মেইন ম্যেনু

নাসিম ওসমানের আসন নিয়ে দ্বন্দ্বে এরশাদ দম্পতি

প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের আসনটিতে (নারায়ণগঞ্জ-৫) জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে- তা নিয়ে নীরব দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদ। দলের শীর্ষ দুই নেতার এ দ্বন্দ্বে বেশ বিপাকে পড়েছেন নেতারাও। ফলে তারাও সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না।

এ আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেবে না- এমন ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে জাতীয় পার্টি থেকে কে পাচ্ছেন এ আসনের মনোনয়ন? কে হবেন সন্ত্রাস ও আতঙ্কের জনপদ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি? তাই শেষমেষ কে পাবেন এ আসনের মনোনয়ন তা নিয়েই এখন অপেক্ষার পালা।

আগামী ২৬ জুন এ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এ আসনের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলেও চলতি মাসের ২৯ তারিখের আগেই একটি ঘোষণা আসতে পারে বলে সংকেত দিয়েছেন পার্টির মহাসচিব।

পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা ও সংসদীয় নেতাদের আশা আসনটিতে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে নাসিম ওসমান পরিবার থেকেই। নাসিম ওমসানের স্ত্রী পারভীন ওসমানই রয়েছেন সে তালিকায় শীর্ষে। তারপরেই রয়েছেন নাসিম ওসমানের মেয়ে আফরিন ওসমানের নাম।

তবে নাসিম ওসমানের পরিবার থেকেই এ আসনে প্রার্থী দেয়া হবে কিনা সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

অন্যদিকে রওশন এরশাদ চাচ্ছেন, এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হোক তার রাজনৈতিক সচিব ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মসিহকে। পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ আবার চাচ্ছেন তার ছোট ভাই জিএম কাদের যেহেতু এখনও কোনো আসন পাননি তাই তাকেই এ আসনটিতে মনোনয়ন দিতে। আর এ বিষয়টি নিয়েই পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তার পত্নী রওশন এরশাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী এ ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে পার্টির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না, বিশেষ কাউকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য দাবিও ওঠেনি তাদের পক্ষ থেকে।

এদিকে ওসমান পরিবারের নিজস্ব এক বৈঠকে তাদের কারো নির্বাচনে না যাওয়াই ভালো- এমন অভিমত উঠে আসে বলে জানা গেছে। গত দুদিন আগে নাসিম ওসমানের ছোট ভাই শামীম ওসমান রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনেও একই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, তাদের পরিবারের আর কেউই রাজনীতিতে আসতে চান না।

এসব বিষয় নিয়ে নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভিন ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে রোববার সকালে পার্টির সংসদীয় নেতাদের নিয়ে বনানী কার্যালয়ে বসার কথা ছিল এরশাদের। এজন্য তিনি পার্টির সকল সংসদীয় নেতাদের ডাকেন কিন্তু হঠাৎ করেই তা বাতিল করা হয়। মিডিয়া কর্মীরা সেখানে ছুটে গেলে বিষয়টি পরিস্কার করেন পার্টির মহাসচিব।

তিনি জানান, আজ বৈঠক হচ্ছে না। তবে আগামী ২৯ মের আগেই অনুষ্ঠিত হবে এ বৈঠক। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে নাসিম ওসমানের আসনের ব্যাপারে।

ওসমান পরিবারের কেউ এ আসনে মনোনয়ন পাবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদীয় বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্টির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমানকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হোক- এমন মতামত সংসদীয় বোর্ডের সকল সদস্যের। কিন্তু ম্যাডাম একটু বেঁকে বসেছেন। ফলে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না।’

নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর আসনটিতে তার স্ত্রী বা পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে বেশ ইতিবাচক ছিলেন এরশাদ। কিন্তু এখন তিনিও মত পাল্টাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকেই তার সুর একটু ভিন্ন। তিনি ওই আসনে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে মনোনয়ন দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন বলে পার্টি সূত্র জানায়।

বিষয়টি নিয়ে এখন জাপাতে চলছে নীরব দ্বন্দ্ব। কেউ কোনোভাবেই মুখ খুলতে চাইছেন না। পার্টির নেতারা এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে নাসিমের স্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি এখন দোদুল্যমান অবস্থায়।

জানা যায়, প্রথমদিকে নাসিমের স্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে সবাই ইতিবাচক থাকলেও রওশন তা চাননি। অন্যদিকে জি এম কাদেরের সঙ্গে রওশনের দ্বন্দ্ব নতুন নয়।

নারায়নগঞ্জের এ আসনটি থেকে পার্টির প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমান ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২৯ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে।

চলতি মাসের ১৯ মে আসনটির জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৬ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে, চলবে ২৯ মে পর্যন্ত। সেইদিনই মনোনয়ন নেয়া ও জমা দেয়ার শেষ দিন।

এখন পর্যন্ত এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতা ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।






মন্তব্য চালু নেই