মেইন ম্যেনু

নূর হোসেন প্রশ্নে সাংবাদিকদের দুষলেন প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাত হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন দেশ ছেড়ে পালানোয় সাংবাদিকদের ক্ষাণিকটা দুষলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকেলে গণভবনে জাপান সফর শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকের তিনি এ দোষারূপ করেন।

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন ও ফেনীর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নূর হোসেন জাতীয় পার্টি করতো। এরপর বিএনপি করেছে। আমরা ৯৬ এ ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগে এসেছে। অর্থাৎ যখন যে দল ক্ষমতায় আসে নূর হোসেন সেই দলের লোক হয়ে যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি সরকারে থাকলে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতো না। তাদের আমলে অনেক খুন হয়েছে। কোনো খুনেরই বিচার হয়নি। কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আওয়ামী লীগ কোনো ঘটনা ঢাকে না, আওয়ামী লীগ ব্যবস্থা নেয়। অপরাধী অপরাধীই, সে যে দলেরই হোক। আমরা কাউকে ছাড় দেবো না।’

একসময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নূর হোসেন সম্পর্কে আপনারা এতো অনেক কিছুই জানেন। আপনারা কিছু বলেননি কেন? তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতাম। সে পালাতে পারতো না।’

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি যারা সহযোগিতা করেছিলেন তাদের বাংলাদেশ সম্মাননা দিয়েছে। এতে ১৬ আনা সোনার স্থানে ১২ আনাই ভেজাল দেয়া হয়েছে, এ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার বক্তব্য কী সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে একটা প্রবাদ বাক্য প্রচলিত রয়েছে, স্বর্ণকাররা মায়ের গহণা বানালেও সোনা চুরি করে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বিদেশি যারা সহযোগিতা করেছিলেন তাদের সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এটাই অনেক বড় কিছু। এ নিয়ে হৈ চৈ করার কিছু নেই। হঠাৎ করে কিছু অতিউৎসাহী লোক এ নিয়ে কথা বলছেন। তাই এ নিয়ে কথা বলে প্রশ্নবিদ্ধ করার কিছু নেই। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বেগম খালেদা জিয়ার র‌্যাব বন্ধের দাবি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাব তো ওনার আমলে হয়েছে। যারা রক্ষিবাহিনী রক্ষিবাহিনী বলে চিৎকার করছেন। তারাই র‌্যাব সৃষ্টি করেছেন আওয়ামী লীগকে শাস্তি দেয়ার জন্য। অথচ তার আমলে এ র‌্যাব প্রায় ১ হাজার মানুষ মেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বললেন আর চট করেই র‌্যাব বন্ধ করা সম্ভব না। র‌্যাব অনেক সেন্সেটিভ ঘটনার সময়ে কাজ করেছে। গত কয়েকদিন আগে ১৬ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে।’

তিনি জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ চলছে এবং হবে। আর জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে উচ্চ আদালত দেখবেন।’ এসময় তিনি আইনমন্ত্রীর পক্ষ নিয়েও কথা বলেন।

আপনার (শেখ হাসিনা) আওয়ামী লীগে কিছু লোক তার দল ভারী করার জন্য জামায়াত-শিবিরকে টানছে এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা কী? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কিছু লোক রয়েছে যারা সরকারি দল। তারা স্থায়ী সরকারি দল। তাদের অনেকে দল ভারী করার জন্য জামায়াত-শিবিরকে কাছে টানেন। তাদের অতীত সম্পর্কে জানলে দেখা যাবে তারা সব সময়ই সরকারি দলের লোক। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন সেখানেই যায়। সরকারের ছত্রছায়ায় নিজের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়।’

দেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬-২০০১ সালে আমরা যে পরিকল্পনা করেছিলাম বিএনপি সরকার এসে তা বন্ধ করে দেয়। আবার ২০০৮ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করেছি। এখন ৬ষ্ঠ বার্ষিকী পরিকল্পনা চলছে। ৭ম বার্ষিকী পরিকল্পনার কাজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কারণ সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকলে দেশ এগুবে না।’

এসময় তার পাশে ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ঈমাম, সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই