মেইন ম্যেনু

তীরে এসে জামায়াতের নতুন সুর

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিকদল জামায়াতে ইসলামী আগের মতো জোটের কর্মসূচিতে এককভাবে সক্রিয় না থাকার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সামনে থাকলেই জামায়াতের কর্মীরা মাঠে থাকবে। মূলত যুদ্ধাপরাধের বিচারে শীর্ষনেতাদের রায়, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড এড়াতে এমন পরিকল্পনাই নিয়েছে দলটি।

সরকার পতনের জন্য রমজানে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ঈদের পরে সেই আন্দোলনে শরিকদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান ছিল জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার। সেই সুরে জামায়াতও সুর মিলিয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তব্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্যও বলেছেন জামায়াত নেতারা। তবে বিএনপিকে মাঠে দেখতে চায় তারা, অন্যথায় মাঠে নামবে না জামায়াত।

জামায়াতের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, ‘আমারা সব সময় সক্রিয় আন্দোলন করেছি, রাজপথে থেকেছি। ফলাফল যাই হোক, আমাদের প্রতি সরকারের একতরফা ক্ষোভ ছিল। আর সেই কারণে জামায়েতের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা-মামলার শিকার হয়েছে।’

এদিকে জোট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করবেন খালেদা জিয়া। এ মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারণ করা হবে আন্দোলনের রূপরেখা।

তবে আন্দোলনের রূপ যেমনই হোক না কেন সাংগঠনিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে নামলেই সক্রিয় হবে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এমন কথাই বললেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য। নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি বলেন, ‘জামায়াত কখনোই সরকারবিরোধী আন্দোলনে পিছু হটেনি। আন্দোলন-কর্মসূচি বাস্তবায়নে করতে গিয়ে প্রাণও দিয়েছে আমাদের কর্মীরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় বিএনপির চেয়ে আমাদের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের দলের নেতাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে, শীর্ষনেতাদের টার্গেট করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবারের আন্দোলনেও যদি আগের মতো এককভাবে বেশি সক্রিয় থাকি তবে সরকার আমাদের টার্গেট করবে।’

দলটির আরেক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ‘আমারা আন্দোলনে প্রাণ দেব, অন্যরা সুবিধা নিবে তা হয় না। তছাড়া আমাদের দল একা মাঠে থাকলে আন্দোলনও সফল হবে না। বিএনপি যদি আগের মতো নিস্ক্রিয় থাকে তবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও থাকবে না সেই আন্দোলনে।’

তবে আন্দোলন প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সন্ত্রাস, হত্যা, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, গুম জনজীবনকে করছে বিপর্যস্ত। সীমাহীন দুর্নীতির কারণে দেশের মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে আজ সোচ্চার।’

তিনি বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। সেই বিচারকার্যক্রম দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত। সরকার এখন দেশের জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তাই এই মুহূর্তে আন্দোলনের বিকল্প নেই। আমরা রাজপথে আছি, দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। আন্দোলন শুরু হলেই তা প্রমাণিত হবে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘শিগগিরই বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে। এ কর্মসূচিগুলো হবে গণতন্ত্র স্বীকৃত এবং আইনসঙ্গত। সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করবে আন্দোলনের রূপ কী রকম হবে এবং কতটুকু তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। এরআগে আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির ওপর গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে সরকার।’

আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে থাকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা যদি মাঠেই না থাকে তবে কীভাবে এর আগে আমরা আটক হয়েছিলাম, জেলে গিয়েছিলাম? কীভাবে বিএনপির কর্মীরা খুন হয়েছিল? সরকার নিষ্ঠুরভাবে সেই আন্দোলন দমন করেছিল। বিএনপির কর্মীরা সবসময় মাঠে ছিল, এখোন থাকবে।’






মন্তব্য চালু নেই