মেইন ম্যেনু

চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া হিরো হাসেমের কান্ড!

চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বাঁচল ট্রেনের অসংখ্য যাত্রীর প্রাণ৷ মঙ্গলবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ক্যানিং লাইনে চম্পাহাটি-কালিকাপুরের মাঝের রেললাইনে ফাটল দেখতে পায় স্কুলছাত্র হাসেম আলী মণ্ডল৷

কালিকাপুর স্টেশনের পাশেই থাকে হাসেম৷ পথে ফাটলটি দেখা মাত্র, ঘর থেকে বড় বোনের লাল রঙের জামাটি এনে লাঠি দিয়ে লাইনের দুই দিকে টাঙিয়ে দেয় সে৷ তখন আপ লাইন ধরে আসছিল সোয়া ৮টার ক্যানিং লোকাল৷ হাসেমের চিৎকারে ও নিশানা দেখে থেমে যায় ট্রেন৷ চালক নেমে আসলে, তাকে ফাটলের কথা জানায় সে৷ ঘটনার জেরে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে ওই লাইনে৷ লাইন মেরামতির কাজে হাত লাগান রেলের ইঞ্জিনিয়াররা৷ পাশাপাশি হাসেমের উপস্থিত বুদ্ধির তারিফও করেন যাত্রীরা৷

হাসেম বলে, ‘এ দিন সকালে গোসল করতে যাচ্ছিলাম৷ লাইন ধরে হেঁটে যাওয়ার সময়, বড় ফাটলটি দেখতে পাই৷ সাথে সাথে ছুটে গিয়ে, ঘর থেকে বড় আপার লাল রঙের জামাটি নিয়ে লাইনের দুইপাশে লাঠি দিয়ে লাগিয়ে দিই৷ কিছুক্ষণের মধ্যে এসে পড়ে আপ ক্যানিং লোকাল৷ ট্রেনটি ক্যানিং থেকে শিয়ালদহের দিকে যাচ্ছিল৷ আমি লাইনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকি৷ ট্রেন থামিয়ে চালক নেমে এসে আমার কথা শোনেন৷ ট্রেন না থামানো গেলে, বড় বিপদ হওয়ার আশঙ্কা ছিল৷’

হাসেমের কৃতিত্বে খুশি তার পরিবার৷ বড় বোন সাহানারা খাতুন বলেন, ‘ভাই ছুটে না গেলে আজ বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত৷ আমরা বড় গরিব৷ ভাই মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতেই আমরা খুশি৷’ স্থানীয় বাসিন্দারাও আনন্দিত হাসেমের কাজে৷ আর তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওই ট্রেনের অসংখ্য যাত্রী, যাদের বাঁচিয়ে আজ হিরো হয়ে উঠেছে হাসেম৷






মন্তব্য চালু নেই