মেইন ম্যেনু

গ্রামের খেটে খাওয়া নারীদের সঙ্গে প্রতারণায় লাইফ ইন্স্যুরেন্স

আব্দুর রহমান ॥ সাতক্ষীরায় ইন্স্যুরেন্স ব্যবসায়ীদের প্রতারণায় কর্মজীবি নারীরা। সদর উপজেলা’র গোবরদাড়ি গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিন গাজীর স্ত্রী সবেদা বিবি (৫০) পরের বাড়িতে জন-মজুর দিয়ে সংসার চালায়। একটি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ‘ডিপিএস’ প্রকল্পে টাকা সঞ্চয় করলে দশ বছরে দ্বিগুণ টাকা দেয়া হবে এ প্রলোভন দেখিয়ে ২০০৩ সালে ৩১ মে তিনি একটি সঞ্চয় প্রকল্প খোলেন। বছরে প্রায় ২১ শত টাকা করে তিনি গত দশ বছর ধরে জমা দিয়েছেন। তাকে যে জমার পাশ বই দেয়া হয়েছিল সেই বইতে অর্ধেক জমার হিসাব উঠেছে। বাকি জমা টাকার হিসাব নেই। দশ বছর পূর্তির পর সাতক্ষীরা অফিসে এসে দেখেন অফিস নাই, কর্মকর্তারাও লাপাত্তা। তাদের মোবাইল বন্ধ। এ প্রারণার ফাঁদে পড়ে দশ বছর ধরে সংসার খরচ বাঁচিয়ে সবেদা বিবির মতো আরও শতাধিক নারী পুরুষ তাদের সঞ্চয় হারিয়ে এখন সংবাদ কর্মীদের কাছে ঘুরছেন। সদর উপজেলার মজনু সরদারের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা (৩৫), আব্দুল গফুর সরদারের স্ত্রী শাহানারা বেগম (৩০), জিয়াউর রহমানের স্ত্রী জামিলা খাতুন (২৩), এমরান হোসেনসহ আরও অনেক নারী পুরুষ মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে তাদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সাতক্ষীরা শহরে সন্ধানী ডিপিএস প্রকল্পের (নিবন্ধন নংÑসি ১৯২৬৯ (৩১) ৯০ (ব্যবসা শুরুর সনদ ১২২০) ৭টি শাখা অফিস রয়েছে। এর জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক ম্যানেজার, ক্যাশিয়ার ও আদায়কারী। সোমবার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ম্যানেজার রবিউল ইসলামের মোবাইল (০১৭১১-০৪৭২৬১) নম্বরে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল বন্ধ। ক্যাশিয়ার আমিনুর রহমানের দুটি মোবাইল (০১৮২০-৬২৬১০০) নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়। অপর এক ক্যাশিয়ার বাবু পরিবর্তন ডট কমকে বলেন, তিনি অভিযোগকারীদের শাখার নন। তিনি এবি ব্যাংক এলাকার ক্যাশিয়ার। প্রতারণার অভিযোগ ওঠা শাখাটি ছিল শহরের নারকেলতলা মোড়ে। শুধু টাকা নিয়ে প্রতারণা নয়, কাগজে কলমেও এসব সাধারণ মানুষদের প্রতারণা করেছে এ সংগঠনটি। সঞ্চয়কারী রাজিয়া সুলতানা ২০০২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে প্রতিমাসে ১শ’ টাকা করে জমা দিলেও তার পাসবইতে জমা হয়েছে ৭৪ কিস্তি। বাকি ৪৩ কিস্তির টাকার কোন হিসাব নেই। শাহনারা ২০০১ সালের নবেম্বরে এ সঞ্চয় শুরু করলেও তার পাস বইতে ২০০৫ সালের মে পর্যন্ত ৩২ কিস্তির টাকা জমা দেখানো হয়েছে। বাকি টাকা জমা হয়নি। অথচ গ্রামের এ নিরক্ষর মানুষদের জমার পাশবইগুলো এক প্রকার জোর করেই রেখে দিতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে এ শাখার আদায়কারী মাস্টার লুৎফর রহমান পরিবর্তনকে বলেন, অনিয়মের কারণে তিনি এ কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। গ্রাহকরা মামলা না করলে এ টাকা আদায় হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।






মন্তব্য চালু নেই