মেইন ম্যেনু

‘সংশ্লিষ্টদের কী স্ত্রী-মা-সন্তান নেই?’

নানান সমালোচনার মুখেও অব্যাহত সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সার্কাসের নামে অশ্লীল ড্যান্স, জুয়া আর নেশার আসর

গ্রামাঞ্চলে অনেকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে বলে- ‘আমাকে বোঝাতে পারলে আমার বউ তোমাকে দিয়ে দিবো।’ ‘অথ্যাৎ যতই বোঝাও আমি কখনই বুঝবো না আর বউকেও দিবো না।’ এমনই অবস্থা হয়েছে বহুমুখি ন্যাক্কারজনক ভাবে চলা কলারোয়ার বয়ারডাঙ্গায় সার্কাস-বিচিত্রার নামে অশ্লীলতাপনার মহা প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে। নানান সমালোচনার মুখেও বহাল তবিয়তে চলছে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের বয়ারডাঙ্গার অনৈতিক ও অসামাজিক সার্কাসের নামে অশ্লীল ড্যান্স, জুয়া আর নেশার আসর। সন্ধ্যা রাতে চলচিত্রের অখ্যাত ও বাদপড়া কিছু শিল্পিদের নিয়ে মাঝে মধ্যে বিচিত্রা অনুষ্ঠান হলেও গভীর রাতে চলছে অশ্লীলতার চরম পর্যায়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতি-ঘোড়া বা কোন পশুপাখি না থাকলেও চলছে তথাকথিত সার্কাস। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা/১২টা পর্যন্ত মাঝে-মধ্যে হচ্ছে যতসামান্য শারীরিক কসরত জাতীয় যতসামান্য সার্কাস কিংবা দেশীয় চলচিতের অখ্যাত, বাদপড়া ও দর্শক নিন্দিত কিছু শিল্পিদের নিয়ে বিচিত্রা অনুষ্ঠান। কিন্তু প্রতিদিন রাত ১২টা/সাড়ে ১২টার পর থেকে সেখানে শুরু হচ্ছে ওয়ানটেনসহ নানা নামীয় নগদ টাকার জুয়ার আসর, চলছে ফেনসিডিল, মদ-গাঁজাসহ অন্যান্য নেশার সমারহ, আর চলছে মেয়ে নামের কিছু কলংকিত যুবতীদের নিয়ে অশ্লীল ড্যান্স। অশ্লীলতা কাকে বলে ও কী কী তা প্রত্যক্ষদর্শীরা যেভাবে বর্ণনা করলেন তা পত্রিকার পাতায় লেখা অসম্ভব। শুধু ছোট পোশাকই নয় বরং মাঝে মধ্যে ওই ছোট পোশাকও সাময়িক খুলে ফেলে ড্যান্স পরিবেশন হচ্ছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। প্রথমদিকে ওই দৃশ্যের অনেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও করলেও বর্তমানে সার্কাস কর্তৃপক্ষ মোবাইল ছবি তুলতে দিচ্ছে না, রীতিমত মোবাইল কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ‘করলে দোষ নেই, বললে দোষ’- এমনই আর কী। এমনকি সার্কাস প্যান্ডেলে মধ্যে ছোট ছোট একাধিক টিনের খুপড়ি ঘরে গভীর রাতের অন্ধকারে পতিতাবৃত্তিও চলছে বলে স্থানীয়রা অনুযোগ করেছেন। তারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকলে বিষয়টি জেনেও ‘না জানা’র ভান করে নিশ্চুপ বসে আছে ‘জ্ঞান পাপী’র মতো। স্থানীয় সাধারণ জনগণের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর ভক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে এহেন কর্মকান্ড অবিলম্বে বন্ধ না করলে জনতা ফুসে উঠলে তা বুমেরাং হতে পারে। এ সংক্রান্ত একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর কিছুটা টনক নড়ে প্রশাসনের। সম্প্রতি গভীর রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেন সেখানে অভিযান চালালে সাময়িত ২/১দিনের জন্য সার্কাসের নামে ওই অশ্লীলতাপনা বন্ধ থাকলেও ফের তা শুরু হয়। গত বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে জুয়ার বোর্ড থেকে নগদ টাকাসহ ৬জন জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করলেও পরদিন তারা জামিন পায়। স্থানীয় গ্রামবাসী অনেকে সেসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শুনতে পায়। কিন্তু বন্ধ থাকেনি জুয়া, নেশা আর প্রায়-উলঙ্গ ড্যান্সের ওই আসর। স্থানীয় সূত্র গুলো আরো জানিয়েছে, বয়ারডাঙ্গার কথিত ওই সার্কাসে বিচিত্রানুষ্ঠানের পরেই প্রতিদিন রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অশ্লীল ও প্রায়-উলঙ্গ ড্যান্স, বিভিন্ন জুয়া-নেশার আসর বসছে। সেসময় আইনশৃংখলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি রীতিমত জুয়া, নেশা ও অশ্লীলতার আসরকে আরো জমিয়ে তোলে। বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শী অনেককে হতভম্ব করে তুলেছে। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নীরবতা জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। অনেকে অভিযোগ করে বাধ্য বলছেন সংশ্লিষ্টদের ছত্রছায়া আর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা না পেলে বাইরের লোক এসে এমন জঘন্নতম কর্মকান্ড গ্রামের মধ্যে করতে পারে না। সংশ্লিষ্টদের প্রতি স্থানীয় সাধারণ সচেতন মানুষের দাবি- আপনাদের স্ত্রী, মা, মেয়ে, বোন কিংবা পিতা, পুত্র, ভাইকে নিয়ে গভীর রাতের ওই অশ্লীলতা দেখুন, ছেলেকে নেশা-জুয়ার আড্ডায় পাঠান নতুবা ওই আসর বন্ধ করে দিন। নিজে কিংবা স্ত্রী-সন্তানদের কথা ভেবে সাধারণ মানুষকেও সেভাবে ভাবুন। স্থানীয় ব্যক্তিরা ক্ষোভের সাথে আরো জানান, টাকা আয়ের আরো অনেক পথ আছে, নোংরামি করে টাকা আয় করা সৃষ্টিকর্তাও সহ্য করবেন না। সচেতন এলাকাবাসী গভীর রাতের এ অনৈতিক জুয়া-নেশার আসরের নামে সার্কাস নামীয় অশ্লীল ড্যান্সের আসর অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। নতুবা এলাকার সার্বিক পরিবেশ বাচাঁতে তারা শীঘ্রই প্রতিবাদের বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে জানান।






মন্তব্য চালু নেই