়েছিলেন, অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিংক পান করলে মনুষ্যশরীরে ঠিক কী ঘটে? এই এক্সপেরিমেন্টের অঙ্গ হিসেবে ৫০ বছর বয়সি জর্জ ঠিক করেন, টানা এক মাস সময় ধরে রোজ কোকা-কোলার ১০টি ক্যানের পানীয় পান করবেন। তার পর দেখবেন, এর পরিণাম কী হয়।
নিজের এই অভিনব এক্সপেরিমেন্টের বিষয়টি তিনি একেবারে প্রথম থেকেই ভিডিওবন্দি করে রেখেছিলেন। নির্দিষ্ট এক মাস কেটে যাওয়ার পরে তিনি সেই ভিডিও আপলোড করেছেন ইউটিউব-এ। তাতে ধরা পড়েছে, টানা তিরিশ দিন ১০টি ক্যানের কোল্ড ড্রিংক পান করে গেলে মানবশরীরে তার কী ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে নিজের ভিডিওটির দৌলতে যথেষ্ট পরিচিতি অর্ডন করে ফেলেছেন জর্জ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তাঁর পরীক্ষা সম্পর্ক‌ে আগ্রহী হয়ে যোগাযোগ করেছিল তাঁর সঙ্গে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। এই একমাস ঠিক কী ঘটে গিয়েছে তাঁর শরীরে? জর্জ জানাচ্ছেন, এই পরীক্ষা শুরু করার দিন কয়েকের মধ্যেই তিনি লক্ষ্য করেন, মিষ্টি জিনিসের প্রতি তিনি একটা আসক্তি অনুভব করছেন। ‘এমনিতে আমার কোনও রোগ নেই, একেবারে নর্ম্যাল ডায়েট ফলো করতাম আমি। কিন্তু দিন কয়েক রোজ ১০ ক্যান করে কোকা-কোলা গলায় ঢালবার পরেই খেয়াল করলাম, সারাক্ষণ কেমন মিষ্টি জাতীয় জিনিস খেতে ইচ্ছে করছে। শুধু তা-ই নয়, কোকা-কোলা খাওয়ার ব্যাপারটাও কেমন নেশার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।

কোকা-কোলা দিয়ে গলা না ভেজালে যেন থাকতেই পারতাম না।’
কিন্তু মিষ্টি জিনিস, কিংবা কোল্ড-ড্রিংকের প্রতি আকর্ষণ তো অনেকেরই থাকে। জর্জ বলছেন, ‘আরও অনেক ক্ষতিকর প্রভাবও পড়ছিল শরীরে। পেটটা যেন সারাক্ষণ ভারি হয়ে থাকত। দিনে বহু বার টয়লেটে যেতে হত। খিদে কমে গিয়েছিল।’
তবে সবচেয়ে মারাত্মক যে প্রভাবটি পড়েছে জর্জের শরীরে তা হল এই যে, মাত্র এক মাসে তাঁর ওজন ২৩ পাউন্ড বেড়ে গিয়েছে। এক্সপেরিমেন্ট শুরু করার সময়ে জর্জ রীতিমতো স্বাস্থ্যবান ছিলেন। তাঁর ওজন ছিল ১৬৭ পাউন্ড (৭৫.৫ কেজির মতো)। নিয়মিত এক্সারসাইজ করার অভ্যেস ছিল তাঁর। শরীরচর্চা তিনি এই এক মাসে বন্ধ করেননি। কিন্তু তাঁর ওজন বে়ড়ে হয়ে গিয়েছে ১৯০ পাউন্ড (৮৬ কেজির চেয়ে একটু বেশি)। রীতিমতো নাদুস-নুদুস চেহারা এখন জর্জের।

জর্জের ব্যাখ্যা, ‘আমি আমার সাধারণ ডায়েটে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আনিনি। সুতরাং, ওজন বে়ড়েছে কোকা-কোলায় থাকা শর্করার প্রভাবে। আমি আর জীবনে কখনও কোল্ড ড্রিংক খেতে চাই না।’

দুই ছেলের বাবা জর্জ এর পরেই কোল্ড ড্রিংক-প্রেমীদের জন্য উচ্চারণ করছেন সতর্কবার্তা, ‘নিজেদের ডায়েটে শর্করা বা মিষ্টির পরিমাণ সম্পর্কে প্রত্যেকের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বহু বাচ্চা, এবং কিশোর-কিশোরীও দেখেছি, কোল্ড ড্রিংক খেতে খুব ভালবাসে। তাদের বাবা-মাকে অনুরোধ করব, নিজেদের সন্তানদের কোল্ড ড্রিংক খেতে দেবেন না। নয়তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। আর অনেক বাবা-মার ধারণা রয়েছে যে, ফ্রুট জুস খাওয়া খুব নিরাপদ বা স্বাস্থ্যকর। তাঁদের জানাই, বাজারি ফ্রুট জুসেও কিন্তু প্রচুর পরিমাণে কৃত্রিম শর্করা থাকে। কাজেই এই ধরনের ফলের রস থেকেও দূরে রাখুন নিজেদের বাচ্চাদের।’






মন্তব্য চালু নেই