মেইন ম্যেনু

জামায়াত-শিবিরের নাশকতা মামলার তদন্ত শেষ হয় না

মানবতা বিরোধী মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পযন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া নাশকতার সাড়ে তিন হাজার মামলার মধ্যে ১১শতাধিক মামলার তদন্ত এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি। বেশিরভাগ মামলার আসামিদের নাম ঠিকানা একই হওয়ায় এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের সঙ্গে গোপন সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের মধ্যেই এসব মামলার তদন্ত শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে একই সময় রেলে নাশকতার ১৫৬ মামলার মধ্যে ১৩৫টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় ১৭টি মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলার তদন্ত এখনো সিআইডির হাতে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি পদ মর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শতে জানান, কৌশলগত কারণে এসব মামলার তদন্ত দেরি হয়েছে। তবে বতমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দ্রুতই এসব মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র পাঠানো হবে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে ওঠে জামায়াত শিবিরের সদস্যরা। তারা বগুড়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুরসহ ২২টি জেলায় ব্যাপক নাশকতা চলায়। থানা ও ফাঁড়ি আক্রমণ করে পুলিশ সদস্যদের খুন করতেও পিছুপা হয়নি। এরপর ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের রায়কে কেন্দ্র করে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। জামায়াত-শিবির মোকাবেলায় পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারষে পিছু হটে তারা। এমন পরিস্থিতিতে ওই সময়ে বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৩ হাজার ৫শ মামলা দায়ের করা হয়।

এরমধ্যে, ২০১৩ সালের নাশকতার ১৫শ ৪০টি, ২০১৪ সালের ১১৭১টি এবং ২০১৫ সালে ১ হাজার ছয়শটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার আসামিরা সবাই জামায়াত শিবিরের সদস্য। এসব মামলার মধ্যে বেশিরভাগই তদন্ত শেষ পর্যায়ে। এছাড়া আদালতে ২৪শ মামলার অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। বাকি ১১শ মামলার আসামিদের নাম ঠিকানা আগের মামলার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন তদন্ত কর্মকর্তারা। এ কারণে এসব মামলার ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগরে এখনও ১শ ২৬টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরে ১শ ৭টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় ৩শ ৫৬টি, রাজশাহী রেঞ্জে ২শ ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২শ ৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭৪টি, সিলেট রেঞ্জে ৬৩টি, রংপুর রেঞ্জে ৬৯টি, খুলনা রেঞ্জে ৭৬টি, রেলওয়ে থানায় ৪টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশ আসামিই হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয় থেকে স্থানীয় নেতাকর্মী।

জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রেলে নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত ১২৪টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৭শ ৪১ জনকে। এর মধ্যে ঘটনার কোনো সাক্ষী বা তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় দেওয়া হয়েছে ১৭টি মামলার ফাইনাল রিপোর্ট। এ ছাড়া নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত কয়েকটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। নাশকতা চলাকালে বিভিন্ন অভিযানে এজাহারভুক্ত ১শ ৫৩ জনসহ মোট ৮শ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির অধিকাংশই এখন জামিন নিয়ে পলাতক। তারা সবাই জামায়াত শিবিরের সদস্য বলে তদন্ত তদারক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রমতে, ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে রেলে নাশকতার ঘটনায় মোট ১৫৬টি মামলা করা হয়। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ ঘোষণার পর রেলকে টার্গেট করে ব্যাপক নাশকতা চালায় জামায়াত-শিবির। এর পর ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নের নামে দেশজুড়ে রেলকে টার্গেট করে নাশকতা চালায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা।

রেল পুলিশ সূত্র জানায়, রেলকে টার্গেট করে চালানোর এসব নাশকতার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ছয় সহস্রাধিক অজ্ঞাত দুর্বৃত্তকে আসামি করে মামলা করা হয়। নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় ৬৭৫ জনকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৯ জন নাশকতায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার চার বছর পার হয়ে গেলেও জড়িতদের খুঁজে বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, আসামি গ্রেফতার না করে এবং এজাহারভুক্ত কিছু আসামি বাদ দিয়েই নাশকতার মামলাগুলোতে অভিযোগপত্র ও ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। এ ছাড়া রয়েছে দায়সারা তদন্তেরও অভিযোগ। যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কারণে ভবিষ্যতে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী। তবে তারা নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিকাংশ মামলায় এজাহারভুক্ত অনেক আসামির নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৩ সালের পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া নাশকতার ঘটনায় লাকসাম রেলওয়ে থানায় ১৮টি মামলায় ১৭৮ জনকে এজাহারভুক্ত ও দুই হাজার ৪৩৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় উল্লেখ করে আসামি করা হয়। এর মধ্যে পুলিশ এজাহারভুক্ত ৩৩ এবং সন্দেহভাজন ১২৮ জনকে গ্রেফতার করে। সব মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এর বাইরে চাঁদপুরে ১৩, আখাউড়ায় ৮, ভৈরবে ৬, ঢাকায় ৭, কিশোরগঞ্জে ২, ময়মনসিংহে ৫, জামালপুরে ৫, শ্রীমঙ্গলে ২, কুলাউড়ায় ২ এবং সিলেট রেলওয়ে থানায় ৬টি নাশকতার মামলা করা হয়েছিল। এ ১০টি থানায় ৫৬টি মামলায় ৩১৩ এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতপরিচয় তিন হাজার ৪২৯ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৩১ এবং সন্দেহভাজন ২৬৩ আসামি পুলিশ গ্রেফতার করে। এসব মামলায় পুলিশ ৪২টিতে অভিযোগপত্র এবং ৭টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই