মেইন ম্যেনু

নবীগঞ্জে আলোচিত কলেজ ছাত্রী তন্নী হত্যা মামলার নেই কোনো অগ্রগতি

ছনি চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত হত্যাকান্ড তন্নী হত্যা মামলার নেই কোনো অগ্রগতি সুষ্ঠ বিচারের আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন নিহত মেধাবী কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় এর পরিবার । তন্নী হত্যাকান্ডের পর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের একের পর এক আল্টিমেটামের মুখে তন্নী হত্যাকান্ডের ২০দিন পর মামলার প্রধান আসামী ঘাতক রানু রায়’কে গ্রেফতার করে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ ।

এরপর বিজ্ঞ আদালতে একের পর এক শুনানী চলতে থাকলেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন নিহত তন্নী রায়ের পরিবার ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭সেপ্টেম্বর বেলা দেড় টার দিকে তন্নী রায় ইউ.কে আই,সিটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেড় হয়ে আর বাসায় ফিরে আসেনি। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন তন্নী রায় এর বাবা । সাধারণ ডায়েরী করার ৩ দিনের মাথায় কলেজ ছাত্রী তন্নী রায়ের বস্তাবন্দি লাশ নদী থেকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। তন্নীর লাশ উদ্ধার এবং মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থল এবং তন্নী তথাকথিত প্রেমিক রানু রায়ের বাড়িসহ আশপাশের সম্ভাব্য ঘরবাড়িতে তল্লাশী চালায় । নবীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে মামলার অগ্রগতি না আসলে মামলাটি হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের কাছে প্রেরণ করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ।

এদিকে তন্নী হত্যা মামলার প্রধান আসামী রানু রায়কে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে একের পর এক বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক সংগঠন মানববন্ধন করে আসছিল। এরই জের ধরে তন্নী রায় হত্যাকান্ডের ২০ দিনের মাথায়(৭অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, ডিবি পুলিশের ওসি আজমিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ বিকাল বেলা ব্রাম্মণবাড়ীয়া বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে (৮অক্টোবর) শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত সুলতানার আদালতে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে, এবং তন্নী হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে।

হত্যার কারণ হিসেবে রানু রায় স্বীকারোক্তিতে বলে তন্নীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে রানু রায়ের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল, ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার, প্রেমিক রানু রায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে তন্নী ইউ.কে আই সিটি কোচিং সেন্টারে যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়ে, রানু রায়ের বাড়িতে যায়, যাওয়ার পর তন্নীর সাথে একাদিক ছেলের সম্পর্ক আছে এই বিষয়ে রানু তন্নীকে ওই সব ছেলেদের সাথে কথা বলা বন্ধ করার জন্য বলে, তখন এক পর্যায়ে, রানুর সাথে তন্নীর ঝগড়া সৃষ্টি হয় এসময় রানু রায় তন্নীকে হাত দিয়ে আঘাত করে,এরপর তন্নীর গলায় রানু চেপে ধরলে এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে তন্নী মারা যায় । এদিকে বিজ্ঞ আদালতের একের পর এক শুনানী পরও মামলার কোনো অগ্রগতি দেখতে না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন নিহত কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় এর পরিবার । আলোচিত তন্নী হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্ত্বির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামরা হস্তান্তর করার দাবী জানিয়েছে তন্নীর পরিবার ।

অন্যদিকে গত ১৯.১২.২০১৬ তন্নী হত্যা মামলায় রানু রায়কে একক আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ । তারপর থেকেই শুনানী চললে ও মামলার নেই অগ্রগতি । মামলার সুষ্ঠ বিচার পাওয়ার আশায় একের পর এক দিন গুণছেন নিহত তন্নীর পরিবার। নিহত কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় এর পিতা বিমল রায় জানান, আমার মেয়ে তন্নী হত্যা মামলা অগ্রগতি নিয়ে আমি এবং আমার পরিবার সন্তÍুষ্ট নই আমরা খুব হতাশ আমি বেচেঁ থাকতে আমার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দেখে যেতে চাই তাই দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হস্তান্তরের জোর দাবী জানাই ।

এদিকে কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় এর পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি মামলার অগ্রগতি নিয়ে গত কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তন্নী হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হস্তান্তরের জন্য ঝড় তুলেছেন নবীগঞ্জে সর্বসাধারণ তাদের দাবী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হস্তান্তর করলে খুব তাড়াতাড়ি মামলা নিষ্পত্তি হবে এবং সুষ্ঠ বিচার পাওয়া যাবে ।






মন্তব্য চালু নেই