মেইন ম্যেনু

তবুও থেমে নেই ওরা

স্কুল পুড়ে গেলেও থেমে নেই শিক্ষার্থীরা। তাঁবু টেনে চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া। উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পুড়ে যাওয়া টিনসেডের শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে চলছে লেখাপড়া। দৃশ্যটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি নামক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, যতদিন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ সম্ভব না হবে, ততদিন এভাবেই আমরা শিক্ষাদান অব্যাহত রাখবো।

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাপলা আক্তার জানায়, স্কুল পুড়ে গেলেও আমরা পড়া বন্ধ করিনি। কারণ দেশের ভালো মানুষরা আমাদের এ স্কুল নিয়ে ভাবছে, আমাদের কথা ভাবছে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে থানা পুলিশ ন্যাশনাল ব্যাংক গাইবান্ধা শাখার ব্যবস্থাপক ওয়াশিবুল হক চিশতিকে থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

প্রধান সন্দেহভাজন মো. রঞ্জু মিয়াকে রোববার বিকেলে কুন্দেরপাড়া (পারদিয়ারা) গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রঞ্জু মিয়া ওই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

এছাড়া স্কুলটির শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও আসবাবপত্র কেনার নিমিত্তে জরুরী ভিত্তিতে সরকারি তহবিল থেকে ৪৫ হাজার টাকা ও ১৫ বান্ডিল ঢেউটিন এবং স্থানীয় তহবিল থেকে আরো ২০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করেছে জেলা প্রশাসক। এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে জেলা পরিষদ থেকে।

গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ওসি একেএম মেহেদী হাসান জানান, কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি পুড়ে দেয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন প্রধান আসামি হিসাবে রঞ্জু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আগুনে বিদ্যালয় পুড়ে যাওয়ার অলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিদ্যালয়টিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো স্কুল ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। ফলে সব পুড়ে যায়। এতে অফিস কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও লাইব্রেরিসহ ১০টি ক্লাস রুম, আসবাবপত্র, শিক্ষা সরঞ্জাম, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার ৭৭ জনের প্রবেশপত্র এবং ২০ হাজার এসএসসি ও জেএসসি পাস শিক্ষার্থীদের সনদপত্রসহ সব আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই