মেইন ম্যেনু

তৃণমূলেও লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া

জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির লক্ষ্যে খানা তথ্যভাণ্ডার শুমারির প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এতে সারাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে আনা হয়েছে। শুমারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, তৃণমূলেও লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া।

দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র জানতে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ চলছে সারাদেশে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৭টি জেলায় তথ্য সংগ্রহ চলছে। এ সব জেলার গ্রাম পর্যায়ে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে তথ্য পাওয়া গেছে। এই ১৭ জেলায় তথ্য সংগ্রহের কাজ আজ রোববার শেষ হচ্ছে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব বিকাশ কিশোর দাস বলেন, পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ এবং পরিসংখ্যান উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় কৌশলপত্র অনুমোদন হওয়ার পর থেকে পরিসংখ্যান ব্যুরো আরো শক্তিশালী হয়েছে এবং জাতীয় উন্নয়নে তথ্যের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে সংস্থাটি যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের সব জনগোষ্ঠির সুবিধা ও সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রাথমিক তথ্যানুসারে তৃণমূলেও উন্নয়ন হচ্ছে। গ্রাম এখন আর ১০ বছর আগের গ্রাম নেই।

তিনি আরো বলেন, পুরো ডাটাবেজ তৈরির পর দেশের সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে। তথ্যভাণ্ডারের জন্য মূলত পরিবারভিত্তিক তথ্যসংগ্রহ চলছে। এতে কাউকেই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। এতে পরিবারের আয়-ব্যয়ের খাত, আয় ও ব্যয়ের উৎস, জীবনমান, পারিপার্শ্বিকতা তুলে আনা হচ্ছে। এই চিত্র অবশ্যই আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ ইতিবাচক হবে। কারণ এতে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় উঠে আসছে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, পরিবারের সদস্যদের নাম, মাতা-পিতার নাম, বয়স, শিক্ষা, পেশা, নিবাস ইত্যাদি ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি বাসগৃহের ধরণ, মালিকানাধীন জমির পরিমাণ, ব্যবহৃত পায়খানার ধরণ, পানীয় জলের উৎস ইত্যাদি নিয়ে খানার এ তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। তথ্য প্রদানের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ তথ্য সংগ্রহকারীকে দেখাতে হচ্ছে। ডাটাবেজটি প্রস্তুত সম্পন্ন হলে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে তা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই এই প্রকল্পের প্রচারণায় কাজ করছে। ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মসজিদের হুজুররাও প্রকল্পের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচালনায় শুমারির প্রথম ধাপে বরিশাল ও রংপুর বিভাগের সব জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগের তিন জেলার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে দেশের বাকি জেলাগুলোতে খানা শুমারি করা হবে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধাপে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ এবং তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং নেত্রকোনা জেলার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে এখনো পরবর্তী ধাপের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই সব জেলার তথ্য সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মীরা।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে শুমারি কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস ও ভারতীয় আইটি সংস্থা জিরোক্স।

পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্র জানিয়েছে, কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিটি জেলায় দু’জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারীর তত্ত্বাবধানে ছয়জন উপজেলা সমন্বয়কারী, ৮৪ জন জোনাল অফিসার, এক হাজার সুপারভাইজার এবং দুই হাজার পাঁচশ’ গণনাকারী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

প্রসঙ্গত, দেশব্যাপী প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ পরিবার থেকে তিনটি পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর জেলাসহ মোট ১৭টি জেলায় তথ্যসংগ্রহ শুমারি চলছে। ৪ এপ্রিল শুরু হওয়া এই শুমারির প্রথম ধাপের তথ্য সংগ্রহ আজ শেষ হচ্ছে।খবর রাইজিংবিডি’র।






মন্তব্য চালু নেই