মেইন ম্যেনু

চবি ছাত্রলীগের মুরগী চুরি!

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতার গলায় জুতার মালা পরানোসহ নানা কাজে সমালোচিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের বিরুদ্ধে এবার মুরগি চুরির অভিযোগ উঠেছে!

ক্যাম্পাসের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শাহ আমানত হলের সামনের ‘স্টার পোল্ট্রি’ নামে মুরগীর দোকান থেকে গত কয়েক মাস ধরে প্রায় দু’শতাধিক মুরগী চুরি করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ জালাল হলের ডাইনিংয়ের ফ্রিজ থেকে ১২টি মুরগী উদ্ধার করেছে ব্যবসায়ীরা। ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত এ হল থেকে মুরগীগুলো উদ্ধার করা হলেও নেতাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে অপর গ্রুপ কিংবা শিবিরের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এসব করা হচ্ছে।

মুরগী দোকানের মালিক ও বিশ্ববিদ্যালয় বহুমুখি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সেকান্দার মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘ চার-পাঁচ মাসে আমার দোকান থেকে দুইশতাধিক মুরগী চুরি হয়েছে। তবে কাউকে সনাক্ত করা যায়নি। শুক্রবার খবর পেয়ে শাহজালাল হলের ডাইনিং রুমের ফ্রিজ থেকে জবাই করা ১২টি মুরগী উদ্ধার করেছি। হলের কর্মচারীরা জানায় কিছু ছাত্র রাতে এসব মুরগী বাইরে থেকে এনে ফ্রিজে রাখে। তবে কর্মচারীরা ভয়ে ছাত্রদের নাম বলেনি। বিষয়টি নিয়ে হলের দায়িত্বশীল ছাত্রলীগ নেতা রবিন ভাইকে জানিয়েছি।’

ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানান, ছাত্রাবাসের বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে এসব মুরগী ‘স্টার পোল্ট্রি’ নামে দোকান থেকে চুরি করা বলেও নিশ্চিত হয়েছেন তারা। ছাত্রলীগ কর্মীরাই এতোদিন দোকান থেকে মুরগী চুরি করে আসছে। ব্যবসায়ীরা ছাত্রলীগ নেতাদের এ বিষয়ে বারবার বললেও তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও পারছে না। এই হলটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে চবি ছাত্রলীগের সাব্বি-ররিনসহ শীর্ষ ৫ নেতা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চবি ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিুর রহমান রবিন বলেন, ‘আমাদের হলের ডাইনিং থেকে এসব মুরগী পেলেই যে সেগুলো চুরি করা মুরগী হবে তা ঠিক নয়। আর দোকান মালিক সেকান্দর আমাকে বিচার দিলেই আমার অনুসারীরাই যে এসব করছে তা কীভাবে আপনি বলেন? আর সে (সেকান্দর) কি আমার কিংবা ছাত্রলীগের নাম বলেছে? সামনে নতুন কমিটিতে বেকায়দায় ফেলতে আমাদের বিপক্ষ গ্রুপের এসব ষড়যন্ত্র।’

প্রথমে উত্তেজিত হলেও পরে রবিন বলেন, ‘এরপরও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এসব অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকা সবার কর্তব্য। যেহেতু আমাদের হলের সামনে তার (সেকান্দর) দোকানটা, তাই তাকে সুরক্ষা দেয়াটাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

এ প্রসঙ্গে হলের দায়িত্বশীল ও চবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ‘শাহ জালাল হলটির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আমাদের এটা অস্বীকার করার কিছুই নেই। তবে মুরগী চুরির অভিযোগ উঠার বিষয়টি সঠিক নয়। এরপরও আমি হলে যারা বতর্মানে দায়িত্বশীল রয়েছে তাদের বলছি।’






মন্তব্য চালু নেই