মেইন ম্যেনু

পচা ধানে হাওরে মাছের মড়ক

অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে হাওরের হাজার হাজার একর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর সেখানে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। ধান পচে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এ অবস্থা হচ্ছে বলে মনে করছেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা।

একে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি, মদন, আটপাড়া উপজেলার হাওর অঞ্চলের মানুষ। কারণ, একফসলি ধান আর বর্ষাকালের মাছ—এ দুই নিয়েই হাওরের জীবন ও জীবিকা। কিন্তু চৈত্রের শেষ দিকে হাওরের প্রায় সব ফসল ডুবে যায় আর এবার লেগেছে মাছের মড়ক।

স্থানীয়রা জানান, হাওরের মিঠাপানির মাছের মধ্যে বোয়াল, আইড়, রুই, কাতলা, ইলিশ, পাবদা, মেনি, বাইম, গনিয়া এবং ছোট মাছের মধ্যে পুঁটি, চিংড়ি, চাপিলা, টেংরা, গোলশা মাছ ও মাছের লাখ লাখ রেনু পোনা মরে পানিতে ভেসে উঠছে। দেখা গেছে কাঁকড়া, বিষধর সাপ, শামুক, ঝিনুক মরে পানিতে ভাসছে। এর মধ্যে পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছের পরিমাণ বেশি। দুদিন ধরে জেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে এ ঘটনা বেশি ঘটছে।

হাওরপাড়ের গ্রামবাসী ভেসে ওঠা মাছ সংগ্রহ করছে। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেশি পচা মাছ ও জলজ প্রাণী চিল, কাকে খাচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। হাওরে পানি কমতে শুরু করেছে। ধান পচে সাদা রঙের পানি কোথাও কোথাও কালো ধারণ করেছে।

বানিয়াহারী গ্রামের বিলাল মিয়া জানান, পানির দুর্গন্ধে বাড়িঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে।

হাটনাইয়া গ্রামের আবদুল মোতালেব জানান, পানির দুর্গন্ধে মাছ ভেসে ওঠায় সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে যে যেভাবে পারছে মাছ ধরছে।

জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ময়মনসিংহ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. খলিলুর রহমানসহ চারজনের একটি গবেষক দল ডিঙ্গাপোতা হাওর এলাকা পরিদর্শন করে। দলটি এখনো হাওরে অবস্থান করছে।

দলনেতা খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি ধানগাছ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে আধাপাকা, কাঁচা বোরো ধান পচছে। এর ফলে পানিতে অক্সিজেনের লেভেল এক পিপিএমের নিচে গেছে। আবার অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে শূন্য দশমিক ৫ ভাগ অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব।

মোহনগঞ্জ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা জানান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গবেষক দল ডিঙ্গাপেতা হাওরে ভেসে ওঠা মাছ ও হাওরের বিভিন্ন স্তরের পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন। আধুনিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করার পর তাঁরা জানিয়েছেন, এসব মাছ খাওয়ার উপযোগী। তাই লোকজন মাছ ধরছেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ড. মুশফিকুর রহমান মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, বিশাল জলায়তনে মাছের মড়ক ঠেকাতে প্রতিষেধক প্রয়োগ সম্ভব নয়।






মন্তব্য চালু নেই