মেইন ম্যেনু

পটুয়াখালীতে লঞ্চডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩, নিখোঁজ ২০

পটুয়াখালীর গলাচিপায় কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় নারী-শিশুসহ দশ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাঁতরে তীরে উঠেছে অন্তত ১৫ জন। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২০ জন যাত্রী।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ইছাদী মিয়ার বাড়ির মোড় রামনাবাদ নদীতে এমভি শাথিল-১ নামে লঞ্চটি ডুবে যায়। রাত ৮টা পর্যন্ত আটজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে রোববার ভোরে উদ্ধার কাজ ফের শুরু হলে সকাল ৮টা পর্যন্ত নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আরও পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
এদিকে খুলরা ও বরিশাল থেকে দুটি উদ্ধারকারীদল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রামনাবাদ নদীর তীরে নিখোঁজের স্বজনরা ভির করছেন। নদীর তীরে চলছে কান্নাররোল।
উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ পরির্দশক (এসআই) হালিম খন্দকার জানান, ভোরে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আরও পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছে। এসময় উদ্ধার কাজে খুলরা ও বরিশাল থেকে দুটি উদ্ধারকারীদল উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। এখনো আরো অন্তত ২০ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।
কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য খলিলুর রহমান জানান, লঞ্চডুবির পর অন্তত ১৫ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। বাকিরা নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারকারীরা নদী থেকে ১৩ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে লঞ্চটি গলাচিপা থেকে ইছাদি মিয়া বাড়ির মোড়ে পৌঁছলে হঠাৎ কালবৈশাখীর কবলে পড়ে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তারা পাঁচ নারী, এক পুরুষ ও দুই শিশুসহ ১৩ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করে।
কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) হালিম খন্দকার বলেন, উদ্ধার হওয়া মতৃদেহের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। লাশের সুরাতহাল চলছে। তবে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালী বিআইডব্লিউইটিএ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চটি উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বরিশাল থেকে রওনা হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার তৎপরতায় চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু নিখোঁজ যাত্রী রয়েছে তাই উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজে যথেষ্ট সহায়তা করছে।’
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার বলেন, ‘উদ্ধার কাজে অংশ নেয়ার জন্য পটুয়াখালী থেকে দমকল কর্মীদের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। খুলরা ও বরিশাল থেকে রোববার ভোরে দুটি উদ্ধারকারীদল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে গলাচিপা থেকে পটুয়াখালী আসছিল এমভি শাথিল-১। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লঞ্চটি কলাগাছিয়া এলাকায় পৌঁছালে রামনাবাদ নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে। এসময় প্রবল বাতাসে লঞ্চটি নদীতে ডুবে যায়।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই