মেইন ম্যেনু

পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ খতিয়ে দেখতে স্ত্রীর আহ্বান

একজন সামান্য পুলিশ কর্মকর্তা কিভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খোদ তার স্ত্রী। এছাড়া স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন, পরকীয়া, মাদকাসক্তিসহ নানা অভিযোগ এনেছেন নাছরিন আক্তার রুমা নামে এক গৃহবধূ।

শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন রুমা। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী পুলিশ পরিদর্শক রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী একজন চোরাকারবারি। মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে রয়েছে তার সখ্য। এভাবে তিনি গড়েছেন অঢেল সম্পদ।

বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা স্ত্রীর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর রেফায়েত উল্লাহকে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় রুমা বলেন, ‘১৯৯৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার লাকসাম থানার সাতবাড়িয়া গ্রামের রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীর সাথে বিয়ে হয় আমার। দুই বছর আগে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় রেফায়েত মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত হয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন এবং হ্যাপী চৌধুরী নামের এক নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। বিষয়গুলো জানার পর প্রতিবাদ করায় আমাকে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। হ্যাপী চৌধুরীও হয়রানি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ১৮ বছর সংসার করেছেন এখন স্বামী ছেড়ে দিন, আমি সংসার করবো।’

নাছরিন বলেন, ‘হ্যাপী ও রেফায়েতের সম্পর্কের বিষয়ে সারা চট্টগ্রাম জানে। এসবের প্রতিবাদ করায় রেফায়েত আমার বৃদ্ধ বাবাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেন। শুধু তাই নয়, আমার কাছ থেকে আমার দুই মেয়ে রাইসা ও নানজীবাকে কেড়ে নেন। আমার সব গহনা ও অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে আমাকে মারধর করেন, পরে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এক কাপড়ে চলে আসতে বাধ্য হই।’

রুমা আরও বলেন, ‘আমার স্বামী এতোই লম্পট যে আমাদের বিয়ের আগেও তিনি বহু নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যশোর কোতয়ালী থানায় এসআই পদে চাকরি করা অবস্থায় নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা আমি নিজে উপস্থিত থেকে মিটিয়ে দিই। কিন্তু সন্তানদের কথা চিন্তা করে মুখ বুজে সব সহ্য করি। কিন্তু তাতেও রেফায়েত শান্ত না হওয়ায় বাধ্য হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করি।’

পুলিশ কর্তার স্ত্রী বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর থেকে রেফায়েত আমাকে ও আমার ভাই মনিরুজ্জামানকে হত্যার জন্য হুমকি দিয়ে চলেছেন। এমনকি সন্ত্রাসীও ভাড়া করেছেন পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে। এই মামলায় ৩০ এপ্রিল ধার্য্য দিন রয়েছে। এই মামলা তুলে নেয়ার জন্য তিনি খুলনায় এসে হুমকি দিয়ে চলেছেন। তিনি বলেছেন, ৩০ তারিখ যদি জেলে যাই তাহলে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুর কাহিনী বানিয়ে ছাড়বো।’

গত ১৮ জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন নাছরিন আক্তার। ওই মামলায় ৭ মার্চ রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। রবিবার এই মামলায় শুনানির দিন ধার্য আছে।






মন্তব্য চালু নেই