মেইন ম্যেনু

টাইগারদের প্রশংসা করায় ভারতীয় ধারাভাষ্যকারের এতটা শাস্তি!

এক বছর কেটে গেছে। এতদিনেও পুরনো জগতে ফিরতে পারেননি ভারতের বিখ্যাত ক্রীড় বিশ্লেষক এবং ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে। গত বছর আইপিএল শুরুর ঠিক ১০ দিন আগে বরখাস্ত হয়েছিলেন এই জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার। সমস্যার মূলে ছিল গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-বাংলাদেশের সেই আলোচিত শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি। এই ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রশংসা করার জন্য রোষানলে পড়েন তিনি।

সেই ম্যাচে হর্ষের মুখে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রশংসা শুনে রেগে মেগে টুইট করে বসেন বলিউডের বিগ বি খ্যাত অমিতাভ বচ্চন। বিগ বি লিখেন, “কোনো ভারতীয় ধারাভাষ্যকারের উচিত সবসময় বিদেশি দলের হয়ে কথা বলার বদলে নিজেদের দেশের খেলোয়াড়দের হয়ে কথা বলা। ” অমিতাভের এই টুইটকে সমর্থন করে ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও রিটুইট করেছিলেন। এর ঠিক পরেই আইপিএলের ভাষ্যকার দল থেকে বাদ পড়ে যান ভোগলে।

ওই ঘটনার পরে গত এক বছর হর্ষ ভোগলেকে কোনো ক্রিকেট ম্যাচে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখা যায়নি। এক বছর পর আবারও সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন হর্ষ। সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, তাকে কেন বরখাস্ত করা হল, সে বিষয়ে কোনওরকম ব্যাখ্যাই নেই তাঁর কাছে। তিনি বলেন, “যদি এমনটা হত যে আমি সম্প্রচারের নীতি ভঙ্গ করেছি কিংবা আমি ভাল ধারাভাষ্যকার নই, তবে তাও মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু কেউ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারেনি যে তোমার বরখাস্তের পিছনে এই কারণ রয়েছে। ”

এছাড়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কল্যাণেই শোনা গিয়েছিল বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রশংসা করায় ভারতের জাতীয় দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার হর্ষ ভোগলেকে পছন্দ করতেন না। সেই কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়। ভোগলে অবশ্য নিজের পেশাকে এখনও মিস করেন। আর সবচেয়ে বেশি মিস তিনি করেন তেন্ডুলকার, দ্রাবিড়, কুম্বলে, সৌরভ, শ্রীনাথ, লক্ষ্মণদের প্রজন্মকে। ভারতীয় ক্রিকেটের সেই প্রজন্মটি তার কাছে সত্যিকারের ক্রিকেট খেলত। কে কী বলল তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজেদের কাজ করে যেত।

সত্যি অবাক লাগে যে, কেবল বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পারফর্মেন্সের প্রশংসা করার ‘অপরাধে’ এতটা শাস্তি পেতে হচ্ছে হর্ষ ভোগলেকে! এটা কি ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যায়?






মন্তব্য চালু নেই