মেইন ম্যেনু

তাঁরা টের পেলেন ভয় কাকে বলে!

ঘর থেকে বারান্দায় বের হলেই যেন আকাশ ছোঁয়া যায়। গগনচুম্বী বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের অবস্থান এমনই। মশামাছির উৎপাত নেই। হইচই, কোলাহল নেই। এক অর্থে নিরুপদ্রব জীবন। আজ সোমবার ভোরে এর ব্যতিক্রম ঘটে। ভূমিকম্পের আচমকা ঝাঁকুনি খেয়ে তাঁরা অনেকেই টের পেয়েছেন—ভয় কাকে বলে।

আজ দুপুর ১২টার দিকে মিরপুরে চিড়িয়াখানা সড়কে মাল্টিপ্ল্যান রেডক্রিসেন্ট সিটির মেঘনা ভবনের বাসিন্দা মাহবুবা রহমানের সঙ্গে কথা হয়। ১৬ তলা ভবনটির ১৫ তলায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে ও স্বামী নিয়ে থাকেন তিনি।

ভূমিকম্পের সময় অনুভূতির কথা জানতে চাইলে মাহবুবা রহমান বলেন, ‘কী যে হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত ঠাওরাতে পারছি না। এত ভয় জীবনে আর কখনো পাইনি। জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। চারপাশ মটমট শব্দ করছে। ভবন একবার একদিকে হেলে তো আবার আরেক দিকে যায়। আর কাঁপুনি কাকে বলে! লিফট বন্ধ। এতগুলো সিঁড়ি বেয়ে নামাও যাবে না। স্বামীর পরামর্শে রান্না ঘরের বারান্দায় গিয়ে গ্রিল শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। টের পারছিলাম ব্যালান্স রাখার আসলে কোনো উপায় নেই। পানির সমস্যা থাকায় বালতিতে পানি ভরে রেখেছিলাম। ভূমিকম্প শেষে দেখলাম বালতির পানি মেঝেতে গড়াচ্ছে।’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাহবুবা রহমান জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। সে জানিয়ে দিয়েছে, আজ সারাদিন সে বাইরে থাকবে। ভূমিকম্পে এতই ভয়!
রাজারবাগে ১০ তলা ভবনে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ব্যবসায়ী মাকসুদ-ই-রাব্বী। তিনি বলেন, ‘হাইরাইজ ভবনে জানালার থাই গ্লাস ভূমিকম্পের সময় প্রচণ্ড শব্দ করে। আজ শব্দ ছিল অনেক জোরে। মনে হয়েছে পুরো ভবনটাই দুলছে। সিঁড়ি বেয়ে নামার চেষ্টা করিনি। বাসার কমন প্লেসে দাঁড়িয়ে ছিলাম সবাই। হুড়মুড় করে নেমে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়েই বা কী লাভ হবে? স্ত্রী ও মেয়েরা খুব ভয় পেয়েছে।’

ঢাকা ব্যাংকে কর্মরত সায়মা আক্তার থাকেন মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে নিজের ফ্ল্যাটে। ১৫ তলা ভবনের ১১ তলায় থাকেন। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় যে কী অবস্থা হয়েছিল, তার যদি সিরিজ ছবি দেখাতে পারতাম, তাহলে বুঝতেন! প্রথমে তো ভাবছিলাম খাট কে আবার কে নাড়াচ্ছে? জাপান গার্ডেন সিটিতে ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম বাজছে। ১৪ বছর বয়সী ছেলে ও ১২ বছর বয়সী মেয়েকে আগে নিচে নামিয়ে দেই। তারপর আমরা নিচে নামি। নিচে নেমে দেখি অসুস্থ, বৃদ্ধ মানুষগুলো খুব কষ্ট করে ভয়ে নিচে নেমে এসেছেন।’

সায়মা আক্তার বলেন, জাপান গার্ডেন সিটিতে প্রায় ২৩টি ভবন। সব ভবনে ছাদের সিঁড়ির কাছে একটি বক্সের মধ্যে ছাদের বিকল্প চাবি রাখা থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ছাদে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ভবনের বাসিন্দারা ছাদে না গিয়ে বেশির ভাগই নিচে নেমে যাওয়াকে বেশি নিরাপদ মনে করেন।

হাইরাইজ ভবনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ির বাসিন্দারাও ভয়াবহতা বেশি টের পান এবারের ভূমিকম্পে।

হাতিরঝিলের কাছে বেগুনবাড়িতে একটি কাঠের দোতলা ঘরে থাকেন জহিরুল ও তাঁর স্ত্রী শাহানা। শাহানা বলেন, ‘এত সকালে আমরা ঘুমাই ছিলাম। মনে হইল বাড়ির কাঠের খুটি কারা যেন করাত দিয়া কাটতাছে। ভয় পাইছি খুব। আর নৌকায় উঠলে যেমন দুলুনি, সেই রকম দুলুনি। চিল্লাপাল্লা কইরা লোহার সিঁড়ি দিয়া নিচে নামছি। ভয় এখনো দূর হয় নাই।’

শাহানা জানান, স্বামী ও স্ত্রী মিলে যে বেতন পান, তা দিয়ে এর চেয়ে ভালো বাসা পাওয়া যায় না। এখানে থাকতে খরচও অনেক কম। তাই জীবনটাকে অনেকটা হাতের মুঠোয় নিয়েই এখানে বাস করছেন।






মন্তব্য চালু নেই