মেইন ম্যেনু

চার মাসেও বাড়ি ফেরেনি স্কুলছাত্রী শিলা

বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে যাবার নামে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেও গত চার মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে দুর্গাপুর পৌর এলাকার তিওরকুড়ি গ্রামের স্কুলছাত্রী শিলা আক্তার উর্মি (১৪)। শিলা দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা-মায়ের সংসার ভাঙার পর থেকেই নানীর কাছে থাকতো শিলা। এ ঘটনায় শিলার নানী আলেয়া বেগম দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তাদের ধারণা শিলাকে কোন চক্র বিক্রি করে দিয়েছে।

শিলার নানী আলেয়া বেগম জানান, গত ১০ থেকে ১২ বছর আগে তার মেয়ে রুমা খাতুনের বিয়ে হয় পালী গ্রামে। সেখানে বেশী দিন সংসার টেকেনি রুমার। কিন্তু ততোদিনে রুমার কোল জুড়ে জন্ম নেয় শিলা। শিলা যখন খুব ছোট তখন তার বাবা মা রুমাকে তালাক দেয়। সেই থেকে রুমা নানীর কাছেই বড় হয়েছে। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয় শিলা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শিলার বান্ধবী বর্ষা খাতুন শিলার নানীর বাড়িতে বেড়াতে আসে। বর্ষা উপজেলার বখতিয়ারপুর গ্রামের লোকমান আলীর মেয়ে। একদিন থাকার পর বান্ধবী বর্ষা বাড়ি চলে যায়।

এরমধ্যে শিলার মামা আলমগীর হোসেনের মোবাইল চুরি হয় বাড়ি থেকে। এ কারনে ছোট মামা আলমগীর হোসেন শিলাকে বকাঝকা করে। ওই ঘটনার কয়েকদিন পর গেল বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বান্ধবী বর্ষা শিলাকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে তার নানীর কাছ থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে শিলা।

তিনি আরও জানান, তার নাতনীকে বান্ধবী বর্ষা নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা বর্ষার বাড়িতে অনেকবার গেছেন। কিন্তু বর্ষা তাদের ভুল তথ্য দিয়ে হয়রানি করেছেন। কখনো বলেছেন শিলা রাজশাহীর একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। আবার কখনো বলেছেন আবাসিক হোটেলে রয়েছেন।

বর্ষার দেয়া তথ্যানুযায়ী পুঠিয়া উপজেলার রুহুল আলম নামের এক ব্যক্তি আলেয়া বেগমকে ফোনে জানান, শিলার খোঁজ তার কাছে রয়েছে। ১০ হাজার টাকা দিলেই শিলাকে তারা বের করে দেবেন।

একই ভাবে দুর্গাপুরের শ্যামপুর গ্রামের সুবজ নামের আরেক ব্যক্তি আলেয়া বেগমকে জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ও খরচপাতি দিলেই শিলার খোঁজ পাওয়া যাবে। সবুজ আরও জানায়, শিলাকে রাজশাহী নগরীর মামুন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তাকে টাকা দিলেই শিলাকে তারা ছেড়ে দেবে।

পৌর এলাকার চৌবাড়িয়া গ্রামের সুমন নামের আরেক ব্যাক্তি আলেয়া বেগমকে একই ভাবে তথ্য দেয়ার নাম করে টাকা দাবি করেন। প্রত্যেকের সঙ্গে আলেয়া বেগম যোগাযোগও করেছেন, কিন্তু তাদের দাবি করা টাকা আগে পরিশোধ না করায় শেষ পর্যন্ত তারা কেউই শিলার সর্বশেষ অবস্থান জানাননি।

উপায়ন্তর না দেখে আলেয়া বেগম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পরামর্শে গেল বছরের ৮ নভেম্বর দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, বান্ধবী বর্ষা তার নাতনী শিলাকে কোন আবাসিক হোটেলে বিক্রি করে এসেছে। নিখোঁজের পর থেকে শিলার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। শিলার খোঁজ জানতে বান্ধবি বর্ষার কাছে যাওয়া হলেও সে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের হয়রানি করেছে। বর্ষাকে গ্রেপ্তার করা হলেই তার নাতনী শিলার খোঁজ পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রহুল আলম জানান, জিডির সূত্র ধরে বিভিন্ন থানা ও জায়গায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। শিলাকে খুঁজে পেতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।






মন্তব্য চালু নেই