মেইন ম্যেনু

“নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বিরিশিরি”

বিরিশিরি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর থানার ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। ইংরেজ শাসন আমলে স্থাপিত শত বছরের পুরনো বয়েজ ও গালর্স হাই স্কুল, সরকারী কালচারাল একাডেমী, সুমেশ্বরী নদী, সাগর দিঘী, দূর্গাপুর রাজবাড়ী, পুরাকীর্তি নিদর্শন মঠগড়, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ আর দর্শনীয় স্খানগুলোর কারনে পর্যটকদের কাছে এটির যেথষ্ট সুনাম আছে। স্থানীয় অধিবাসীদের ৬০ ভাগ গারো আদিবাসী ৩০ ভাগ মুসলিম, বাকি ১০ ভাগ হিন্দু ও অন্যান্য জনগোষ্ঠির।

কি কি দেখার আছেঃ

বিজয়পুর চীনামাটির খনি,রানীখং গীর্জা, কালচারাল একাডেমি, কমলা রাণী দিঘী, সোমেশ্বরী নদী ও কুল্লাগড়া মন্দির।

বিজয়পুরঃ
বিরিশিরির মূল আকর্ষণ বিজয়পুর চীনামাটির খনি। ছোট বড় টিলা-পাহাড় ও সমতল ভূমি জুড়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০০ মিটার প্রস্থ এই খনিজ অঞ্চল। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ১৯৫৭ সালে এই অঞ্চলে সাদামাটির পরিমাণ ধরা হয় ২৪ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন, যা বাংলাদেশের ৩শ’ বৎসরের চাহিদা পুরণ করতে পারে।[১] চীনামাটির পাহাড় গুলো সাদা রং এর। কিছু কিছু জায়গায় মেরুন বা হালকা লাল রঙ বিদ্যমান। পাহাড় থেকে মাটি তোলায় সেখানে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। বেশির ভাগ হ্রদ্রের পানির রঙ নীল। কিছু কিছু জায়গায় সবুজাভ নীল। কিছু জায়গায় সাদা, কিছু জায়গায় লাল। তবে হ্রদ থেকে পানি তুলে খনন করার জন্য লাল পানি এখন আর নেই। হ্রদের উপড় পাহাড় চূড়ায় কিছুক্ষণ জিড়িয়ে নিতে দারুন লাগবে। বিজয়পুর এর ট্যুরিষ্ট সিজন শীতকাল। তখন পানী গাঢ নীল থাকে।

রানীখং গীর্জাঃ
দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তে সোমেশ্বরী নদীর কোল ঘেঁষেই রানীখং মিশনটি একটি উচু পাহাড়ে অবস্থিত। ১৯১০ সালে এ রাণীখং মিশনটি স্থাপিত হয়। যেখান থেকে প্রকৃতিকে আরও নিবিড়ভাবে উপভোগ করা যায়।

কালচারাল একাডেমিঃ
বিরিশিরি কালচারাল একাডেমিতে উপজাতীয় সংস্কৃতি চর্চা করা হয়। এখানে প্রতি বছর উপজাতীয়দের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর জনসমাগম হয়।

কমলা রাণী দিঘীঃ
বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই কমলা রাণী দিঘী। এই কমলা রাণী দিঘী সাগর দিঘী নামেও পরিচিত। দিঘীটি পুরোপুরি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও এর দক্ষিণ পশ্চিম পাড় এখনও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে।

সোমেশ্বরী নদীঃ
বলা যায় এই নদীটি একটি কয়লা খনি। সারা দিন স্থানীয় দিন-মজুররা এই নদীতে কয়লা তোলে। দিন শেষে স্থানীয় মদুদদার দের কাছে কয়লা বিক্রি করে। মেঘালয়ের গারো পাহাড় থেকে নেমে এসেছে এই সোমেশ্বরী নদী যার আদি নাম ছিলো ‘সমসাঙ্গ’। বিজয়পুর, রানী খং এসব জায়গায় যেতে হলে এই নদী নৌকায় পাড় হতে হয়।

কুল্লাগড়া মন্দিরঃ
বিজয়পুর যাওয়ার সময় পথেই পড়বে কুল্লাগড়া মন্দির

বিরিশিরি যাওয়ার ব্যবস্থাঃ
ঢাকার মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি বিরিশিরির বাস পাবেন। ভাড়া ২০০ টাকা। বিরিশিরির বাস বলা হলেও সমেশ্বরী ব্রীজ এর কাজ শেষ না হওয়ার কারণে বাস থেকে নামতে হবে সুখনগরীতে। সেখানে ২ টাকা দিয়ে নৌকায় ছোট নদী পাড় হয়ে ওপাড় থেকে মোটর সাইকেল, রিক্সা, টেম্পু, বাসে দুর্গাপুর যেতে হবে। রাস্তা এক কথায় জঘন্য। এজন্য মোটর সাইকেলই সুবিধা জনক। ভাড়া নিবে ২ জন এর জন্য মোটর সাইকেল ১০০ টাকা, রিক্সা ৮০-১০০ টাকা, টেম্পু/বাস জনপ্রতি ২০ টাকা।

থাকার ব্যবস্থাঃ

সব চেয়ে ভালো থাকার জায়গা YWCA রেষ্ট হাউজ। বেশ সুন্দর, ছিমছাম, গোছানো। ২ টা সিঙ্গেল বেড এর রুম ভাড়া ৬০০ টাকা। ২ টা ডাবল বেড এর রুম ১০০০ টাকা, এছাড়া ৭ জন এর থাকার জন্য বড় রুম আছে। জনপ্রতি ২০০ টাকা। কাছাকাছি প্রায় একই মানের YMCA এর রেষ্ট হাউজ, কালচারাল একাডেমির নিজস্ব রেস্ট হাউজ ও জেলা পরিষদ ডাক বাংলো। এছাড়াও কম খরচের হোটেল স্বর্ণা আছে। এছাড়াও বেশ কিছু কম দামি হোটেল রয়েছে। YWCA/YMCA তে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। খাওয়ার জন্য একটু হেটে বাজারে যেতে হবে।

_উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী গেষ্ট হাউজ
ফোনঃ 09525-56042; মোবাইলঃ 01815482006
_জেলা পরিষদ ডাক বাংলাঃ 01558380383, 01725571795
_YMCA গেষ্ট হাউজঃ 01818613496, 01716277637, 01731039769
_YWCA গেষ্ট হাউজঃ 01711027901, 01712042916
_হোটেল গুলশান: 01711150807
_স্বর্ণা গেষ্ট হাউজ: 01712284698

বিরিশিরি থেকে যাওয়ার উপায়ঃ
বিজয়পুর, রানীখং, বিডিয়ার ক্যাম্প এসব ঘুরতে রিক্সা অথবা মোটর সাইকেল ভাড়া করতে হবে। সমেশ্বরী নদী পাড় হয়ে ওপাশে যেতে হবে। নদী পাড় হতে নৌকাকে দিতে হবে জনপ্রতি ৫ টাকা। আর মটর সাইকেল এর জন্য ১০ টাকা। মটর সাইকেল এ গেলে সব ঘুরে আসতে ৬ ঘন্টা মত সময় লাগবে। ১ টা মটর সাইকেলে ২ জন এর ভাড়া পড়বে ৫৫০-৬০০ টাকা। আর রিক্সায় গেলে ২ জন এ খরচ পড়বে ৪০০-৪৫০ টাকা। ফিরতে সময় লাগবে ৮ ঘন্টা মত। তবে রাস্তা খুবই খারাপ হওয়ায় মাটর সাইকেলে গেলে সুবিধা হবে।






মন্তব্য চালু নেই