মেইন ম্যেনু

ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে গণধর্ষণ, ভিডিও ধারণ

ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নেতৃত্বে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কলেজছাত্রী। ধর্ষণ করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, পাশবিক ওই ঘটনার ছবি মোবাইল ফোনের ভিডিওতে ধারণও করেছে। ধর্ষণকারীদের মাধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মামুদকাটি গ্রামে।

ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী ঘটনার দুই দিন পর বুধবার রাতে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে পাইকগাছা থানায় মামলা করেছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনায় অভিযুক্তরা হচ্ছে- পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নোয়াকাটি গ্রামের মৃত সৈয়দ গাজীর ছেলে খোরশেদ গাজী (২৩), মামুদকাটী গ্রামের অশোক হাজরার ছেলে খুলনা সিটি পলিটেকনিক কলেজের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সুব্রত হাজরা (২৪), একই গ্রামের মুনছুর আলী খানের ছেলে মুনমুন খান (২৫), রহমান গাজীর ছেলে গহর গাজী (২৮) ও দোকান মালিক সোহেল উদ্দিন গাজীর ছেলে হারুন গাজী (৩৫)। এরা ধর্ষণ চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে কাউকে কিছু না বলার জন্য শাসিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছার হরিঢালী মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী তার বন্ধু সুমনের সঙ্গে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বের হন। পথিমধ্যে মামুদকাটী খ্রিস্টান মিশনারির পাশে একটি দোকানের সামনে একদল যুবক তাদের গতিরোধ করে। যুবকরা তাদের অশালীন ভাষায় কথা বলে। এক পর্যায়ে তারা ছাত্রী ও তার বন্ধুকে হারুন গাজীর বাড়ি যেতে বাধ্য করে। এসময় তারা সুমনের কাছে থাকা দুটো মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। অপর একটি কক্ষে মেয়েটিকে নিয়ে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। খবর শুনে থানা পুলিশ মাঠে নামে। পুলিশ গণধর্ষণ ঘটনায় জড়িত হারুন ও মুনমুন নামে দুইজনকে আটক করে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। পুলিশ ঘটনার শিকার ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে উদ্বুদ্ধ করে। পাশবিকতার শিকার ছাত্রী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার মূল হোতা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা খোরশেদসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার আক্কাস আলী জানান, ধর্ষকদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হারুন গাজী ঘটনার সঙ্গে নিজে ও অন্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পাইকগাছা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। মুনমুন খানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবেদও জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২৯ আগস্ট এ ব্যাপারে শুনানি হওয়ার কথা রযেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়। ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। ওসি জানান, ভিডিওটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অন্যরা গ্রেপ্তার হলে হয়তো ভিডিওটি উদ্ধার হতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই