মেইন ম্যেনু

ঢাকা ছাড়ল সোনার বাংলা এক্সপ্রেস

বাংলাদেশ রেলওয়েতে সর্বশেষ এবং সর্বাধুনিক ট্রেন হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’। বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই বিরতিহীন ট্রেনটি প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে আজ রবিবার (২৬ জুন)।

রেলের এই নতুন সংযোজন সোনার বাংলা এক্সপ্রেসটি শনিবার (২৫ জুন) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রবিবার সকাল ৭টায় ১২১ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রথম যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি।

চট্টগ্রামের পথে ১৬ বগির এই নতুন আন্তঃনগর ট্রেনটি মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছাবে। আর শুধু ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে থামবে।

নতুন এ ট্রেনের প্রথম যাত্রা উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে ছিল সাজ সাজ রব। ৩ নং প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছিল সাজানো সর্বাধুনিক এই ট্রেনটি। ট্রেনের কর্মীরা হাতে ফুল নিয়ে প্রথম যাত্রার যাত্রীদের বরণ করে নিতে অপেক্ষা করছিলেন।প্রথম যাত্রীদের স্বাগত জানাতে স্টেশনে এসেছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন। তিনি ট্রেন ছাড়ার আগে যাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং তাদের সাথে কথা বলেন।

এদিকে, সর্বশেষ সংযোজনের এই ট্রেনের প্রথম যাত্রার যাত্রী হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন মো. রাসেল। তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। আমরা নিয়মিতই চট্টগ্রামে যাতায়াত করি, কিন্তু এই ট্রেনটির ভেতরের অবস্থা খুব সুন্দর, সিটগুলোও বেশ ভালো।’

নিজেদের চলাচলের রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের পরে আরেকটি বিরতিহীন ট্রেন পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তায়েবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নতুন এই ট্রেনের কারণে আমাদের দূর্ভোগ আরও কমবে। ট্রেনের ভেতরে সকল ব্যবস্থাই অনেক সুন্দর মনে হচ্ছে, এখন এটাকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলেই হয়।’প্রথম যাত্রার যাত্রীদের জন্য বিশেষ কোন সুবিধা থাকছে কিনা জানতে চাইলে ট্রেনের কর্মকর্তা শফিক বলেন, ‘ফুল দিয়ে যাত্রীদের বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া যাত্রীদের ইফতার সরবরাহ করা হবে।’

রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এসেছি প্রথম যাত্রার যাত্রীদের ওয়েলকাম করতে। এই ট্রেনটিতে সাধারণত ট্রেনের সকল সুবিধাসহ ওয়াইফাই সুবিধা, নামাজের স্থান, প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে।’

তিনি জানান, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ১৬টি বগির মধ্যে চারটি এসি চেয়ায়ের (স্নিগ্ধা) প্রতিটিতে ৫৫টি করে ২২০ আসন, সাতটি শোভন চেয়ারের বগিতে ৪২০টি আসন, দুটি এসি বার্থে ৩৩টি করে ৬৬টি আসন এবং দুটি খাবার গাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত ৪০টি আসন রয়েছে।

এসব আসনে যাত্রীদের ভাড়া গুণতে হবে যথাক্রমে এসি এসি বার্থে ১২০০ টাকা, এসি চেয়ারে ১ হাজার টাকা আর শোভন চেয়ারে ৬০০ টাকা।

কমলাপুর রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘ট্রেনটিতে যাত্রীরা খাবার গাড়ি ও নামাজের কক্ষে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। খাবার ঘরে সুনির্দিষ্ট মূল্য তালিকা রাখা আছে।’

তিনি জানান, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে চলাচলকারী দ্বিতীয় বিরতিহীন ট্রেন। এর আগে প্রথম বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে ১৯৯৮ সালের ১৪ এপ্রিল।






মন্তব্য চালু নেই