মেইন ম্যেনু

ঘুর্নিঝড় আইলার ৫ বছরেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি

আব্দুর রহমান ॥ আজ ২৫ মে আইলা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়নকারী ঘুর্নিঝড় আইলা আঘাত হানে। যার আঘাতে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় ৭৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু মারা যায়। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘুর্নিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট সর্বনাশা “আইলা” আঘাতে মুহুর্তের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও খুলনা জেলার কয়রা ও দাকোপ উপজেলার উপকুলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ১৪-১৫ ফুট উচ্চতায় সমুদ্রের পানি এসে নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ। শেষ হয়ে যায় হাজার হাজার গবাদী পশু আর ঘরবাড়ি। নিমিষেই গৃহহীন হয়ে পড়ে লক্ষাধিক মানুষ। চিংড়ি ঘের আর ফসলের ক্ষতি ছিল অবর্ননীয়। ধ্বংস হয়ে যায় উপকুল রক্ষা বেড়ি বাঁধ আর ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় অসংখ্য ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আইলা ৫ বছর অতিবাহিত হলেও এই এলাকার মানুষ একনও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নানা সমস্যায় জর্জরিত এখানকার মানুষ। আইলা দুর্গত এসব মানুষের দুর্বিসহ জীবন তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি মো: আব্দুর রহমান। ২০০৯ সালের ২৫ মে এই দিনে প্রলয়নকারী জলোচ্ছ্বাস আইলার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা। ১৫ ফুট উচ্চতা বেগের জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে সুন্দরবন উপকুলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায়। এসময় গাবুরা, পদ্দপুকুর, মুন্সিগঞ্জসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ৭৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়। পাচ বছর পেরিয়ে গেলেও খাবার পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। এ অঞ্চলে ১৪ টি গ্রামের মধ্যে মাত্র তিনটি গ্রামের টিউবওয়েল সফল হলেও ১১টি গ্রামের কোনো টিউবওয়েল সফল হয়নি। উচ্চ বিত্ত থেকে শুরু করে নিম্মবিত্ত সবাই চালাচ্ছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। বেকারত্বের কারনে কাজের সন্ধানে মানুষ নিজ বাসভুমি ছেড়ে চলে যাচ্ছে অন্যত্রে। সুন্দরবন, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর ওপর নির্ভরশীল ওই এলাকার মানুষের জীবন যাপন এখন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জি.এম মাসুদুল আলম বলেন, “আইলার পরপরই কিছু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ হলেও এখন আর কোনো কাজ হচ্ছে না। ক্রমে বাড়ছে দরিদ্র ও অতি দরিদ্রের সংখ্যা। আইলার পর পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলো পুরোপুরি সংস্কার না হওয়ায় এখনও ঝূঁকিতে রয়েছে এ জনপদের লাখো মানুষ।”
গাবুরা ইউনিয়নের ঘের মালিক মাষ্টার আব্দুল মান্নান বলেন, “ আইলার আঘাতের পর থেকে এই গ্রামের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও পাঠদানের উপযোগি হয়নি। ফলে লেখাপড়ায় বিঘœ ঘটছে ছাত্র-ছাত্রীদের। শুধু তাই নয়! আাইলায় এই ইউনিয়নের ১৫ টি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে যায় কিন্তু স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে এলাকার মানুষের সাবলম্বি করে তুলতে পাচ্ছে না।”
এই গ্রামের মোছাঃ রহিমা খাতুন, ফাতেমা খাতুন, আম্বিয়া বেগমসহ অসংখ্যা গৃহীনিরা বলেন, “ আইলার ৫ বছর পার হলেও খাবার পানির সংকট কাটেনি আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, কোইখালি ও বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের মানুষের। প্রলঙ্করী আইলা’র আঘাতে এলাকার সকল সুপেয় পানির উৎস ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বে-সরকারি সংস্থার উদ্যোগে মিষ্টি পানির পুকুর খনন করা হলেও নানা প্রকার অযতœ ও সংরক্ষণের অভাবে কে টিও আজ এলাকার বাসীর দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। এ এলাকার ভাবার পানির উৎস গুলো সংরক্ষণের দাবি এলাকাবাসীর। পাঁচ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ মে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘুর্নিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট সর্বনাশা “আইলা” আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলীয় জনপদে। মুহুর্তের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, কোইখালি ও বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নসহ উপকুলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ধ্বংশ হয়ে যায় খাবার পানির উৎস। আইলার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও খাবার পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। এ অঞ্চলে ১৪ টি গ্রামের মধ্যে মাত্র তিনটি গ্রামের টিউবওয়েল সফল হলেও ১১টি গ্রামের কোনো টিউবওয়েল সফল হয়নি। বে-সরকারি উদ্বোগে কিছু কিছু এলাকায় খাবার পানির জন্য পুকুর খনন করা হয়েও তা নানা অব্যস্থাপনা অবহেলার কারনে খবারের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।”
জেলা প্রশাসন নাজমুল আহসান বলেন, “সরকার ও বেসরকারী সংস্থা যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এলাকার মানুষের এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতি নয়, তারা দেখতে চায় সরকার অতিদ্রুত এসব সমস্যার সমাধান কল্পে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহন করবে।






মন্তব্য চালু নেই