মেইন ম্যেনু

নিয়মিত বৈঠক হয় না বেশিরভাগ সংসদীয় কমিটির

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগেরই নিয়মিত বৈঠক হয় না। মাসে অন্তত একটি করে বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও গত ৩ বছরে এক তৃতীংশ কমিটিই লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও করতে পারেনি। কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৯টির সংসদীয় কমিটির মাত্র ৩টি নিয়মিত বৈঠক করেছে। এগুলো হলো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়ক, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর বাইরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়সহ আরও ৭টি কমিটি বৈঠক অনুষ্ঠানে কিছুটা কাছাকাছি রয়েছে। বাকি কমিটিগুলোর বৈঠক একেবারেই অনিয়মিত। এক্ষেত্রে কোনও কমিটি দুই মাসে একটি, কোনও কমিটি ৩ মাসে গড়ে একটি বৈঠক করেছে। কমিটিগুলোর গত ৩ বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনায় এ চিত্র পাওয়া গেছে।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

এদিকে প্রতিমাসে বৈঠক অনুষ্ঠানে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ৩ বছরে সর্বোচ্চ ৬২টি বৈঠক করেছে। এ কমিটির বৈঠকের হার মাসে গড়ে দু’টি করে। তবে কখনও কখনও এই কমিটিকে প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করতে দেখা গেছে।

বৈঠক অনিয়মিত হওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি কম থাকা ও মন্ত্রীকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, মন্ত্রী ঠিকমতো সময় না দেওয়ায় নিয়মিত বৈঠক সম্ভব হয়নি।

গত ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বর্তমান দশম সংসদের যাত্রা শুরুর পর ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। এর পর মার্চের শেষ সপ্তাহ ও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বাকি কমিটিগুলো গঠন করা হয়।

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৪ বিধি অনুাযায়ী প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্থায়ী কমিটি ছাড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রতি মাসে অন্তত একটি বৈঠকের কথা রয়েছে।

এদিকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম পর্যলোচনা করে করে দেখা গেছে, নৌপরিবহন কমিটি ৩৬টি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক কমিটি ৩৩টি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ৩২টি, মহিলা ও শিশু ৩০টি, পরিকল্পনা ৩০টি, পরিবেশ ও বন ২৯টি, রেলপথ ২৮টি, ভূমি ২৭টি, বিদ্যুৎ​ ও জ্বালানি ২৭টি, যুব ও ক্রীড়া ২৬টি, সমাজকল্যাণ ২৫টি, পানিসম্পদ ২৪টি, বিমান পরিবহন ও পর্যটন ২৩টি, প্রতিরক্ষা ২৩টি, ধর্ম ২২টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ২১টি, বস্ত্র ও পাট ২১টি, শিক্ষা ২০টি, সড়ক পরিবহন ২০টি, কৃষি ১৯টি, বাণিজ্য ১৮টি, তথ্য ১৮টি, জনপ্রশাসন ১৮টি, মৎ​স্য ও প্রাণিসম্পদ ১৮টি, অর্থ ১৮টি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ১৭টি, সংস্কৃতি ১৬টি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত ১৬টি, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি ১৮টি প্রাবসী কল্যাণ ১৫টি, শিল্প ১৫টি, স্বরাষ্ট্র ১৪টি, স্থানীয় সরকার ১৪টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ ১৩টি, শ্রম ও কর্মসংস্থান ১৩টি, মুক্তিযুদ্ধ ১৩টি, স্বাস্থ্য ১৩টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১২টি ও পররাষ্ট্র ১০টি বৈঠক করেছে।

গত বছরের (২০১৬) বৈঠক পর্যালোচায় হতাশাজনক চিত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, শিল্প ও রেলপথ মন্ত্রণালয় গত এক বছরে মাত্র চারটি করে, সংস্কৃতি পাঁচটি, স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত ছয়টি করে এবং দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ৭টি বৈঠক করতে পেরেছে।

মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বাইরে অন্য কমটিগুলোর মধ্যে কার্যউপদেষ্টা কমিটি ১৩টি, সংসদ কমিটি ১০, বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব কমিটি চার, পিটিশন এক, লাইব্রেরি সাত, সরকারি হিসাব ৬২টি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ৩০টি, অনুমিত হিসাব ৭টি ও সরকারি প্রতিশ্রুতি ২৭টি বৈঠক করেছে। বিশেষ অধিকার ও কার্যপ্রণালীবিধি সম্পর্কিত কমিটির কোনও বৈঠক হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংদীয় কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়ের কাজ খুবই সামান্য। তাই বেশি বৈঠকের প্রয়োজন নেয়। কোনও মাসে একটি করি, কখনও দুই মাসে একটি বৈঠক করি।’ তিনি বলেন, ‘বৈঠকের জন্য সময় দিলে বৈঠক হয়, না হলে কিছুটা বিলম্ব হয়।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বৈঠকের চেষ্টা করি। অনেক সময় মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সেটা হয়ে ওঠে না। অবশ্য এই মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি কম হওয়ায় অনেক সময় বৈঠকের দরকার হয় না।’

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী অনুযায়ী আমরা প্রত্যেক মাসেই বৈঠক করেছি। কোনও মাস বাদ যায়নি। আমাদের মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী ও একজন উপমন্ত্রী আছেন। ফলে দুই জনের কোনও একজনকে সবসময়ই পাই। না পেলেও আমরা বৈঠক চালিয়ে নেই।’

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘কিছু কমিটির নিয়মিত বৈঠক না হওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছি।’ তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে বৈঠকের তাগাদা দেবেন। বৈঠক অনুষ্ঠানে কোনও সমস্যা থাকলেও তা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলেও জানালেন স্পিকার।






মন্তব্য চালু নেই